আমরা যা খাচ্ছি তার প্রভাব শুধু শরীরেই নয়, পড়ে মনের উপরও। কিশোর-কিশোরীদের সুস্থ মানসিক ও শারীরিক বিকাশের জন্য চিনি-যুক্ত ঠান্ডা পানীয়ের আসক্তি থেকে ওদের বের করে আনতেই হবে।
এক গ্লাস ঠান্ডা পানীয় বা একটু এনার্জি ড্রিঙ্কস- দেখতে নিরীহ, স্বাদে মিষ্টি। কিন্তু সেই মিষ্টতার আড়ালেই লুকিয়ে আছে এক অজানা ঝুঁকি! সাম্প্রতিক এক গবেষণা যেন সেই অদৃশ্য ঝুঁকির দিকেই আঙুল তুলল।
গরম কাল আসা মানেই দেশে অধিক চিনি যুক্ত মিষ্টি পানীয়র বিক্রিতে ব্যাপক বৃদ্ধি। ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ঠান্ডা পানীয়র বাজার। বর্তমানে দেশ-বিদেশের একাধিক নামি-দামি ব্র্যান্ড ভারতে এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। তাই নিত্য দিন নতুন নতুন চিনি যুক্ত মিষ্টি পানীয় বাজারে লঞ্চ হচ্ছে। আর তা পৌঁছে যাচ্ছে সাধারণ মানুষের হাতে।
কিন্তু এই বেশি চিনি দেওয়া পানীয় পান করলে অনেক ক্ষতি হতে পারে। বিশেষত, বাচ্চাদের হতে পারে ক্ষতি। আসলে ছোট বাচ্চারা মিষ্টি কোল্ড ড্রিংকস ও কৃত্রিম জুসের সব থেকে বড় অনুরাগী হয়ে থাকে। আর বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ওই পানীয়গুলিতে অত্যাধিক হারে থাকা চিনি কিংবা প্রিজারভেটিভ ব্যাপক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এতদিন চিনি মানেই ছিল শরীরের শত্রু, ওজন বাড়া, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, এই মিষ্টি আস্তে আস্তে মনের ওপরও প্রভাব ফেলে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেব বলছে, বিশ্বের প্রতি সাতজন কিশোর কিশোরীদের মধ্যে একজন অ্যাংজাইটির শিকার। প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যেস, নিঃশব্দে ফেলছে বড় প্রভাব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত মিষ্টি হঠাৎ করে রক্তে বাড়ায় শর্করার পরিমাণ, আবার দ্রুত তা নেমেও যায়। এই ওঠা-নামার খেলায় মস্তিষ্কে ডোপামিনের ভারসাম্য নষ্ট হয়, আর সেই ভারসাম্য় নষ্টই অনেক সময় অ্যাংজাইটির সূত্রপাত করে।


