গরম পড়লেই মুখ তেলতেলে, আবার টানটান। এসি-রোদে জল শুকিয়ে স্কিন ডিহাইড্রেটেড। ব্রণ, কালচে ছোপ, গ্লো উধাও। দোকানের ৮০০-১০০০ টাকার হাইড্রেটিং সিরাম? পকেট ফাঁকা। টেনশন নেই। রান্নাঘরের ৩টে জিনিস দিয়েই বানিয়ে নিন পার্লারের মতো সিরাম।
মে জুন মাস টা রোদে বেরোলেই মুখ পুড়ে যাচ্ছে। ঘাম, ধুলো, সানস্ক্রিনের লেয়ার। রাতে মুখ ধুলে মনে হয় চামড়া টেনে ধরছে। আবার সকালে উঠে দেখেন T-zone চকচক করছে তেলে। এটাই ‘ডিহাইড্রেটেড স্কিন’। জলের অভাব, তেলের না। দামি সিরাম কিনলেন, দুদিন পর ব্রণ। কারণ স্যুট করেনি। তার চেয়ে নিজের স্কিন নিজে বুঝুন। ঘরে বানান কাস্টম সিরাম। দাম ৫০ টাকাও না, কাজ দেবে ১০০০ টাকার মতো। একবার বানিয়ে ফ্রিজে রাখুন, ১৫ দিন আরাম।

বেসিক হাইড্রেটিং সিরাম – ৩ উপকরণ, সব স্কিনের জন্য
লাগবে:
১. ফ্রেশ অ্যালোভেরা জেল: ৩ চামচ। গাছ না থাকলে পতঞ্জলি বা Wow-র পিওর অ্যালোভেরা জেল নিন। রং-গন্ধওয়ালা না।
২. গ্লিসারিন: ১ চামচ। মেডিক্যাল শপে ২০ টাকা। Humectant, মানে বাতাস থেকে জল টেনে স্কিনে ধরে রাখে।
৩. গোলাপ জল: ২ চামচ। ডাবর বা ফ্রেশ টাইপ। টোনার + থিনার।
বানানোর নিয়ম:
একটা কাঁচের বাটিতে অ্যালোভেরা জেল নিন। কাঁটা চামচ দিয়ে ভালো করে ফেটান যাতে দানা না থাকে। এবার গ্লিসারিন মেশান। শেষে গোলাপ জল দিয়ে আবার ফেটান। স্মুদ, হালকা জেলি টেক্সচার আসবে। ছোট ড্রপার বোতলে ভরে ফ্রিজে রাখুন। ব্যস।
কেন কাজ করে:
অ্যালোভেরা ৯৮% জল + ভিটামিন C, E। ঠান্ডা করে, হিল করে। গ্লিসারিন ‘ন্যাচারাল হায়ালুরনিক অ্যাসিড’। ১ গ্রাম গ্লিসারিন ১ লিটার জল ধরে রাখে। গোলাপ জল pH ব্যালেন্স করে, র্যাশ কমায়।
জেল্লা বাড়ানোর গ্লো সিরাম – ভিটামিন E ও C অ্যাড করুন:
বেসিক সিরামের সাথে ২টো জিনিস যোগ করুন, পার্লার গ্লো আসবে।
এক্সট্রা লাগবে:
১. Evion 400 ক্যাপসুল: ১টা। কেটে তেলটা বের করুন। ভিটামিন E, স্কার-স্পট হালকা করে, জেল্লা আনে।
২. পাতিলেবুর রস: ৪-৫ ফোঁটা। ন্যাচারাল ভিটামিন C, ট্যান কাটে। সেনসিটিভ স্কিন হলে স্কিপ করুন।
নিয়ম:
বেসিক সিরাম বানানোর পর শেষে Evion তেল আর লেবুর রস মেশান। ভালো করে ঝাঁকান। এটা রাতের সিরাম। দিনে লেবু দিলে রোদে পুড়ে যাবে। সপ্তাহে ৩ দিন ইউজ করুন।
অয়েলি-অ্যাকনে স্কিনের জন্য টি ট্রি ভার্সন:
তেলতেলে স্কিন + ব্রণ? গ্লিসারিন কমান, অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল অ্যাড করুন।
গ্লিসারিন ১ চামচের বদলে ১/২ চামচ দিন। সাথে দিন টি ট্রি এসেনশিয়াল অয়েল ২ ফোঁটা। অ্যালোভেরা ৩ চামচ, গোলাপ জল ২.৫ চামচ।
কাজ:
টি ট্রি ব্রণর ব্যাকটেরিয়া মারে, পোরস টাইট করে। গ্লিসারিন কম থাকায় চিটচিটে লাগবে না। দিনে ২ বার ইউজ করলেও পিম্পল বাড়বে না।
কীভাবে ব্যবহার করবেন – ভুল করলে লাভ নেই:
এক, মুখ ফেসওয়াশ দিয়ে ধুয়ে হালকা ভেজা অবস্থায় ২-৩ ফোঁটা সিরাম নিন। ভেজা স্কিনে সিরাম ১০ গুণ বেশি অ্যাবজর্ব হয়। দুই, ডট করে গালে, কপালে, নাকে, থুতনিতে দিন। তিন, আঙুলের ডগা দিয়ে উপরের দিকে ট্যাপ করে ম্যাসাজ করুন। ঘষবেন না। চার, ১ মিনিট অপেক্ষা করুন। তারপর ময়েশ্চারাইজার লাগান। দিনে হলে সানস্ক্রিন মাস্ট। পাঁচ, দিনে ২ বার—সকালে ও রাতে। মেকআপের আগেও প্রাইমার হিসেবে দিতে পারেন।
স্টোরেজ ও প্যাচ টেস্ট – সাবধান:
এক, কাঁচের ড্রপার বোতলে রাখুন। প্লাস্টিকে কেমিক্যাল রিঅ্যাকশন হতে পারে। দুই, ফ্রিজের নরমাল চেম্বারে রাখুন। ১৫ দিন ভালো থাকবে। গন্ধ চেঞ্জ হলে ফেলে দিন। তিন, বানানোর আগে হাত, বাটি, চামচ স্যানিটাইজ করুন। নাহলে ফাঙ্গাস হবে। চার, প্রথমবার ইউজের আগে কানের পিছনে বা হাতে প্যাচ টেস্ট করুন ২৪ ঘণ্টা। চুলকানি, লাল হলে ইউজ করবেন না। পাঁচ, গ্লিসারিন পিওর ইউজ করবেন। ভেজিটেবল গ্লিসারিন বেস্ট।
১০০০ টাকার সিরামে যা আছে, তার ৮০% আপনার কিচেনেই আছে। শুধু মিক্স করার টেকনিক জানতে হয়। এই গরমে স্কিনকে জল খাওয়ান। বাইরে থেকে ক্রিম, ভিতর থেকে ৩ লিটার জল। ৭ দিনে দেখবেন টান ভাব গায়েব, জেল্লা ব্যাক। ব্রণ, কালো প্যাচ কমবে। বেস্ট পার্ট, নিজের স্কিন বুঝে কাস্টমাইজ করতে পারবেন। ড্রাই লাগলে গ্লিসারিন বাড়ান, অয়েলি লাগলে কমান।
ডিসক্লেইমার: ঘরোয়া উপাদানেও অ্যালার্জি হতে পারে। প্যাচ টেস্ট মাস্ট। সেনসিটিভ স্কিন, একজিমা, সিরিয়াস অ্যাকনে থাকলে ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নিন। লেবুর রস দিনে ব্যবহার করবেন না, রোদে পুড়ে যেতে পারে।


