দিঘা-নিউ দিঘার চিৎকার, ভিড় আর হকারে ক্লান্ত? মাত্র ২০ মিনিটের দূরত্বে আছে এক টুকরো স্বর্গ। নাম কানাইচট্ট। যেখানে সমুদ্র, ঝাউবন আর ম্যানগ্রোভ মিলে এক অপূর্ব ছবি এঁকেছে।
দিঘা মানেই কি শুধু ভিড়? অলস দুপুরে বালিতে বসে ঢেউ গোনা যাবে না? হবে না একটু নিরিবিলিতে সমুদ্রের শব্দ শোনা? যদি এই প্রশ্নগুলো আপনার মাথায় ঘোরে তাহলে পরের বার দিঘা গেলে ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়ুন কানাইচট্টের উদ্দেশ্যে।

দিঘা থেকে মাত্র ১৮ কিলোমিটার দূরে, তালসারি আর চন্দনেশ্বর মন্দির পেরিয়ে যে গ্রামটা পড়ে সেটাই কানাইচট্ট। স্থানীয়রা একে কানাই নাথপুর বিচও বলে। গুগল ম্যাপে ভালো করে দেখায় না বলে অনেকেই এই জায়গাটার নামই শোনেনি। আর সেই কারণেই জায়গাটা আজও এত সুন্দর, এত ফাঁকা। এখানে এসে প্রথমেই যে জিনিসটা আপনাকে ছুঁয়ে যাবে তা হল শান্তি। দিঘার মতো চিৎকার নেই, দোকানদারের ডাক নেই, শুধু আছে ঝাউপাতার সোঁ সোঁ আওয়াজ আর ঢেউ ভাঙার শব্দ।
সৈকতের ধার বরাবর মাইলের পর মাইল শুধু উঁচু উঁচু ঝাউগাছ। বাতাসে ঝাউপাতা দুললে মনে হয় প্রকৃতি নিজেই গান গাইছে। আর একটু ভেতরের দিকে গেলেই চোখে পড়বে ছোট ছোট ম্যানগ্রোভের জঙ্গল। সমুদ্রের নোনা জল আর জঙ্গলের সবুজ একসাথে মিশে একটা অন্যরকম পরিবেশ তৈরি করেছে। ভোরবেলা বা পড়ন্ত বিকেলে এলে বালির ওপর দিয়ে ছোট ছোট লাল কাঁকড়ার দলকে দৌড়াতে দেখবেন। ক্যামেরা হাতে ফটোগ্রাফারদের জন্য এটা একদম স্বর্গ। কোনো মানুষের ভিড় নেই, তাই নিজের মতো করে ফ্রেম বন্দি করতে পারবেন সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত।
যাওয়াটাও খুব একটা কঠিন নয়। দিঘা থেকে টোটো বা অটো রিজার্ভ করে নিলেই হবে। যাওয়া-আসা মিলিয়ে ৪০ থেকে ৫০ টাকা ভাড়া নেবে। নিজের গাড়ি থাকলে আরও সুবিধা। তবে শেষ এক কিলোমিটার রাস্তা একটু ভাঙাচোরা। বর্ষাকালে তাই একটু সাবধানে যাওয়াই ভালো। আর যাওয়ার আগে অবশ্যই খাবার জল আর কিছু শুকনো খাবার সাথে নিয়ে নেবেন। কারণ এই সৈকতে চা-এর দোকান তো দূর, একটা বিস্কুটের প্যাকেটও পাবেন না। থাকারও কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই এটাকে ডে-ট্রিপ হিসেবেই প্ল্যান করুন। সকালে বেরিয়ে বিকেলের মধ্যে দিঘায় ফিরে আসাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।
কানাইচট্ট মূলত তাদের জন্যই যারা দিঘার কোলাহল থেকে একটু মুক্তি চায়। প্রেমিক-প্রেমিকা, ফটোগ্রাফার বা ছোট পরিবার নিয়ে পিকনিকের জন্য জায়গাটা আদর্শ। তবে একটা অনুরোধ, জায়গাটা যেহেতু এখনও পরিচ্ছন্ন তাই প্লাস্টিক বা নোংরা ফেলে এর সৌন্দর্য নষ্ট করবেন না।
দিঘা বেড়াতে গিয়ে যদি শুধু মার্কেট আর ভিড়ই দেখে ফিরে আসেন তাহলে দিঘার অর্ধেক সৌন্দর্যই মিস করলেন। একটা বেলা সময় করে কানাইচট্ট ঘুরে আসুন। কথা দিচ্ছি ঝাউবনের ছায় বসে সমুদ্র দেখার পর আপনার মন একদম ফ্রেশ হয়ে যাবে। দিঘার আসল রূপটা তখনই চিনবেন।


