পেটের অতিরিক্ত মেদের অন্যতম কারণ হতে পারে স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল। মানসিক চাপ বাড়লে এই হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়, যা পেটে চর্বি জমায়। মেডিটেশন, নিয়মিত শরীরচর্চা, সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম এবং পছন্দের কাজে মন দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করুন পেটের মেদ।

পেটের মেদ কমানো বেশ কঠিন একটা কাজ। এই মেদ শুধু দেখতেই খারাপ লাগে না, এটি শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও খারাপ প্রভাব ফেলে। পেটে অতিরিক্ত চর্বি জমলে ডায়াবেটিস, লিভারের সমস্যা এবং হৃদরোগের মতো গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়ে। এর অন্যতম কারণ হতে পারে কর্টিসল, যা আমাদের শরীরের প্রধান স্ট্রেস হরমোন। এটি অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি থেকে তৈরি হয়।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

ফিটনেস বিশেষজ্ঞ বনিতা অশোক বলছেন, যখন মানসিক চাপ খুব বেড়ে যায়, তখন শরীরে কর্টিসলের মাত্রাও বাড়তে শুরু করে। 'বায়োকেমিক্যাল ফার্মাকোলজি' নামে একটি জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, যাদের শরীরে কর্টিসলের মাত্রা বেশি, তাদের পেটে ভিসেরাল ফ্যাট (এক ধরনের অভ্যন্তরীণ চর্বি) জমার প্রবণতাও বেশি থাকে।

আসলে, মানসিক চাপ কর্টিসলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা আমাদের আচরণেও প্রভাব ফেলে। এর ফলে আমরা অস্বাস্থ্যকর খাবারের দিকে ঝুঁকে পড়ি। চলুন জেনে নেওয়া যাক, পেটের মেদ ঝরানোর জন্য কর্টিসল কীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখবেন।

১. মেডিটেশন বা ধ্যান

'ফ্রন্টিয়ার্স ইন ফিজিওলজি' জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণা বলছে, মেডিটেশন বা ধ্যান করলে কর্টিসলের মাত্রা কমে এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে আসে। নিয়মিত মেডিটেশন অভ্যাস করলে শুধু স্ট্রেস কমবে না, ওজন কমাতেও সাহায্য মিলবে।

২. নিয়মিত শরীরচর্চা

মানসিক চাপ কমানোর একটি দারুণ প্রাকৃতিক উপায় হলো নিয়মিত শরীরচর্চা। দৌড়ানো, সাইকেল চালানো বা সাঁতার কাটার মতো অ্যারোবিক ব্যায়াম কর্টিসলের মাত্রা কমাতে খুব কার্যকর। গবেষকদের মতে, প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট মাঝারি ধরনের ব্যায়াম করলেই কর্টিসলের মাত্রা কমতে শুরু করে।

৩. সুষম খাবার

মানসিক চাপ বাড়লে অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার ইচ্ছে জাগে। কিন্তু আপনি কী খাচ্ছেন, সেটাও কর্টিসলের মাত্রার ওপর প্রভাব ফেলে। স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ করতে ফল, শাকসবজি, প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট-যুক্ত সুষম খাবার খান। এই খাবারগুলো শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগায় এবং হরমোনের মাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করে। স্যামন মাছ বা আখরোটের মতো খাবারে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড কর্টিসল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এমনকি ডার্ক চকোলেটেও এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা কর্টিসলের মাত্রা কমাতে পারে। ডায়েটে এই খাবারগুলো যোগ করলে স্ট্রেসের কারণে ওজন বাড়ার সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন।

৪. পর্যাপ্ত ঘুম

ঘুমের অভাব মেজাজ খিটখিটে করে দেয়, কর্টিসলের মাত্রা বাড়ায় এবং ওজন বৃদ্ধির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বলা হয়, যারা দিনে সাত ঘণ্টার কম ঘুমান, হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে তাদের মধ্যে স্থূলতার ঝুঁকি বেশি থাকে।

৫. পছন্দের কাজ বা হবি

আপনার পছন্দের কাজ বা হবি মানসিক চাপ কমাতে দারুণভাবে সাহায্য করতে পারে। ছবি আঁকা, বাগান করা, নাচ বা গান শোনার মতো কাজে মন দিলে স্ট্রেস কমে এবং মন ভালো থাকে।