তপন মল্লিক- অন্তত ৩৫ হাজার কর্মী ছাঁটাই করতে চলেছে হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন। আগামী ২০২২ সালের মধ্যে ব্যাংক পুনর্গঠনের জন্য ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের কারণে অর্থনৈতিক মন্দার ঘেরাটোপে পড়ছে বিভিন্ন দেশের সরকার ও বড় প্রতিষ্ঠানগুলি। চাকরি হারাচ্ছে লাখ লাখ মানুষ। অবস্থা বেগতিক দেখে বিশ্বব্যাপী একের পর এক প্রতিষ্ঠান গণহারে কর্মী ছাঁটাই করছে, তখন বহুজাতিক ব্যাংক এইচএসবিসিও সেই পথে হাঁটতে চলেছে। 
গত ফেব্রুয়ারি মাসে তারা কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু এপ্রিল মাসেই এইচএসবিসি জানায়, তারা কর্মী ছাঁটাইয়ের বিষয়টি স্থগিত রেখেছে। কারণ করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে যাওয়ার মধ্যে কর্মীরা নতুন করে কাজ খুঁজে পাবে না। আর সেই বিপর্যয়ে কর্মীদের ফেলতে চায় না প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু অবস্থার প্রেক্ষিতে তারা সেই সিদ্ধান্ত ফের গ্রহণ করল।   
এইচএসবিসির নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নোয়েল কুইন বলেছেন, বিশ্বজুড়ে ২ লাখ ৩৫ হাজার কর্মী রয়েছে এইচএসবিসির। মূলত ২০২২ সালের মধ্যে ৪. ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ কমানোর জন্য প্রতিষ্ঠানটি কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা নিয়েছ। এছাড়া যেসব খাতে লাভ কম হচ্ছিল সেগুলোও খতিয়ে দেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।
কয়েক বছর আগে এইচএসবিসি-তে ৩ লাখের বেশি কর্মী নিয়োগ করা হয়েছিল। কিন্তু বিশ্বব্যাপী ২০০৮ সালে অর্থনৈতিক সঙ্কট দেখা দেওয়ার পর বেশ কিছু ব্যবসা ছেড়ে দেয় তারা। কয়েকটি দেশ থেকেও তারা পাততাড়ি গুটিয়ে নেয়। তার মধ্যে রয়েছে ব্রাজিল।
এই অসময়ে কর্মী ছাঁটাইয়ের জন্য এইচএসবিসি সমালোচনার মুখোমুখি হচ্ছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, ট্রেড ইউনিয়ন ইউনিটগুলিও মুখ খুলেছে।
ব্যাংকটি রাজনৈতিকভাবেও কিছু চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এইচএসবিসির সমালোচনা করেছেন। হংকংয়ের ওপর চিনের নতুন নিরাপত্তা আইন চাপিয়ে দেওয়াকে সমর্থন করে রাজনৈতিক নিশানায় পড়েছে ব্যাংকটি।
ট্রেড ইউনিয়নের তরফে বলা হয়েছে, বর্তমানে এইসএসবিসির বহু কর্মী নানাভাবে ছাড় দিচ্ছে। তারা বাড়ি থেকে কাজ করছে, ঝুঁকি নিয়ে অফিস করছে, গ্রাহকদের সেবা দিচ্ছে। তাহলে এইসএসবিসি এখন কেন কর্মী ছাঁটাই করছে?