অম্লতা, পেট ফাঁপা এবং অন্ত্রের পরিবর্তনের মতো অন্ত্রের প্রাথমিক লক্ষণগুলি প্রায়শই উপেক্ষা করা হয়, যার ফলে ক্যানসার শনাক্তকরণের শেষ পর্যায়ে পৌঁছয়!
অনেকেই পাইলস ভেবে অবহেলা করলেও কিছু লক্ষণ অন্ত্রের ক্যান্সারের (Colorectal Cancer) ইঙ্গিত দিতে পারে, যেমন - মলত্যাগের অভ্যাসে দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন (ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য), মলের সাথে রক্তপাত (উজ্জ্বল লাল বা কালচে), পেটে গ্যাস, ব্যথা বা ফোলা ভাব, মলত্যাগের পরও অন্ত্র সম্পূর্ণ খালি না হওয়ার অনুভূতি, অস্বাভাবিক ক্লান্তি ও দুর্বলতা এবং কোনো কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া; এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি! কারণ পাইলসের সাথে ক্যান্সারের কিছু লক্ষণ মিলে যায়, কিন্তু ক্যান্সারে সাধারণত এই উপসর্গগুলো দীর্ঘস্থায়ী ও প্রকট হয়।
অন্ত্রের ক্যান্সারের ৭টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ যা অবহেলা করা উচিত নয়:
১. মলত্যাগের অভ্যাসের পরিবর্তন (Change in Bowel Habits): যদি কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া দীর্ঘ সময় (৪ সপ্তাহের বেশি) ধরে চলতে থাকে, অথবা মলের আকার ও ঘনত্বে পরিবর্তন আসে, তাহলে এটি ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে। ২. মলে রক্তপাত (Blood in Stool): মলের সাথে উজ্জ্বল লাল রক্ত (পাইলসের কারণে হতে পারে) অথবা কালচে রক্ত (যা অন্ত্রের উপরের অংশে রক্তপাতের ইঙ্গিত) দেখা দেওয়া ক্যান্সারের একটি বড় লক্ষণ। ৩. পেটে অস্বস্তি (Abdominal Discomfort): পেটে ব্যথা, গ্যাস, খিঁচুনি বা ফোলা ভাব যা দীর্ঘদিন ধরে থাকে, তা অন্ত্রের ক্যান্সারের কারণ হতে পারে। ৪. অন্ত্র সম্পূর্ণ খালি না হওয়ার অনুভূতি (Incomplete Evacuation): মলত্যাগের পরেও মনে হওয়া যে অন্ত্র পুরোপুরি পরিষ্কার হয়নি, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। ৫. অস্বাভাবিক ক্লান্তি ও দুর্বলতা (Fatigue and Weakness): কোনো কারণ ছাড়াই অতিরিক্ত দুর্বল লাগা বা সবসময় ক্লান্ত অনুভব করা, বিশেষ করে যদি মলের সাথে রক্তক্ষরণের কারণে রক্তাল্পতা (Iron Deficiency Anemia) দেখা দেয়। ৬. অপ্রত্যাশিত ওজন হ্রাস (Unexplained Weight Loss): খাদ্যাভ্যাস বা শারীরিক পরিশ্রমের কোনো পরিবর্তন না করেই ওজন কমে যাওয়া ক্যান্সারের একটি প্রধান লক্ষণ। ৭. মলদ্বারে পরিবর্তন ও ব্যথা (Rectal Pain/Changes): মলদ্বারে বা মলত্যাগের সময় ব্যথা, চুলকানি বা অন্য কোনো অস্বস্তি, যা পাইলসের সাধারণ লক্ষণের চেয়ে ভিন্ন এবং দীর্ঘস্থায়ী।
পাইলস ও ক্যান্সারের পার্থক্য: পাইলস এবং অন্ত্রের ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণগুলো, যেমন রক্তপাত, প্রায় একই রকম হতে পারে। তবে, পাইলসে রক্তপাত সাধারণত चमकदार লাল হয় এবং ব্যথা বা চুলকানি থাকে, কিন্তু ক্যান্সারের ক্ষেত্রে রক্তপাত কালচে হতে পারে, এবং সাথে পেটের ব্যথা, ওজন হ্রাস বা মলত্যাগের অভ্যাসে দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন থাকে, যা পাইলসে থাকে না।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন? উপরে উল্লিখিত লক্ষণগুলোর যেকোনো একটি যদি দীর্ঘ সময় ধরে (কয়েক সপ্তাহ) থাকে, তবে বিলম্ব না করে গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট বা অনকোলজিস্টের সাথে যোগাযোগ করা অত্যন্ত জরুরি। প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার ধরা পড়লে চিকিৎসা অনেক সহজ হয়।
