প্যাচপ্যাচে গরমে জেরবার হওয়ার দিন এসে গিয়ছে। রোদের তাপে জেরবার হয়ে ঘরে ফিরে চাই দু'দণ্ড শান্তি। জিরিয়ে নিতে এসির দারস্থ হন অনেকই। কিন্তু অনেকেরই এসি ব্যবহারের সামর্থ্য থাকে না। শুধু তাই নয়, পরিবেশবিদরা পইপই করে না করছেন এসি ব্যবহার করতে। বলছেন এটা অনেকটা জেনেশুনে বিষ পান করার মতো বুমেরাং। অথচ একটু বুদ্ধি খরচ করলেই এসির আড়ম্বর লাগে না। বিনা এসিতেই ঘর থাকবে শীতল, ছায়াময়। কী ভাবে? রইল নিদান-

১ শৌখিন পর্দা ফোল্ড করে রেখে গরমকালে বাঙালির অতি পরিচিত খসখস টাঙান জানলায়। এতে বাইরের তাপ সবচেয়ে ভাল আটকানো যায়। আগে অফিস-কাছারিতে খসখস জলে ভিজিয়ে দেওয়া হত। তা না করলেও চলবে। বাইরের তাপ খসখসে আটকে বাকি ব্যবস্থা অন্যভাবে করুন।

২) কাচের জানলা যাঁদের, তাঁরা খসখসের বদলে শৌখিন ‘ব্লাইন্ডস ইনস্টল’ করতে পারেন। এতেও পুরোপুরি আটকানো যায় বাইরের তাপ।

৩) সূর্যাস্তের পরে ঘরের জানলা-দরজা খুলে দিন। ঠান্ডা বাতাসে ঘরের গুমোট হাওয়া তাড়ান। অতি পরিচিত ঘর ঠান্ডা করার পদ্ধতি। কিন্তু নিয়ম করে করা হয়ে ওঠে না অনেক সময়।

৪) বাড়ির লাগোয়া জমি থাকলে পূর্ব ও পশ্চিম দিকে বড় গাছ লাগান। এতে সারাদিন বাড়িতে রোদ পড়ার হাত থেকে বাঁচবেন। ঘরও অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা থাকবে।

৫) বেশ কিছু ইন্ডোর প্লান্ট রয়েছে, যা বাড়ির মধ্যে রাখলে ঘর ঠান্ডা থাকে। যেমন অ্যালোভেরা, বস্টন ফার্ন, স্নেক প্লান্ট, উইপিং ফিগ, অ্যারিকা পাম ইত্যাদি। ঘরের বাতাসকেও শুদ্ধ করে এই গাছগুলি।

৬) বাড়ির মধ্যে কয়েকটি জায়গায় বড় মাটির মালসায় জল রাখুন ও তাতে কয়েকটি সুগন্ধি ফুল ফেলে দিন। দিনে দু’তিনবার জল পালটান। ঠান্ডা জলের বাষ্পে ঘর ঠান্ডা থাকবে। ভ্যাপসা গন্ধও হবে না।  

৭) তুলোর বালিশের পরিবর্তে বাজরার বালিশ ব্যবহার করুন গরমকালে। তুলোর বালিশ খুব তাড়াতাড়ি গরম হয়ে যায়।   

৮) সন্ধেবেলা ছাড়াও দুপুরের আগে আর একবার ঘরের সব দরজা-জানলা খুলে হাওয়া খেলতে দিন। মুখোমুখি জানলা খুলে দিলে সবচেয়ে ভাল। ঘরের গুমোট খুব ভাল দূর হয়।

৯) সাধারণ বাল্‌ব-টিউব পাল্টে ব্যবহার করুন এলইডি বাল্ব। কারণ ইনক্যান্ডেসেন্ট বাল্‌ব থেকে গরম হয়ে যায় ঘর।