- Home
- Lifestyle
- Lifestyle Tips
- Bhoot Chaturdashi 2026: হ্যালোইন তো বিদেশের, বাংলার অলিগলিতে ঘাপটি মেরে থাকা এই ১০ ভূতের খবর জানেন কি?
Bhoot Chaturdashi 2026: হ্যালোইন তো বিদেশের, বাংলার অলিগলিতে ঘাপটি মেরে থাকা এই ১০ ভূতের খবর জানেন কি?
Bhoot Chaturdashi 2026: ভূত চতুর্দশীর এই বিশেষ দিন উপলক্ষে বাংলার লোককথায় প্রচলিত ১০টি জনপ্রিয় ও রহস্যময় ভূতের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। এদের মধ্যে মেছো ভূত, নিশি, আলেয়া ও স্কন্ধকাটা উল্লেখযোগ্য।

বাঙালির হ্যালোইন বা ভুত চতুর্দশী
Bhoot Chaturdashi 2026: ভুত চতুর্দশীর এই দিনে চৌদ্দ শাক খাওয়া এবং সন্ধ্যায় চৌদ্দটি প্রদীপ জ্বালানোর প্রথা রয়েছে। তবে মূলত এখনও গ্রাম বাংলার দিকে এখনও এই সমস্ত প্রথা অশুভ শক্তি ও অতৃপ্ত আত্মাদের দূরে রেখে পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনার উদ্দেশ্যেই পালন করা হয়। তো আজ জেনে নেওয়া যাক বাঙালির হ্যালোইন বা ভুত চতুর্দশীর দিনে বাংলার জনপ্রিয় ১০ ভুতের কথা-

ব্রহ্মদৈত্য-
১. ব্রহ্মদৈত্য-
ব্রাহ্মণ বর্ণের কোনও ব্যক্তির অপমৃত্যু হলে তিনি ব্রহ্মদৈত্যে পরিণত হন বলে লোকবিশ্বাস রয়েছে। এদের পরনে ধুতি এবং কাঁধে পৈতে থাকে। এরা সাধারণত শান্ত প্রকৃতির হয়। বেলগাছ বা বটগাছে এদের বাস। এরা মানুষের ক্ষতি করার বদলে অনেক সময় বিপদ-আপদে মানুষকে সাহায্য করে।
পেত্নী ও শাঁখচুন্নি
২. পেত্নী ও শাঁখচুন্নি
পেত্নী: অবিবাহিত অবস্থায় মনের আশা পূরণ হওয়ার আগে কোনও নারীর মৃত্যু হলে তিনি পেত্নী হন। এদের পা উল্টো দিকে ঘোরানো থাকে এবং এরা খুব বদমেজাজি হয়।
শাঁখচুন্নি: বিবাহিত হিন্দু নারীর অপমৃত্যু হলে শাঁখচুন্নি হয়। এদের হাতে শাঁখা ও পরনে লাল পাড়ের শাড়ি থাকে। এরা মূলত বিবাহিত নারীদের ওপর ভর করে বা সংসারের সুখ নষ্ট করার চেষ্টা করে।
মেছো ভূত
৩. মেছো ভূত
নাম থেকেই বোঝা যায়, এই ভূতের প্রধান আকর্ষণ হলো মাছ। এরা পুকুর, বিল বা জলাশয়ের ধারে থাকে। রাতের বেলা কেউ মাছ ধরে বাড়ি ফিরলে এরা পিছু নেয় এবং ভয় দেখিয়ে মাছ কেড়ে নেয়। অনেক সময় মানুষের গলা নকল করে "আমাকে মাছ দিবি না?" বলে ভয় দেখায়।
গেছো ভূত
৪. গেছো ভূত
যেসব ভূত গাছে বসবাস করে, তাদের গেছো ভূত বলা হয়। তেঁতুল গাছ, বটগাছ, শেওড়া গাছ বা বাঁশঝাড় এদের প্রিয় আস্তানা। গভীর রাতে গাছের ডাল নাড়িয়ে বা পথচারীদের ওপর ঢিল ছুড়ে এরা ভয় দেখায়।
মামদো ভূত
৫. মামদো ভূত
মুসলিম সম্প্রদায়ের কোনও ব্যক্তির অপমৃত্যু হলে মামদো ভূত হয় বলে লোককথায় প্রচলিত। এদের চেহারা লম্বাটে ও ভয়ংকর হয়। এদের পায়ের পাতাও উল্টো দিকে ঘোরানো থাকে। এরা কবরস্থান বা নির্জন জায়গায় থাকে এবং মানুষের ঘাড় মটকানোর ভয় দেখায়।
নিশি
৮. নিশি
নিশি হলো এক ধরনের ছলনাময়ী অপচ্ছায়া বা ডাকিনী। এরা গভীর রাতে মানুষের পরিচিত কারও (যেমন—মা, বাবা বা প্রিয়জন) গলা নকল করে নাম ধরে ডাকে। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, নিশির ডাকে সাড়া দিয়ে ঘরের দরজা খুললে মানুষ সম্মোহিত হয়ে নিশির পিছু নেয় এবং আর ফিরে আসে না। প্রচলিত নিয়ম হলো, নিশি কখনো তিনবারের বেশি ডাকে না; তাই রাতে তিনবার ডাক শোনার পর দরজা খোলা উচিত।
বেঘো ভূত ও কানাবুলা
৯. বেঘো ভূত ও কানাবুলা
সুন্দরবন বা জঙ্গল সংলগ্ন এলাকায় বাঘের আক্রমণে যাদের মৃত্যু হয়, তারা বেঘো ভূতে পরিণত হয়। এরা মানুষকে জঙ্গল বা বাঘের ডেরার দিকে ভুল পথে নিয়ে যায়।
কানাবুলা বা ভুলো ভূত: এরা পথচারীদের চেনা রাস্তা ভুলিয়ে দেয়। একই রাস্তায় মানুষকে সারা রাত ঘুরিয়ে মারাই এদের কাজ।
আলেয়া
৭. আলেয়া
জলাভূমি বা ধানি জমির ওপর রাতের বেলা যে রহস্যময় আলো জ্বলতে ও নিভতে দেখা যায়, গ্রামবাংলায় তাকে আলেয়া বলে। জেলেরা বা পথচারীরা এই আলো দেখে বিভ্রান্ত হয়ে পথ হারিয়ে ফেলেন এবং জলাভূমিতে ডুবে মারা যান। (বৈজ্ঞানিক মতে, পচনশীল জৈব পদার্থ থেকে তৈরি মিথেন গ্যাসের কারণে এই আলোর সৃষ্টি হয়)।
স্কন্ধকাটা
৬. স্কন্ধকাটা
রেল দুর্ঘটনায় বা অন্য কোনওভাবে যাদের মাথা কাটা যায়, তারা স্কন্ধকাটা ভূতে পরিণত হয়। এদের কাঁধের ওপর মাথা থাকে না; বুক বা পিঠের মাঝখানে চোখ থাকে। এরা নিজেদের হারানো মাথা খুঁজে বেড়ায় এবং রাতের নির্জন রাস্তায় পথচারীদের আক্রমণ করে।
ডাইনি ও চুড়েল
১০. ডাইনি ও চুড়েল
ডাইনি: এরা জীবিত নারী হলেও এদের মধ্যে অলৌকিক ও অশুভ শক্তি থাকে বলে বিশ্বাস করা হয়। এরা মূলত তন্ত্রমন্ত্র ও জাদুবিদ্যার চর্চা করে।
চুড়েল: গর্ভাবস্থায় বা সন্তান জন্ম দেওয়ার সময় কোনও নারীর মৃত্যু হলে তিনি চুড়েলে পরিণত হন। এরা দেখতে অত্যন্ত কুৎসিত ও ভয়ংকর হয়।
দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদন কেবলমাত্র তথ্য হিসেবে দেওয়া, অন্ধ বিশ্বাস প্রচারে এশিয়ানেট নিউজ বাংলার কোনও সম্বন্ধ নেই।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News

