দোল উপলক্ষে কাছে পিঠে সব জায়গাতেই জনগণের সমাগম আছে। কিন্তু আপনি যদি নিরিবিলিত সময় কাটাতে চান তাহলে যেতে পারেন পাশের রাজ্য ওডিশা। এখানে আসলে আপনি প্রাণ ভরে প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করতে পারবেন।
ওড়িশার কোরাপুট জেলার মাছকুন্দ নদীর ওপর অবস্থিত ডুডুমা জলপ্রপাত (Duduma Waterfall) প্রকৃতির এক অপরূপ নিদর্শন, যা ১৭৫ মিটার উচ্চতা থেকে নিচে নেমে আসে। ঘন জঙ্গল, পাহাড় এবং আদিবাসী সংস্কৃতিতে ঘেরা এই স্থানটি পরিবারের সাথে অ্যাডভেঞ্চার এবং পিকনিকের জন্য একটি আদর্শ জায়গা। বর্ষার শেষে (জুলাই-অক্টোবর) এখানে যাওয়া সবচেয়ে ভালো।
ডুডুমা ভ্রমণের বিস্তারিত তথ্যাদি নিচে দেওয়া হলো:
১. কেন যাবেন ডুডুমা?
* দুর্দান্ত জলপ্রপাত: জলপ্রপাতের গর্জনে মুখরিত পরিবেশ এবং চারিদিকের সবুজে ঘেরা পাহাড় মন ভালো করে দেয় ।
* আদিবাসী সংস্কৃতি: এখানে বিখ্যাত বোন্ডা, গদাবা এবং পারাজা আদিবাসীদের জীবনযাত্রা দেখার সুযোগ রয়েছে।
* পিকনিক ও অ্যাডভেঞ্চার: পরিবারের সাথে শান্ত পরিবেশে পিকনিক করা এবং আশেপাশের পাহাড়ে ট্রেকিং করার সুযোগ রয়েছে।
* মাছকুন্দ হাইড্রো ইলেকট্রিক প্রজেক্ট: জলপ্রপাতের কাছাকাছি এই বিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকাটি বেশ মনোরম।
২. কীভাবে যাবেন?
* ট্রেন/বিমান: নিকটতম বড় শহর জয়পুর (Jeypore) বা কোরাপুট। বিশাখাপত্তনম বা ভুবনেশ্বর থেকে এখানে পৌঁছানো যায়।
* রাস্তা: কোরাপুট থেকে প্রায় ৯২ কিমি এবং জয়পুর থেকে প্রায় ৭০-৮০ কিমি দূরে অবস্থিত। পাডুয়া (Padua) হয়ে লামতাপুট (Lamtaput) দিয়ে সহজেই ডুডুমা পৌঁছানো যায়।
* স্থানীয় পরিবহন: লামতাপুট থেকে স্থানীয় শেয়ারিং জিপ বা অটো পাওয়া যায়।
৩. সেরা সময় এবং সময়কাল :
* সেরা সময়: জুলাই থেকে অক্টোবর মাস, যখন জলপ্রপাতটি তার পূর্ণরূপে থাকে ।
* পরিকল্পনা: এটি ১-২ দিনের ট্যুর হিসেবে খুব ভালো। যদি হাতে সময় থাকে, তবে অনকাদিল (Onkadil) বা লামতাপুট এলাকায় রাত্রিবাস করা যেতে পারে ।
৪. দেখার মতো অন্যান্য স্থান :
* কোলাব ড্যাম (Kolab Dam): খুব সুন্দর একটি জলাধার।
* দেওমালি পাহাড়: ওড়িশার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ।
* জয়পুর ও কোরাপুট: স্থানীয় সংস্কৃতি ও মন্দির দেখার জায়গা।
৫. প্রয়োজনীয় টিপস (পারিবারিক ভ্রমণের জন্য)
* থাকা ও খাওয়া: ডুডুমার আশেপাশে সীমিত হোটেল আছে, তাই আগে থেকে বুকিং বা জয়পুর/কোরাপুটে থাকা ভালো।
* খাবারের ব্যবস্থা: সাথে শুকনো খাবার এবং জল রাখুন, কারণ জলপ্রপাতের কাছে বেশি দোকান নেই।
* সতর্কতা: জঙ্গল এলাকা হওয়ায় সন্ধ্যা ৫টার পর যাতায়াত কম হয়, তাই দিনের আলোয় ঘুরে ফিরে আসা উচিত।
ডুডুমা প্রকৃতির সান্নিধ্যে এক দারুণ অভিজ্ঞতা দেবে, যা পরিবারের সাথে নিরিবিলিতে কাটানোর জন্য একটি চমৎকার জায়গা।


