সকালে ঘুম থেকে উঠেই যদি নিজের ছায়া চোখে পড়ে, অনেকেই এটাকে অস্বস্তিকর মনে করেন। এতে মন খারাপ বা দুশ্চিন্তা শুরু হতে পারে। ঘুম থেকে উঠে জানালার দিকে তাকান বা আলো-হাওয়া নিন। কয়েক মুহূর্ত গভীর শ্বাস নিন—মনটা হালকা হবে।

সকালে ঘুম থেকে উঠে নেতিবাচক বা চাপযুক্ত দৃশ্য দেখলে সারাদিনের মানসিক প্রশান্তি ও কার্যক্ষমতা নষ্ট হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে—স্মার্টফোনের নোটিফিকেশন, অগোছালো ঘর, আয়নায় নিজের ক্লান্তি, অন্ধকার ঘর, সংবাদপত্রের নেতিবাচক খবর এবং অসমাপ্ত কাজের তালিকা। প্রতিকার হিসেবে ফোন থেকে দূরে থাকা, জানলা খুলে আলো আসা, এবং হালকা ব্যায়াম করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

সকালে চোখ খুলেই যে ৬টি জিনিস এড়ানো উচিত:

১. স্মার্টফোনের স্ক্রিন: ঘুম থেকে উঠেই সোশ্যাল মিডিয়া বা ইমেইল দেখলে মস্তিষ্কে চাপ পড়ে এবং দিনের শুরুতেই অস্থিরতা বাড়ে।

২. অগোছালো ঘর বা বিছানা: অপরিষ্কার ঘর মানসিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, যা দিনের কাজের মনোযোগ নষ্ট করে।

৩. আয়নায় ক্লান্ত মুখ: প্রথম দেখাতেই নিজের ক্লান্ত বা ফোলা চোখ দেখলে নেতিবাচক অনুভূতি জন্মায়।

৪. অন্ধকার বা বন্ধ ঘর: সকালে আলো না দেখলে বা অন্ধকার ঘর দেখলে শরীরে মেলাটোনিন হরমোন নিঃসরণ হতে পারে, যা অলসতা বাড়ায়।

৫. নেতিবাচক খবর বা সোশ্যাল মিডিয়া: সকালে যুদ্ধ, অপরাধ বা দুঃখজনক খবর মন ভালো করে না এবং ভয়ের উদ্রেক করে।

৬. অসমাপ্ত বা কঠিন কাজের তালিকা: ঘুম থেকে উঠেই যদি কঠিন কাজের কথা মনে পড়ে, তবে মানসিক চাপ শুরু হয়ে যায়।

সহজ প্রতিকার ও বিস্তারিত আলোচনা:

* ফোনের বদলে প্রকৃতির আলো: ঘুম থেকে উঠেই অন্তত ১৫-২০ মিনিট ফোন ধরবেন না। জানলা খুলে প্রাকৃতিক আলো ও বাতাস ঘরে আসতে দিন।

* বিছানা পরিপাটি করুন: উঠে প্রথমেই নিজের বিছানা গোছান। এতে দিনের প্রথম কাজটি সফলভাবে সম্পন্ন হলো—এই অনুভূতি আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।

* দৃষ্টিশক্তির যত্ন (২0-২0-২0 নিয়ম): যদি স্ক্রিন দেখতেই হয়, তবে প্রতি ২০ মিনিট পর ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে ২০ সেকেন্ড তাকান।

* পজিটিভ অভ্যাস: সকালে উঠে আয়নায় নিজের দিকে তাকিয়ে হাসুন, অথবা ইতিবাচক কিছু চিন্তা করুন, যা সারাদিন কর্মোদ্যোগ ধরে রাখবে।

* পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও জল : রাতে পর্যাপ্ত ঘুম ও সকালে উঠে পর্যাপ্ত জল পান করুন, যা চোখের শুষ্কতা ও ক্লান্তি দূর করে।

সকালের এই ছোট পরিবর্তনগুলো পুরো দিনের কার্যকারিতা এবং মান স্বাস্থ্যে বড় প্রভাব ফেলে।