কলকাতায় হয়ে গেল রাজ্যের ফুসফুস রোগ বিশেষজ্ঞদের ২৯তম বার্ষিক সম্মেলন ‘এসিপি–কন ২০২৬’। শনি ও রবিবার— দু’দিনের এই সম্মেলনে গোটা বাংলা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ৩৫০ জন ফুসফুস রোগ বিশেষজ্ঞ, ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিশেষজ্ঞ ও বিজ্ঞানী অংশ নেন।
ধূমপান না করলেও বায়ু দূষণ, পরোক্ষ ধূমপান (secondhand smoke), কর্মক্ষেত্রে ক্ষতিকর ধূলিকণা (অ্যাসবেস্টস, রেডন), বংশগত কারণ এবং রান্নার ধোঁয়ার কারণে ফুসফুসের গুরুতর রোগ হতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ফুসফুসের ক্যান্সার, সিওপিডি (COPD), পালমোনারি ফাইব্রোসিস, হাঁপানি এবং যক্ষ্মা। শ্বাসকষ্ট, দীর্ঘস্থায়ী কাশি ও বুকে ব্যথা এর প্রধান লক্ষণ।
ধূমপান না করেও ফুসফুসের জটিল রোগের কারণসমূহ:
* বায়ু দূষণ: বাতাসের বিষাক্ত কণা (PM2.5) ফুসফুসে প্রবেশ করে দীর্ঘমেয়াদী প্রদাহ সৃষ্টি করে।
* পরোক্ষ ধূমপান (Secondhand Smoke): ধূমপায়ীদের আশেপাশে থাকলে তাদের ধোঁয়া অধূমপায়ীদের ফুসফুসের ক্যান্সার ও COPD-র ঝুঁকি বাড়ায়
* রান্নার ধোঁয়া ও জ্বালানি: গ্রামীণ এলাকায় কাঠ বা গোবরের চুলার ধোঁয়া এবং শহুরে এলাকায় খারাপ ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা ফুসফুসের ক্ষতি করে
* পেশাগত ঝুঁকি: কলকারখানার অ্যাসবেস্টস, রেডন গ্যাস, সিলিকা ডাস্ট, ইউরেনিয়াম বা কেমিক্যালের সংস্পর্শ
* বংশগত কারণ ও সংক্রমণ: জেনেটিক কারণ, ইমিউন সিস্টেমের দুর্বলতা, এবং কোভিড-১৯ বা যক্ষ্মার মতো সংক্রমণের কারণেও ফুসফুসের টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে ।
ফুসফুসের সাধারণ ও মারাত্মক রোগসমূহ:
* ফুসফুসের ক্যান্সার (Lung Cancer): অধূমপায়ীদের মধ্যে, বিশেষ করে নারীদের মধ্যে ফুসফুসের ক্যান্সার (অ্যাডেনোকার্সিনোমা) বৃদ্ধি পাচ্ছে।
* সিওপিডি (COPD): ফুসফুসের বাতাস চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া, যা দীর্ঘস্থায়ী কাশির কারণ।
* পালমোনারি ফাইব্রোসিস (Pulmonary Fibrosis): ফুসফুসের টিস্যু শক্ত হয়ে যাওয়া বা দাগ পড়ে যাওয়া, যা শ্বাসকষ্টের সৃষ্টি করে।
* নিউমোনিয়া ও সংক্রমণ: ফুসফুসে ব্যাকটেরিয়াল বা ভাইরাল ইনফেকশন।
সতর্কতা ও করণীয়:
* ২ সপ্তাহের বেশি কাশি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন ।
* ধোঁয়া ও ধুলোবালি থেকে বাঁচতে মাস্ক ব্যবহার করুন।
* ঘরবাড়ি ও কর্মক্ষেত্রে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের (Ventilation) ব্যবস্থা রাখুন।
* প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিলে পালমোনোলজিস্টের (ফুসফুস বিশেষজ্ঞ) পরামর্শ নিন।


