নতুন জিনিস এলেই আগে বাবল ফাটান? এই ছোট্ট অভ্যাসটা শুধু মজা না। এটা আপনার ব্রেনের থেরাপি। জানুন কেন এত শান্তি হয় আর এটা আপনার চরিত্রের কোন গোপন দিকটা খুলে দেয়।
ফ্লিপকার্টের প্যাকেটটা হাতে আসতেই হার্টবিট বেড়ে যায়। ভেতরে কী আছে সেটা পরে। আগে দরকার একটাই জিনিস। প্যাকেটের গায়ে লেগে থাকা সেই স্বচ্ছ বাবলগুলো।

আঙুলটা নিজে থেকেই চলে যায়। প্রথমে আস্তে একটা চাপ। "প"। তারপর আরেকটা। তারপর নেশার মতো একটার পর একটা। ঘরের মধ্যে শুধু "প পপ" শব্দ। আর আপনি? আপনি তখন অন্য দুনিয়ায়। পুরো শিট শেষ না হওয়া পর্যন্ত উঠবেন না। শেষ বাবলটা ফাটার পর বুক থেকে একটা লম্বা নিঃশ্বাস বের হয়। মনে হয় যেন মাথার ওপর থেকে ১০ কেজি বোঝা নেমে গেল।
লোকে দেখলে হাসে। বলে "এত বড় হয়েছো, এখনো বাবল ফাটাও?" কিন্তু তারা জানে না এর পেছনে কত বড় সাইন্স কাজ করে।
আমাদের ব্রেন অদ্ভুত জিনিস পছন্দ করে। বিশেষ করে যে আওয়াজগুলো ছোট, নরম আর একদম প্রেডিক্টেবল। বাবল ফাটার "প" শব্দটা ঠিক তেমনই। এই শব্দটা কানে যাওয়া মাত্রই ব্রেনের মধ্যে ডোপামিন ছাড়ে। ডোপামিন মানে "ভালো লাগার হরমোন"। তাই একটা ফাটানোর পর মনে হয় আরেকটা ফাটাই। ব্রেন নিজেই আপনাকে নেশা করিয়ে দেয়।
কিন্তু শুধু আওয়াজের জন্য নয়। এর সাথে জড়িয়ে আছে আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় সমস্যা - "কন্ট্রোলের অভাব"। ভেবে দেখুন তো, অফিসে বসের কথা শুনতে হয়, বাড়িতে সবার ডিমান্ড, রাস্তায় জ্যাম, ফোনে নোটিফিকেশন। দিনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কটা জিনিস আপনি নিজের মতো করে করতে পারেন? হাতে গোনা।
কিন্তু বাবলের প্রতিটা ঘর? ওটা পুরোপুরি আপনার। আপনি চাইলে জোরে ফাটাবেন, আস্তে ফাটাবেন, লাইন ধরে ফাটাবেন। এই ছোট্ট জায়গাটায় আপনি রাজা। আর এই "আমি কন্ট্রোলে আছি" ফিলিংটাই আপনাকে অদ্ভুত শান্তি দেয়।
তাই বাবল আসলে আমাদের অ্যাংজাইটির সেফটি ভালভ। সারাদিনের জমে থাকা রাগ, বিরক্তি, টেনশন আমরা কাউকে বলতে পারি না। কাউকে বকতেও পারি না। তখন এই বাবলগুলোই কাজে আসে। প্রতিটা "প" এর সাথে সাথে মনের ভেতরের চাপটাও ফেটে বেরিয়ে যায়। কাউকে হার্ট না করে, কিছু না ভেঙে। তাই ফাটানো শেষে মনে হয় "যাক, হালকা হলাম"।
এবার আসি সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং জায়গায়। এই অভ্যাসটা আপনার চরিত্রের আয়না। মনোবিদরা বলেন যারা বাবল ফাটাতে ভালোবাসেন তারা সাধারণত তিন রকমের মানুষ হন।
প্রথমত, তারা ভীষণ পারফেকশনিস্ট। একটা বাবলও বাদ যাবে না। বাঁকা করে ফাটাবেন না। একদম কোণা থেকে শুরু করে শেষ কোণা পর্যন্ত সব সাফ করবেন। এর মানে আপনার মধ্যে যে কোনো কাজ শেষ করার একটা অদ্ভুত জেদ কাজ করে।
দ্বিতীয়ত, তারা বাইরে থেকে যতই কঠিন দেখান না কেন, ভেতরে ভীষণ নরম আর সেনসিটিভ। ছোট ছোট কথায় কষ্ট পান, আবার ছোট ছোট জিনিসেই খুশি হন। কিন্তু সেটা কাউকে বোঝান না। বাবল ফাটানোই তাদের চুপচাপ কান্না, চুপচাপ হাসি।
আর তৃতীয়ত, তারা জীবনের আসল মজাটা ধরতে পারেন। তাদের বড় কিছুর দরকার হয় না। ৫০০ টাকার বাবল র্যাপের রোল কিনে এনে সারাদিন ফাটালেও তাদের আপত্তি নেই। কারণ তারা জানেন আসল সুখ ছোট ছোট মুহূর্তেই লুকিয়ে থাকে।
তাই পরের বার কেউ জ্ঞান দিলে বলবেন, "এটা বাচ্চামো না ভাই, এটা আমার থেরাপি সেশন"।
বাবল ফাটানো মানে নিজেকে ভালোবাসা। নিজেকে ২ মিনিট সময় দেওয়া। মনটাকে একটু রিচার্জ করে নেওয়া।
