ঝগড়া এড়াতে নিজের মতামত চেপে যাওয়া ‘ইজি পার্টনার’ সিন্ড্রোম সম্পর্কের ভারসাম্য নষ্ট করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, খোলামেলা যোগাযোগ আর সমতাই সুস্থ সম্পর্কের চাবিকাঠি।

সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে অনেকেই ঝগড়া এড়াতে নিজের মতামত চেপে যান। সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, এটাই ‘ইজি পার্টনার’ সিন্ড্রোম। সাময়িকভাবে শান্তি মিললেও দীর্ঘমেয়াদে এই অভ্যাস সম্পর্কের ভিত দুর্বল করে দেয়।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

মনোবিদদের মতে, ‘ইজি পার্টনার’ হলেন তিনি যিনি সবসময় সঙ্গীর ইচ্ছাকে প্রাধান্য দেন। নিজের পছন্দ-অপছন্দ, অভিযোগ বা অস্বস্তি প্রকাশ করেন না। কারণ একটাই — অশান্তি বা বিচ্ছেদের ভয়। প্রথমে এটা ভালোবাসার প্রমাণ মনে হলেও ধীরে ধীরে একতরফা হয়ে যায় সম্পর্ক।

কীভাবে বাড়ে জটিলতা নিজের অনুভূতি চেপে রাখলে মনে জমতে থাকে ক্ষোভ আর হতাশা। যা একদিন বিস্ফোরণের মতো বেরিয়ে আসে। তখন ছোট বিষয়ও বড় ঝগড়ায় পরিণত হয়। পাশাপাশি সঙ্গীও বুঝতে পারেন না আসল সমস্যাটা কোথায়। ফলে ভুল বোঝাবুঝি বাড়ে।

সম্পর্ক পরামর্শদাতারা বলেন, “সম্পর্ক মানে দু’জনের সমান অংশীদারিত্ব। একজন সবসময় মেনে নিলে ভারসাম্য নষ্ট হয়। সঙ্গী ভাবতে শুরু করেন সব ঠিক আছে। কিন্তু ভিতরে ভিতরে দূরত্ব তৈরি হয়।”

লক্ষণগুলো চিনুন সবসময় ‘ঠিক আছে’ বলা, নিজের প্রয়োজনকে গুরুত্ব না দেওয়া, ঝগড়ার সময় চুপ করে থাকা, সঙ্গীকে হারানোর ভয়ে নিজেকে বদলে ফেলা — এগুলোই ‘ইজি পার্টনার’-এর প্রধান লক্ষণ। অনেক সময় ব্যক্তি নিজেই বোঝেন না তিনি এই ভূমিকায় চলে গেছেন।

সমাধান কী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুস্থ সম্পর্কের জন্য খোলামেলা যোগাযোগ জরুরি। নিজের অনুভূতি শান্তভাবে প্রকাশ করতে শিখতে হবে। ‘না’ বলার সাহস রাখতে হবে। ঝগড়া মানে সম্পর্ক শেষ নয়, বরং ভুল বোঝাবুঝি দূর করার সুযোগ।

সঙ্গীর সঙ্গে নিয়মিত কথা বলুন। ছোট ছোট অস্বস্তি শুরুতেই শেয়ার করুন। সপ্তাহে একদিন দু’জন মিলে বসে সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করুন। প্রয়োজনে কাউন্সেলিংয়ের সাহায্য নিন।

সম্পর্ক মানে শুধু শান্তি নয়, বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা আর সমতা। নিজেকে হারিয়ে সঙ্গীকে ধরে রাখার চেষ্টা শেষে দু’জনকেই একা করে দেয়। তাই অশান্তির ভয়ে নিজেকে ‘ইজি’ না বানিয়ে ‘সমান’ হওয়াই আসল সমাধান।