কলকাতা থেকে মাত্র ২৫০ কিমি দূরে ঝাড়গ্রামের ঢাঙিকুসুম। বর্ষায় এখানে পুরো জায়গাটা সবুজ হয়ে যায়। পাহাড়, ঘন জঙ্গল, লালমাটির রাস্তা আর দুটো দারুণ জলপ্রপাত - তারাফেনি আর ঘাঘরা। ২ দিনের ছুটিতে গিয়েই মন ভরে যাবে। ভিড় নেই, কোলাহল নেই, শুধু প্রকৃতি।
বর্ষায় প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে যেতে হবে ঢাঙিকুসুম। জানেন কোথায় আর কেন যাবেন জানতে গেলে এই প্রতিবেদনটি আপনার জন্য।

ঢাঙিকুসুম হলো ঝাড়গ্রামের একটা ছোট্ট গ্রাম। কলকাতা থেকে ট্রেনে ঝাড়গ্রাম, তারপর গাড়িতে ২ কিমি। পুরো রাস্তাটাই জঙ্গল আর লালমাটির। বর্ষায় চারপাশে শাল-পিয়াল-মহুয়ার জঙ্গল একদম সবুজ কার্পেট হয়ে যায়। ভিড় নেই, রিসোর্টের চিৎকার নেই। শুধু পাখির ডাক আর ঝিঁঝিঁ পোকার আওয়াজ। যারা দীঘা-মন্দারমণির ভিড়ে ক্লান্ত, তাদের জন্য ঢাঙিকুসুম হলো "সাইলেন্ট হিল"।
বর্ষায় ঢাঙিকুসুমের আসল রূপ :
বর্ষা পড়লেই ঢাঙিকুসুম জেগে ওঠে। তারাফেনি জলপ্রপাত ফুল ফোর্সে নামে। ৩০ ফুট উপর থেকে জল আছড়ে পড়ে, সামনে প্রাকৃতিক সুইমিং পুল তৈরি হয়। জলের রং দুধের মতো সাদা। তার ৩ কিমি দূরেই ঘাঘরা জলপ্রপাত। এখানে জল পাথরের উপর দিয়ে সাপের মতো বেঁকে বেঁকে নামে। পাথরগুলো এত মসৃণ যে পা পিছলে যাবে। জঙ্গলের ভিতর দিয়ে হাঁটার রাস্তা আছে। বর্ষায় রাস্তার দু'পাশে বুনো ফুল ফোটে। সাথে দেখা মিলবে হরিণ, ময়ূর, বনমুরগির।
কীভাবে যাবেন আর কোথায় থাকবেন:
কলকাতা হাওড়া থেকে ইস্পাত এক্সপ্রেস বা স্টিল এক্সপ্রেস ধরে ঝাড়গ্রাম স্টেশন। সকাল ৮টায় নেমে অটো বা গাড়ি বুক করে নিন। ১.৫ ঘণ্টায় ঢাঙিকুসুম। থাকার জন্য WBFDC-র "রিমিল লজ" আছে একদম জঙ্গলের ভিতর। ভাড়া ১৫০-২৫০ টাকা। খাওয়া-দাওয়া স্থানীয় হোটেলে। চিকেন-ভাত ১২০ টাকা, দেশি মুরগি ২০০ টাকা। নেটওয়ার্ক কম, তাই ডিটক্স ট্রিপের জন্য পারফেক্ট।
বর্ষায় যাওয়ার ৩টি টিপস:
১. জুতো ভালো নিন: লালমাটি আর পাথরের রাস্তা পিছল হয়। গ্রিপওয়ালা জুতো মাস্ট।
২. জোঁকের জন্য নুন রাখুন: জঙ্গলে জোঁক থাকে। একটু নুন সঙ্গে রাখলে কাজ হয়ে যাবে।
৩. সন্ধ্যার আগে ফিরুন: জঙ্গলে সন্ধ্যার পর হাতি বের হয়। স্থানীয়দের কথা মেনে চলুন।
কীভাবে যাবেন?
এখন নিশ্চয়ই ভাবছেন এই ঢাঙিকুসুম কীভাবে পৌঁছাবেন? সেক্ষেত্রে হাওড়া বা শালবনি থেকে ট্রেনে করে প্রথমে ঝাড়গ্রাম স্টেশনে পৌঁছাতে পারেন ঝাড়গ্রাম থেকে সড়কপথে বেলপাহাড়ি হয়ে প্রায় ৫২ কিলোমিটার দূরত্বে ঢাঙিকুসুম অবস্থিত। ঝাড়গ্রাম স্টেশন কিংবা বেলপাহাড়ি থেকে লোকাল গাড়ি বা জিপ ভাড়া করে পৌঁছে যেতে পারবেন ঢাঙিকুসুম।
শেষ কথা:
কলকাতার পাশে পাহাড়-জঙ্গল-জলপ্রপাত - তিনটে একসাথে পেতে হলে ঢাঙিকুসুমের বিকল্প নেই। বর্ষার ২ দিনের ছুটিটা এখানে কাটিয়ে আসুন। ফোন সাইলেন্ট করে প্রকৃতির আওয়াজ শুনুন।
যাওয়ার আগে ঝাড়গ্রাম ট্যুরিজমে ফোন করে আপডেট নিন। বর্ষায় জলপ্রপাতে স্নান করার আগে স্থানীয়দের জিজ্ঞেস করুন।
