আপনার ৯ টাকার প্ল্যান স্লো নয়। দায়ী রাউটারের ভিড় করা চ্যানেল। মাত্র ২ মিনিটে চ্যানেল বদলালেই ল্যাগ আর বাফারিং গায়েব।
ইউটিউবে ভিডিও প্লে করতেই গোল গোল লোডিং। Netflix-এ সিনেমা দেখার সময় প্রতি ২ মিনিটে বাফারিং। অথচ আপনি ১০০ Mbps বা ২০০ Mbps-এর প্ল্যানই নিয়েছেন। ভাবছেন ISP ঠকাচ্ছে? আসল সমস্যা কিন্তু অন্য জায়গায়। আপনার রাউটারের একটা ছোট্ট সেটিং-এর জন্যই নেটের এই হাল।

ব্যাপারটা হল রাস্তার জ্যামের মতো। পাড়ার সব বাড়িতে রাউটার আছে। আর কেনার পর কেউ সেটিংস ঘাঁটায় না। ফলে সবাই ডিফল্ট "Auto Channel" ব্যবহার করে। বিশেষ করে 2.4GHz ব্যান্ডে চ্যানেল মাত্র ১১টা। কলকাতার ফ্ল্যাটে ১০টা রাউটার যদি একই চ্যানেল 1 বা 6 বা 11 ধরে বসে থাকে, তাহলে সিগন্যালের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি লাগবেই। যার ফল স্পিড অর্ধেক হয়ে যাওয়া আর সারাদিন বাফারিং।
এর সমাধান খুব সোজা। রাউটারের "WiFi Channel" Auto থেকে Manual করে দিতে হবে। এতে আপনার রাউটার আর পাশের রাউটারের ঝগড়া বন্ধ হয়ে যাবে।
কীভাবে করবেন? প্রথমে ফোন বা ল্যাপটপের ব্রাউজারে গিয়ে লিখুন 192.168.1.1 অথবা 192.168.0.1। রাউটারের পিছনে ইউজারনেম আর পাসওয়ার্ড লেখা থাকে। সাধারণত admin। লগইন করার পর Wireless Settings বা WiFi Settings অপশনে যান। সেখানে Channel নামে একটা অপশন পাবেন। এখন ওটা Auto তে থাকবে।
এবার Auto বাদ দিয়ে Manual সিলেক্ট করুন। 2.4GHz-এর জন্য 1, 6 আর 11 এই তিনটে চ্যানেল সবচেয়ে ভালো। কারণ এগুলো একে অপরের সাথে ধাক্কা খায় না। কোনটা আপনার এলাকায় ফাঁকা আছে সেটা বোঝার জন্য প্লে স্টোর থেকে WiFi Analyzer অ্যাপ নামিয়ে নিতে পারেন। ওটা দেখিয়ে দেবে কোন চ্যানেলে ভিড় কম।
আর আপনার রাউটার যদি 5GHz সাপোর্ট করে তাহলে তো সোনায় সোহাগা। 5GHz-এ চ্যানেল অনেক বেশি আর ইন্টারফেয়ারেন্সও প্রায় নেই। সোজা 5GHz নেটওয়ার্কে কানেক্ট করুন। গেমিং, ভিডিও কল, 4K স্ট্রিমিং সব স্মুথ চলবে। ল্যাটেন্সিও অনেক কমে যাবে। সেটিং বদলানোর পর Save করে রাউটার একবার রিস্টার্ট করে দিতে ভুলবেন না।
এর সাথে আরও দুটো জিনিস মাথায় রাখুন। রাউটার সবসময় ঘরের মাঝখানে আর একটু উঁচু জায়গায় রাখুন। আলমারির ভিতর বা টিভির পিছনে রাখলে সিগন্যাল আটকে যায়। দেওয়াল, আয়না আর মাইক্রোওভেন রাউটারের শত্রু। আর প্রতি ১৫ দিনে একবার রাউটারের প্লাগ খুলে ১০ সেকেন্ড পর আবার লাগান। এটাকে বলে পাওয়ার সাইকেল। এতে রাউটার গরম হয়ে স্লো হয়ে যায় না।
নতুন প্ল্যানে টাকা খরচ করার আগে একবার এই ফ্রি ট্রিকটা ট্রাই করুন। চ্যানেল বদলানোর ২ মিনিটের কাজেই আপনার নেটের আসল স্পিড ফেরত আসবে। বাফারিং-এর দিন শেষ।


