গাছের কলম বা গ্রাফটিং কী এবং কীভাবে করবেন? জানুন এর সুবিধা, সঠিক সময় এবং স্টেপ-বাই-স্টেপ পদ্ধতি, যা আপনার বাগানকে অল্প সময়েই ফুলে-ফলে ভরিয়ে তুলতে পারে।

প্ল্যান্ট গ্রাফটিং কী (What is Plant Grafting): সময়ের সাথে সাথে চাষ করার পদ্ধতিতেও অনেক বদল এসেছে। আগে যে কাজ হাতে করা হতো, এখন তা মেশিনের সাহায্যে হয়। তেমনই গাছপালা নিয়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যে গ্রাফটিং (Grafting) বা গাছের কলম করার জনপ্রিয়তাও খুব বাড়ছে। এটি এমন একটি কৌশল যেখানে দুটি আলাদা গাছের অংশ জুড়ে একটি নতুন গাছ তৈরি করা হয়।

এর নিচের অংশটিকে বলা হয় রুটস্টক (Rootstock), যাতে শিকড় থাকে। আর উপরের অংশটিকে বলে সায়ন (Scion), যা আসলে ভালো ফল বা ফুল দেওয়া গাছের ডাল বা মুকুল। যখন এই দুটি অংশকে সঠিকভাবে জোড়া লাগানো হয়, তখন গাছটি দ্রুত বেড়ে ওঠে এবং প্রচুর ফলন দেয়।

গাছের জন্য গ্রাফটিং কেন জরুরি? (Why Grafting is Important for Plants)

  • বীজ থেকে লাগানো গাছের তুলনায় অনেক তাড়াতাড়ি ফল দেয়।
  • শক্তিশালী শিকড়ের সাথে ভালো জাতের ফল বা ফুল পাওয়া যায়।
  • একই গাছ বিভিন্ন ধরনের মাটিতে চাষ করা সম্ভব হয়।
  • কোনও গাছের ডাল ভেঙে গেলে, তা মেরামত করতেও গ্রাফটিং খুব কাজের।

গ্রাফটিং কখন করা উচিত?

আপনি যদি গ্রাফটিং করতে চান, তবে বসন্তকাল এর জন্য সবচেয়ে ভালো সময়। খুব বেশি গরম, কনকনে ঠান্ডা বা একটানা বৃষ্টির মধ্যে এই কাজ করলে সব পরিশ্রমই জলে যেতে পারে।

গ্রাফটিং কীভাবে করবেন? (How to do Grafting)

গাছের গ্রাফটিং করার কথা ভাবলে এই ৮টি বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখা উচিত:

  • গ্রাফটিংয়ের জন্য সবসময় সুস্থ ও সতেজ গাছের রুটস্টক এবং সায়ন বেছে নিন। দুর্বল শিকড়যুক্ত গাছ নিলে ভালো ফল পাওয়ার আশা প্রায় থাকে না।
  • যে দুটি গাছের অংশ জুড়ছেন, তাদের ডালের মোটা অংশ যেন প্রায় সমান হয়।
  • গ্রাফটিং করার জন্য হালকা ঠান্ডা আবহাওয়া সবচেয়ে ভালো।
  • ডাল কাটার জন্য একটি পরিষ্কার ও ধারালো ব্লেড ব্যবহার করুন।
  • কাটার জায়গাটি যেন একদম সোজা ও মসৃণ হয়, যাতে দুটি অংশ ভালোভাবে জুড়ে যায়।
  • কেটে ফেলার পর গ্রাফটিং টেপ বা পলিথিনের স্ট্রিপ দিয়ে জায়গাটা শক্ত করে বেঁধে দিন, যাতে ভেতরে হাওয়া ঢুকতে না পারে।
  • গ্রাফটিং করা গাছটিকে ছায়ায় রাখুন এবং মাটি হালকা ভিজিয়ে রাখুন।
  • যদি ১০-১৫ দিনের মধ্যে নতুন কচি পাতা বেরোতে শুরু করে, তাহলে বুঝবেন আপনার চেষ্টা সফল হয়েছে।