শীত বিদায় নিয়েছে। একটু বৃষ্টির পরই এবার তীব্র গরম বলে পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে। অনেকেই জানেন, বিশ্ব উষ্ণায়ণের ফলে গোটা বিশ্বের তাপমাত্রা বেড়ে চলেছে। বরফ গলছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের জল উঠে আসছে। সেই সঙ্গে অসহ্য় গরমে জ্বলেপুড়ে মরতে হচ্ছে।

গরমকে কাবু করারও কিন্তু কিছু উপায় আছে। যার অন্য়তম হল ফল। গরমকালের শুরু থেকে এমন কিছু ফল নিয়মিত খেতে থাকুন, যাতে করে শরীর ঠান্ডা থাকে। তবে শুধু শরীর ঠান্ডাই নয়। মরশুমী ফলের কিন্তু অনেক গুণ রয়েছে।

পাকা পেঁপে। বিটাক্য়ারোটিনয়েডস ও ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ এই ফল রোগামোটা নির্বিশেষে খেতে পারেন। অ্য়াসিডিটি, জন্ডিস, গাউট, আর্থারাইটিস, ডায়াবেটিস, কোষ্ঠাকাঠিন্য়, হার্টের রোগ, সবকিছুর জন্য় একেবারে আদর্শ হল এই পাকা পেঁপে। বিটাক্য়ারোটিনয়েডস  এবং ক্রিপটোজ্য়ানথিনের মতো অ্য়ান্টিঅক্সিডেন্ট কোষকে ফ্রি ব়্যাডিক্য়ালস থেকে বাঁচায়। বার্ধক্য় থেকেও দূরে রাখে।  বলে রাখা ভাল, শরীর ঠান্ডা রাখতেও জুড়ি নেই এই ফলটির।

লিচু। এতে থাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-সি। গরমে ক্লান্তি ও পিপাসা কাটাতে লিচুর সরবতের জুড়ি মেলা ভার। লিভারের অসুখ, স্ট্রেস ও স্ট্রেন কাটাতে লিচু খুব কার্যকরী।

যদিও বারোমাস পাওয়া যায় শশা, তবু গরমে এই ফলটি যেন মহার্ঘ্য় হয়ে ওঠে। এর বেশিরভাগটাই হল জল। সেইসঙ্গে এতে থাকে সোডিয়াম ও পটাশিয়াম। তাই তৃষ্ণা মেটানোর সঙ্গে সঙ্গে দেহের ইলেকট্রোলাইটস ব্য়ালান্সও ঠিক রাখে শশা।

গরমে পাওয়া যায় কাঁঠাল। বলতে দ্বিধা নেই, অন্য়ান্য় ফলের তুলনায় এর দামও যথেষ্ট কম। এই ফলটিও গরমের সময়ে জল ও ইলেকট্রোলাইডস ইমব্য়ালান্স ঠিক রাখে।

বারোমাস পাওয়া যায় আঙুর।  ভাল পরিমাণে ফাইবার থাকায় আঙুর বিভিন্ন অসুখবিসুখ প্রতিরোধ করে। কোষ্ঠকাঠিন্য় থেকে শুরু করে ব্রঙ্কাইটিস, অ্য়াজমা, হাই ব্লাড প্রেসারসহ বিভিন্ন রোগে ভাল কাজ করে এই রসালো ফলটি।

গরমকাল মানেই জামরুল। এতে জলের পরিমাণই বেশি থাকে। কমমাত্রায় থাকে সোডিয়াম ও বেশি মাত্রায় থাকে পটাশিয়াম। কাজেই হাই ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখে জামরুল। ভাল রাখে হার্ট।  আর প্রচণ্ড গরমে গলদঘর্ম অবস্থায় ডিহাইড্রেশন কমাতে যে এর কোনও জুড়ি নেই, তা বলাই বাহুল্য়।

তরমুজেও জলের ভাগ বেশি। লাইকোপিন নামের ক্য়ারোটিনয়েডসজাতীয়  অ্য়ান্টি অক্সিডেন্ট থাকায়, বিভিন্ন অসুখের মোকাবিলা করতে পারে তরমুজ। এর রস গরমের ক্লান্তি দূর নিমেষে করে দেয়।

জাম গরমের একটি লোভনীয় ফল। একটু নুন আর চিনি মিশিয়ে মজিয়ে রাখলে, জাম খেতে দারুণ। হিটস্ট্রোক, বদহজম, রোদেপোড়া ত্বক বা সানবার্ন এড়াতে জামে থাকা লিউটিন নামক অ্য়ান্টি অক্সিডেন্ট, সেল ড্য়ামেজ থেকে রক্ষা করে।

ফলের রাজা হল আম। আর গরমকাল মানেই হল আম। এই আম কিন্তু  অনেকভাবেই খাওয়া যায়। কাঁচা আমের আচার থেকে শুরু করে জ্য়াম-জেলি জুস, আমসত্ব, মোরব্বা, স্কোয়াশ তো আছেই। এছাড়া পাকা আম কেটে খাওয়া যায় যখনতখন। গরমকালে শরীর-মন ঠান্ডা রাখতেও কাজে দেয় আম।

তবে হ্য়াঁ, সব ফল কিন্তু সবার জন্য় নয়। কিছু কিছু অসুখে অনেকের কিছু কিছু ফল নিষিদ্ধ থাকে। তাই গরমে ফল খান পরিমিতভাবে। আর চেষ্টা করুন, তিনচাররকম ফল একসঙ্গে মিশিয়ে খেতে।