এ দেশে ভাপানো খাবারের এক দীর্ঘ ঐতিহ্য আছে। এই খাবারগুলি তেল ছাড়াই রান্না করা যায়, হজমেও সহজ আর শরীরে ধীরে ধীরে শক্তির জোগান দেয় দিনভর।
ডায়েটে ভাপা খাবার খুবই উপকারী কারণ এতে তেল লাগে না। পুষ্টিগুণ বজায় থাকে ও হজমে সাহায্য করে, যা ওজন কমাতে সহায়ক। নিরামিষ ভাপার মধ্যে আছে ভাপা ডাল, সবজি, পনির, লাউ বা চালকুমড়ো ইত্যাদি যা চাল বাটা ও নারকেল দিয়ে বাটিতে রেখে ভাপিয়ে তৈরি করা যায়, এবং ভাপা পিঠা (চালের গুঁড়ো, গুড়, নারকেল দিয়ে) সকালের ব্রেকফাস্ট বা স্ন্যাকস হিসেবে দারুণ, যা সারাদিন শক্তি দেয়।
ভাপা খাবারের উপকারিতা:
* পুষ্টিগুণ সংরক্ষণ: ডুবো তেলে ভাজার চেয়ে ভাপে সেদ্ধ করলে পুষ্টিগুণ বেশি থাকে।
* সহজপাচ্য: তেল ছাড়া রান্না হওয়ায় হজম করা সহজ এবং গ্যাস-অম্বলের সমস্যা কমায়।
* ওজন নিয়ন্ত্রণ: তেল ব্যবহার না হওয়ায় ক্যালরি কম থাকে এবং পেট ভরা রাখে, যা ওজন কমাতে সাহায্য করে।
* শক্তি সরবরাহ: চালের গুঁড়ো বা গুড় থেকে শর্করা ও ফাইবার পাওয়া যায়, যা ধীরে ধীরে শক্তি যোগায়।
কিছু নিরামিষ ভাপা খাবারের তারিকা:
১. ভাপা ডাল: মসুর বা মুগ ডাল বেটে, সামান্য নুন ও কাঁচা লঙ্কা দিয়ে টিফিন বক্সে ভরে ভাপিয়ে নিন। এটি প্রোটিনের ভালো উৎস।
২. ভাপা সবজি: বিভিন্ন সবজি (যেমন লাউ, পেঁপে, ঝিঙে) ছোট টুকরো করে কেটে, অল্প জল ও মশলা দিয়ে ভাপানো যায়।
৩. ভাপা পনির: পনিরের টুকরো, টক দই, সর্ষে বাটা ও মশলা দিয়ে মেখে ভাপাতে পারেন। এটি প্রোটিনে ভরপুর।
৪. ভাপা চালকুমড়ো/লাউ: চালকুমড়ো বা লাউয়ের সাথে নারকেল কোরা, সামান্য গুড় বা নুন মিশিয়ে ভাপিয়ে নিন। এটি ফাইবার সমৃদ্ধ।
৫. ভাপা পিঠা: চালের গুঁড়ো, কোরানো নারকেল ও গুড় দিয়ে তৈরি এই পিঠাটি শীতকালে খুবই জনপ্রিয় এবং এটি স্বাস্থ্যকর একটি স্ন্যাকস।
ভাপা খাবার তৈরির সাধারণ পদ্ধতি:
* একটি টিফিন বক্স বা বাটিতে আপনার পছন্দের উপকরণ নিন। * সামান্য জল বা টক দই মেশান (যদি প্রয়োজন হয়)। * কয়েকটি কাঁচা লঙ্কা, সামান্য নুন ও হলুদ (ঐচ্ছিক) দিন। * প্রয়োজনমতো সর্ষে বাটা বা নারকেল কোরা যোগ করুন। * টিফিন বক্সটি ঢাকনা দিয়ে বন্ধ করে ফুটন্ত জলের পাত্রে বসিয়ে ১৫-২০ মিনিট ভাপিয়ে নিন।
