Darjeeling Tourism: দার্জিলিং থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরের লেবং (Lebong) একটা শান্ত নিরিবিলি পাহাড়ি গ্রাম। চা বাগান, কাঞ্চনজঙ্ঘার ভিউ আর পুরনো লেবং রেসকোর্স এখানকার মূল আকর্ষণ। ভিড় ছাড়া পাহাড়ি প্রকৃতি আর স্থানীয় আতিথেয়তা উপভোগ করতে মার্চ-মে বা অক্টোবর-ডিসেম্বর হল সেরা সময়।

Darjeeling Tourist Places: দার্জিলিং মানেই ভিড়, হোটেল আর টয় ট্রেনের হুইসেল। কিন্তু দার্জিলিং থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে আছে একটা শান্ত নিরিবিলি জায়গা, যার নাম লেবং (Lebong)। পাহাড়ের কোলে ছোট্ট এই গ্রামটা এখনও পর্যটকদের ভিড় থেকে অনেকটা দূরে। তাই যদি দার্জিলিংয়ের কোলাহল ছেড়ে একটু নির্জনতা চাও, লেবং হতে পারে আপনার আদর্শ গন্তব্য। লেবংয়ের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। চারদিকে চা বাগানের সবুজ গালিচা, মাঝে মাঝে পাহাড়ি বাড়ি আর দূরে কাঞ্চনজঙ্ঘার বরফঢাকা চূড়া। সকালবেলা কুয়াশার চাদর সরে গিয়ে যখন সূর্যের প্রথম আলো চা বাগানে পড়ে, তখনকার দৃশ্য ভোলার মতো নয়। এখানকার আবহাওয়া দার্জিলিংয়ের মতোই ঠান্ডা, কিন্তু ভিড় নেই বলে আরও বেশি উপভোগ্য।

ঐতিহাসিক স্থান লেবং

লেবংকে ঘিরে রয়েছে অনেক ইতিহাস। ব্রিটিশ আমলে এটা ছিল দার্জিলিংয়ের মিলিটারি স্টেশন। এখনও এখানে পুরনো ব্রিটিশ কটেজ আর রেসকোর্স দেখতে পাওয়া যায়। লেবং রেসকোর্স ভারতের সবচেয়ে উঁচু রেসকোর্সগুলির মধ্যে একটা। যদিও এখন আর রেস হয় না, তবুও বিস্তীর্ণ মাঠ আর চারপাশের পাহাড়ের ভিউ দেখে মন জুড়িয়ে যায়। লেবং থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার ভিউ দার্জিলিংয়ের টাইগার হিলের চেয়ে কোনও অংশে কম নয়। ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে বারান্দায় বসে গরম চায়ের কাপ হাতে কাঞ্চনজঙ্ঘায় সূর্যোদয় দেখা, এটাই লেবংয়ের সবচেয়ে বড় অভিজ্ঞতা। এছাড়া এখানে রয়েছে লেবং কার্ট রোড, যেটা দার্জিলিং আর কার্শিয়াংকে (Kurseong) যুক্ত করেছে। এই রাস্তা ধরে হাঁটতে হাঁটতে চা বাগানের মধ্যে দিয়ে পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারো।

হোমস্টে-তে থাকা যায়

থাকার জন্য লেবংয়ে আছে কিছু হোমস্টে আর ছোট রিসর্ট। পাহাড়ি মানুষদের আতিথেয়তা আর ঘরোয়া খাবার এই ট্রিপের আরেকটা প্লাস পয়েন্ট। গরম ভাত, ডাল, আলু ভাজা আর স্থানীয় মোমো খেয়ে দেখতে ভুলবেন না।লেবং যাওয়ার সবচেয়ে ভালো সময় মার্চ থেকে মে আর অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর। এই সময় আকাশ পরিষ্কার থাকে আর কাঞ্চনজঙ্ঘা স্পষ্ট দেখা যায়। বর্ষায় রাস্তা পিছল হয়ে যায়, তাই তখন না যাওয়াই ভালো। দার্জিলিং গেলে একটা দিন লেবংয়ের জন্য বরাদ্দ রাখুন। মাত্র তিন কিলোমিটার দূরত্ব, অথচ অভিজ্ঞতাটা একেবারে আলাদা। ভিড় ছাড়া পাহাড়, চা বাগান আর কাঞ্চনজঙ্ঘা, তিনটে একসাথে পেতে চাইলে লেবং আপনাকে নিরাশ করবে না।

আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।