তবে অনেকেই মনে করেন, যত বেশি জল পান করা যাবে, ততই শরীরের জন্য ভাল। কিন্তু বাস্তবে অতিরিক্ত জল পানও শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
জল আমাদের শরীরের জন্য অপরিহার্য। শরীরকে হাইড্রেট রাখা, শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, হজমে সাহায্য করা এবং বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে পর্যাপ্ত জল পান অত্যন্ত জরুরি। তবে অনেকেই মনে করেন, যত বেশি জল পান করা যাবে, ততই শরীরের জন্য ভাল। কিন্তু বাস্তবে অতিরিক্ত জল পানও শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

অতিরিক্ত জল খেলে কী হয়?
অতিরিক্ত জল পান করলে শরীরে ওভারহাইড্রেশন (Overhydration) বা ওয়াটার ইনটক্সিকেশন (Water Intoxication) হতে পারে। এর ফলে রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে কমে যায়, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় হাইপোন্যাট্রেমিয়া (Hyponatremia) বলা হয়। এতে শরীরের কোষে অতিরিক্ত জল প্রবেশ করে এবং কোষ ফুলে যেতে পারে।
কী কী লক্ষণ দেখা দিতে পারে? বারবার বমি বমি ভাব বা বমি মাথাব্যথা মাথা ঘোরা শরীরে দুর্বলতা হাত-পা বা মুখ ফুলে যাওয়া বিভ্রান্তি বা মনোসংযোগে সমস্যা পেশিতে টান ধরা গুরুতর ক্ষেত্রে খিঁচুনি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা কোমার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে কারা বেশি ঝুঁকিতে?
যদিও এই সমস্যা তুলনামূলকভাবে বিরল, তবুও কিছু মানুষ বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। যেমন—
দীর্ঘক্ষণ ম্যারাথন বা সহনশীলতার খেলায় অংশগ্রহণকারী ক্রীড়াবিদ কিডনির সমস্যায় ভুগছেন এমন ব্যক্তি হৃদ্রোগ বা লিভারের রোগে আক্রান্ত মানুষ কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ সেবনকারীরা অল্প সময়ের মধ্যে জোর করে অনেকটা জল পান করেন যাঁরা দিনে কতটা জল পান করা উচিত?
সব মানুষের জন্য একই পরিমাণ জল প্রযোজ্য নয়। বয়স, ওজন, আবহাওয়া, শারীরিক পরিশ্রম এবং স্বাস্থ্যগত অবস্থার উপর নির্ভর করে জলের চাহিদা বদলে যায়।
সাধারণভাবে একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দিনে প্রায় ২ থেকে ৩ লিটার জল প্রয়োজন হতে পারে। তবে তৃষ্ণা লাগলে জল পান করা এবং প্রস্রাবের রং হালকা হলুদ থাকলে শরীর সাধারণত পর্যাপ্ত হাইড্রেটেড আছে বলে ধরা হয়।
কীভাবে নিরাপদ থাকবেন? অল্প সময়ে অনেকটা জল না খেয়ে সারাদিনে ভাগ করে জল পান করুন। অতিরিক্ত ঘাম হলে শুধু জল নয়, প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ইলেক্ট্রোলাইটও গ্রহণ করুন। শরীরের প্রয়োজনের চেয়ে বেশি জল পান করার অভ্যাস এড়িয়ে চলুন। কিডনি, হার্ট বা লিভারের রোগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জল পান করুন।
জল জীবনধারণের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, কিন্তু যেকোনো ভালো জিনিসের মতোই এরও ভারসাম্য জরুরি। তাই সুস্থ থাকতে পর্যাপ্ত জল পান করুন, তবে অপ্রয়োজনীয়ভাবে অতিরিক্ত নয়।
