প্রেশার কুকার শুধু ডাল বা ভাত রান্নার জন্য নয়, এটি আপনার রান্নাঘরের এক স্মার্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট। এই একটি পাত্র ব্যবহার করেই আপনি বিরিয়ানি, কেক, পুডিং বা ভাপা পদের মতো সুস্বাদু খাবার খুব কম সময়ে এবং গ্যাস বাঁচিয়ে তৈরি করতে পারেন।

গ্যাসের দাম যেভাবে বাড়ছে আর অফিস-বাড়ি সামলে সময় যেভাবে কমে যাচ্ছে, তাতে রান্নাঘরের সবচেয়ে কাজের জিনিস এখন একটাই। সেটা হল প্রেশার কুকার। আমরা ছোটবেলা থেকে দেখে এসেছি কুকার মানে ভাত ফোটানো, ডাল সিদ্ধ করা আর আলু সেদ্ধ করা। কিন্তু একটু মাথা খাটালেই এই একটা কুকার দিয়েই পুরো খাবার রেডি করা যায়। আর সময়ও লাগে অর্ধেক।

উৎসব বাড়িতে বিরিয়ানি খেতে ইচ্ছে করে কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে রান্না করার সময় নেই। সেই সমস্যার সমাধানও আছে কুকারে। মাংস বা সবজি ম্যারিনেট করে নিন। তারপর কুকারে প্রথমে এক লেয়ার বাসমতী চাল, তার উপর মাংস, আবার চাল। মাঝে পেঁয়াজ বেরেস্তা, বিরিয়ানি মশলা, ঘি, কেওড়া জল আর জাফরান ভেজানো দুধ ছড়িয়ে দিন। ঢাকনা বন্ধ করে মাঝারি আঁচে মাত্র ২টো সিটি দিলেই তৈরি গরম গরম দম বিরিয়ানি। ১০ মিনিটে হোটেলের মতো স্বাদ, আর গ্যাসও লাগবে অনেক কম।

অনেকের বাড়িতে ওভেন নেই বলে কেক খাওয়া হয় না। তাদের জন্য সুখবর। প্রেশার কুকারই হতে পারে আপনার মিনি ওভেন। কেকের ব্যাটার একটা স্টিলের টিফিনে ঢেলে নিন। এবার কুকারের মধ্যে একটা স্ট্যান্ড বসিয়ে এক গ্লাস জল দিন। তার উপর টিফিনটা বসিয়ে দিন। সবচেয়ে জরুরি কথা হল কুকারের সিটি আর রাবারটা খুলে রাখতে হবে। নাহলে ভিতরে প্রেশার হবে। তারপর ঢাকনা বন্ধ করে ৩৫ থেকে ৪০ মিনিট মাঝারি আঁচে রাখুন। বের করলেই পেয়ে যাবেন নরম স্পঞ্জ কেক। একই ভাবে ক্যারামেল পুডিংও বানানো যায়। বাচ্চারা তো অবাক হয়ে যাবে যে কুকারে কেকও হয়।

রাজমা, ছোলা বা লোবিয়ার তরকারি খেতে ভালোবাসি আমরা সবাই। কিন্তু এগুলো সিদ্ধ করতেই আধ ঘণ্টা চলে যায়। প্রেশার কুকারে এই ঝামেলা একদম নেই। ডালটা এক ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন। তারপর কুকারেই পেঁয়াজ কুচি, টমেটো, আদা-রসুন বাটা আর সব মশলা দিয়ে কষিয়ে নিন। তারপর জল দিয়ে ৪-৫টা সিটি দিয়ে দিন। ব্যস ডাল একদম গলে যাবে। উপর থেকে একটু বাটার আর ধনেপাতা ছড়িয়ে দিলে রুটি বা ভাতের সাথে জমে যাবে। আগের রাতে ভিজিয়ে রাখার টেনশনও থাকবে না।

আর বাঙালির সবচেয়ে প্রিয় ভাপা খাবার। ইলিশ ভাপা বা পনির ভাপা। এটাও এবার কুকারেই বানান। মাছ বা পনিরের পিসে সর্ষে-পোস্ত বাটা, কাঁচা লঙ্কা, নুন, হলুদ আর সরষের তেল ভালো করে মাখিয়ে নিন। একটা স্টিলের টিফিনে ভরে টিফিনের মুখটা বন্ধ করে দিন। কুকারে জল আর স্ট্যান্ড দিয়ে টিফিনটা বসিয়ে দিন। ১টা সিটি পড়লেই তৈরি গরম গরম ভাপা। গন্ধে পুরো পাড়া ম-ম করবে আর গ্যাসও অনেক বাঁচবে।

তবে কুকারে এই রান্নাগুলো করার সময় দুটো কথা মাথায় রাখবেন। কেক বা মাছ - পনিরের ভাপা বানানোর সময় কখনওই সিটি লাগাবেন না। আর বিরিয়ানি বা পোলাও করার সময় জলের মাপটা একদম ঠিক রাখবেন। নাহলে নিচে লেগে যেতে পারে।

প্রেশার কুকার শুধু সিদ্ধ করার যন্ত্র নয়। এটা আপনার রান্নাঘরের স্মার্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট। একটু বুদ্ধি করে ব্যবহার করলেই সময় বাঁচবে, গ্যাস বাঁচবে আর খাওয়া-দাওয়াও হবে জম্পেশ।