- Home
- Religion
- Kali Puja 2026: আলোর উৎসবে মাতোয়ারা বাংলা! কলকাতা থেকে জেলা, এক নজরে সেরা কালীপুজোর সুলুকসন্ধান
Kali Puja 2026: আলোর উৎসবে মাতোয়ারা বাংলা! কলকাতা থেকে জেলা, এক নজরে সেরা কালীপুজোর সুলুকসন্ধান
Kali Puja 2026: বাংলার কালীপুজো সাবেকি বনেদিয়ানা, জাগ্রত মন্দির এবং চমকপ্রদ থিমের এক অনন্য মেলবন্ধন। কলকাতা, বারাসাত থেকে শুরু করে তারাপীঠ ও নৈহাটির মতো ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলির সেরা পুজোর বিবরণ এখানে তুলে ধরা হয়েছে।

কালীপুজো বা দীপান্বিতা অমাবস্যা
Kali Puja: বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের মধ্যে কালীপুজো বা দীপান্বিতা অমাবস্যার স্থান একেবারে প্রথম সারিতে। সাবেকি বনেদিয়ানা, জাগ্রত মন্দিরের আধ্যাত্মিক পরিবেশ থেকে শুরু করে চমকপ্রদ থিম ও আলোকসজ্জা—সব মিলিয়ে বাংলার কালীপুজো এক অনন্য রূপ ধারণ করে। কলকাতা-সহ রাজ্যের এমনই কিছু সেরা ও ঐতিহ্যবাহী কালীপুজোর ঠিকানা নিচে তুলে ধরা হলো।

কালীঘাট কালীমন্দির
কালীঘাট কালীমন্দির (দক্ষিণ কলকাতা): ৫১ সতীপীঠের অন্যতম এই পীঠস্থানে কালীপুজোর রাতে এক ভিন্ন রূপ দেখা যায়। এই বিশেষ তিথিতে দেবী কালীকে এখানে মহালক্ষ্মী রূপে পূজা করা হয়। মন্দিরের প্রাচীন ঐতিহ্য ও ভক্তদের সমাগম এক অপার্থিব পরিবেশ তৈরি করে।
জানবাজার
জানবাজার সম্মিলিত কালীপুজো সমিতি (এসপ্ল্যানেড): মধ্য কলকাতার অন্যতম জাঁকজমকপূর্ণ পুজো এটি। প্রতি বছরই অভিনব মণ্ডপসজ্জা ও আলোর কারসাজিতে দর্শনার্থীদের মন জয় করে এই পুজো কমিটি।
দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দির
দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দির (উত্তর শহরতলি): ১৮৫৫ সালে রানী রাসমণি প্রতিষ্ঠিত এই মন্দিরে মা ভবতারিণীর পুজো দেখতে কালীপুজোর রাতে লক্ষ লক্ষ মানুষের ঢল নামে। হুগলি নদীর তীরে আলোকমালায় সজ্জিত এই মন্দির প্রাঙ্গণ দীপাবলির রাতে এক মায়াবী রূপ ধারণ করে।
ফাটাকেষ্টর কালীপুজো
ফাটাকেষ্টর কালীপুজো (কলেজ স্ট্রিট): উত্তর ও মধ্য কলকাতার বারোয়ারি কালীপুজোর কথা উঠলেই প্রথমেই আসে এই পুজোর নাম। ১৯৫৭ সালে কৃষ্ণচন্দ্র দত্ত ওরফে ফাটাকেষ্ট এই পুজোর সূচনা করেন, যা বর্তমানে 'নব যুবক সঙ্ঘ'-এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। সুবিশাল প্রতিমা ও আলোকসজ্জা এর মূল আকর্ষণ।
বড়মা কালী
বড়মা কালী (নৈহাটি): নৈহাটির কালীপুজোর প্রধান আকর্ষণ হলো অরবিন্দ রোডের 'বড়মা'। প্রায় ২২ ফুট উচ্চতার এই কৃষ্ণবর্ণা প্রতিমা এবং তাঁর গায়ে থাকা বিপুল পরিমাণ সোনা ও রুপোর অলঙ্কার চোখ ধাঁধিয়ে দেয়। লোকমুখে প্রচলিত, "ধর্ম যার যার, বড়মা সবার"—এই বিশ্বাসেই কালীপুজোর রাতে এখানে তিল ধারণের জায়গা থাকে না।
বারাসাত ও মধ্যমগ্রাম
বারাসাত ও মধ্যমগ্রাম: থিমের রাজত্ব
শ্রীনগর ৩ নম্বর অধিবাসীবৃন্দ (মধ্যমগ্রাম): বাদু রোড সংলগ্ন মধ্যমগ্রামের অন্যতম বৃহৎ ও সুশৃঙ্খল কালীপুজো এটি। বিশাল বাজেট ও নজরকাড়া আলোকসজ্জার কারণে দর্শনার্থীদের ভিড় এখানে উপচে পড়ে।
কে.এন.সি রেজিমেন্ট
কে.এন.সি রেজিমেন্ট (বারাসাত): বারাসাতের কালীপুজোর ইতিহাসে অন্যতম বড় নাম কে.এন.সি রেজিমেন্ট। প্রতি বছর দেশ-বিদেশের বিখ্যাত স্থাপত্য বা কাল্পনিক কোনো বিশাল প্রাসাদের আদলে মণ্ডপ তৈরি করে এরা দর্শকদের তাক লাগিয়ে দেয়।
নবপল্লী অ্যাসোসিয়েশ
নবপল্লী অ্যাসোসিয়েশন ও নবপল্লী ব্যায়াম সমিতি (বারাসাত): বারাসাত স্টেশন সংলগ্ন নবপল্লী অঞ্চলের এই দুটি পুজো প্রতি বছর থিমের লড়াইয়ে একে অপরকে টেক্কা দেয়। সমাজসচেতনতামূলক থিম থেকে শুরু করে রূপকথার জগত—সবই ফুটে ওঠে এদের মণ্ডপে।
জেলার ঐতিহ্যবাহী কালীপুজো
তারাপীঠ (বীরভূম): সাধক বামাক্ষ্যাপার সাধনপীঠ তারাপীঠে কালীপুজোর রাতে বিশেষ নিশিপূজা ও হোমযজ্ঞ অনুষ্ঠিত হয়। দ্বারকা নদের তীরে অবস্থিত এই মহাপীঠে দীপান্বিতা অমাবস্যার রাত কাটানো এক অনন্য আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা।
কঙ্কালীতলা
কঙ্কালীতলা (বোলপুর, বীরভূম): ৫১ সতীপীঠের অন্যতম এই স্থানে দেবীর কোনো মূর্তি নেই, পটচিত্রে পূজা হয়। শান্তিনিকেতনের অদূরে কোপাই নদীর তীরে কালীপুজোর রাতে এক শান্ত ও পবিত্র পরিবেশ বিরাজ করে।
তমলুকের বর্গভীমা
তমলুকের বর্গভীমা মন্দির (পূর্ব মেদিনীপুর): প্রাচীন এই শক্তিপীঠে কালীপুজোর দিন বিশেষ পূজা ও মেলার আয়োজন করা হয়, যা মেদিনীপুরবাসীর কাছে অত্যন্ত আবেগের।
শান্তিপুর
শান্তিপুর (নদিয়া): নদিয়ার শান্তিপুরের 'আগমেস্বরী' কালীপুজো প্রায় কয়েকশো বছরের প্রাচীন। এখানকার তন্ত্রমতে পূজা এবং প্রতিমার বিশেষ রূপ আজও অম্লান।

