চিনা খাবারের সয়া সস গোলমরিচ হোক বা খাঁটি বাঙালি জিরে-আদাবাটা দেওয়া তরকারি ক্যাপসিকাম নিজেকে ঠিক মানিয়ে গুছিয়ে নেয়। আর তাতে ক্ষতি নেই কিছু। বরং ক্যাপসিকাম খাওয়া উপকারি।
রান্নায় ক্যাপসিকাম খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী।কারণ এতে প্রচুর ভিটামিন (C, A), অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট (লাইকোপিন, বিটা-ক্যারোটিন) ও খনিজ পদার্থ (আয়রন) থাকে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, হৃদরোগ ও রক্তাল্পতার ঝুঁকি কমায়, ত্বক ও হাড় মজবুত করে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তবে অতিরিক্ত খেলে বা সংবেদনশীল ব্যক্তির ক্ষেত্রে পেটে অস্বস্তি বা অন্যান্য ওষুধের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করতে পারে,যদিও এটি সাধারণত নিরাপদ।
*উপকারিতা*:
• রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি: প্রচুর ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং কোলাজেন উৎপাদনে সাহায্য করে।
• হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস: এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও পটাশিয়াম কোলেস্টেরল ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।
• অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট: লাইকোপিন ও বিটা-ক্যারোটিনের মতো উপাদান ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে।
• ওজন নিয়ন্ত্রণ: কম ক্যালোরি ও উচ্চ ফাইবারযুক্ত হওয়ায় এটি ওজন কমাতে সহায়ক।
• আয়রন: রক্তাল্পতা (অ্যানিমিয়া) প্রতিরোধে সাহায্য করে।
• ত্বকের স্বাস্থ্য: ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বককে উজ্জ্বল ও টানটান রাখতে সাহায্য করে।
• ব্যথানাশক: ক্যাপসাইসিন (Capsaicin) ব্যথা কমাতে সাহায্য করতে পারে, যা মাইগ্রেন ও পেশীর ব্যথার উপশমে ব্যবহৃত হয়।
• হজম ও বিপাক: হজমশক্তি উন্নত করে এবং বিপাক ক্রিয়া বাড়াতে সাহায্য করে।
*অপকারিতা ও সতর্কতা*:
• পেটের সমস্যা: কিছু মানুষের ক্ষেত্রে, বিশেষত বেশি পরিমাণে খেলে পেটে জ্বালাপোড়া বা গ্যাস হতে পারে, কারণ এতে ক্যাপসাইসিন থাকে।
• ওষুধের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া: রক্ত জমাট বাঁধার ওষুধ (যেমন অ্যাসপিরিন), ডায়াবেটিসের ওষুধ, এবং কিছু অ্যান্টিবায়োটিকের (যেমন সিপ্রোফ্লক্সাসিন) সঙ্গে এর মিথস্ক্রিয়া হতে পারে, যা ওষুধের কার্যকারিতা বাড়াতে বা কমাতে পারে।
• চোখ ও ত্বকে জ্বালা: ক্যাপসিকাম ওলিওরেসিন (Oleoresin) চোখ বা ত্বকে লাগলে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে।
• শ্বসনতন্ত্রে প্রভাব: ফুসফুসে জ্বালাপোড়া বা কাশি সৃষ্টি করতে পারে।
ক্যাপসিকাম একটি পুষ্টিগুণে ভরপুর সবজি যা আমাদের খাদ্যতালিকায় যোগ করা উচিত। তবে, কারো যদি পেটের সমস্যা থাকে বা নিয়মিত কোনো ওষুধ সেবন করেন, তবে পরিমিত পরিমাণে খাওয়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।


