পেশির ক্ষয়, ক্লান্তি, যৌন ইচ্ছা কমে যাওয়া কিন্তু শুধুই অত্যধিক পরিশ্রমের ফল নয়। ৪০-এর পর পুরুষদেরও অনেক পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। কোন বদল ঘটে পুরুষ-শরীরেও?

৪০ বছর বয়সের পর পুরুষদের শরীরে হরমোন (প্রধানত টেস্টোস্টেরন) উৎপাদন প্রতি বছর প্রায় ১% হারে কমতে থাকে, যা বিপাকীয় হার কমিয়ে পেশি দুর্বলতা, ওজন বৃদ্ধি, যৌন ক্ষমতা হ্রাস এবং হার্টের রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এই সময়ে বার্ধক্যজনিত সমস্যা এড়াতে এবং জীবনমান বজায় রাখতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং শরীরচর্চা করা অত্যন্ত জরুরি ।

৪০-এর পরে শরীরে যে বড় পরিবর্তনগুলো আসে:

* টেস্টোস্টেরন হরমোনের হ্রাস: ৪০-এর পর থেকে পুরুষদের শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা কমতে শুরু করে। একে 'অ্যান্ড্রোপজ' বলা হয়।এর ফলে যৌন ইচ্ছা কমে যাওয়া, ক্লান্তি ও মন খারাপের মত সমস্যা দেখা দিতে পারে ।

* বিপাকীয় হারের কমে যাওয়া ও ওজন বৃদ্ধি: বিপাক ক্ষমতা ধীর হয়ে যায়, ফলে একই পরিমাণ খাবার খেলেও ওজন বাড়ার প্রবণতা দেখা দেয়, বিশেষ করে পেটের চর্বি বৃদ্ধি পায়।

* পেশি ও হাড়ের ক্ষয়: পেশির ঘনত্ব বা মাসল মাস কমতে শুরু করে এবং হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে।

* যৌন সমস্যা: টেস্টোস্টেরন কমার কারণে লিঙ্গোত্থান বা ইরেক্টাইল ডিসফাংশনের ঝুঁকি বাড়ে।

* হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি: উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল এবং ডায়াবেটিসের সমস্যা এই বয়সে প্রকট হতে পারে।

* দৃষ্টিশক্তি ও চুল পড়া: চুল পাতলা হয়ে যাওয়া বা টাক পড়া এবং দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া (যেমন- প্রেস বায়োপিয়া) স্বাভাবিক বিষয়।

* প্রোস্টেট সমস্যা: প্রোস্টেট গ্ল্যান্ডের সমস্যা, যেমন- ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া বা প্রস্রাবে বাধা সৃষ্টি হতে পারে।

কেন সতর্ক হওয়া জরুরি?

* ক্যান্সারের ঝুঁকি: ৪০-এর পরে প্রোস্টেট ক্যান্সার, কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের মত জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ে।

* জীবনমান বজায় রাখা: এই বয়সে যত্ন নিলে ৫০ বা ৬০ বছরের পরেও শরীর সুস্থ ও সচল রাখা সম্ভব।

* হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক: উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে না রাখলে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি থাকে।

সতর্কতা ও সুস্থ থাকার উপায়:

১. নিয়মিত শরীরচর্চা: পেশি ও হাড় শক্ত রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম (যেমন- ভারোত্তোলন, হাঁটা) করা প্রয়োজন।

২. সুষম খাদ্য: অতিরিক্ত চর্বি ও চিনিযুক্ত খাবার বর্জন করুন, পুষ্টিকর খাবার যেমন- ফলমূল, শাকসবজি, এবং প্রোটিন বেশি খান।

৩. নিয়মিত হেলথ চেকআপ: বছরে অন্তত একবার বিপি, সুগার, কোলেস্টেরল এবং প্রোস্টেট পরীক্ষা করান।

৪. ধূমপান ও মদ্যপান বর্জন: ধুমপান হার্টের ঝুঁকি বাড়ায়, তাই এটি ছেড়ে দেওয়া বাঞ্ছনীয়।

৫. পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ: নিয়মিত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমান এবং মানসিক চাপ কমান।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: কোনো নতুন ডায়েট বা ব্যায়াম শুরু করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।