Dhanteras 2026: ধনতেরাসে সোনা-রুপো কেনা কি বাধ্যতামূলক? নাকি নতুন ঝাঁটা, বাসনপত্র কিনলেও আসতে পারে সংসারে সুখ-সমৃদ্ধি? প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই বিশেষ দিনে কোন জিনিস কেনা শুভ আর কোনগুলি এড়িয়ে চলা উচিত
২০২৬ সালের ৬ নভেম্বর, শুক্রবার পালিত হবে ধনতেরাস। এই দিন থেকেই শুরু হবে দীপাবলির উৎসব। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ধনতেরাসে সোনা-রুপো থেকে শুরু করে বাসনপত্র, ঝাঁটা—বিভিন্ন জিনিস কেনা অত্যন্ত শুভ। তবে এমন কিছু জিনিসও রয়েছে, যা এই দিনে কেনা এড়িয়ে চলেন অনেকে। কোন জিনিস কিনলে ঘরে আসবে সমৃদ্ধি আর কোনগুলি কেনা উচিত নয়? রইল বিস্তারিত তালিকা।
ধনতেরাস কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
ধনতেরাস, যা ধনত্রয়োদশী নামেও পরিচিত, সম্পদ, সমৃদ্ধি ও সুস্বাস্থ্যের প্রতীক। এই দিনে দেবী লক্ষ্মী, কুবের এবং ভগবান ধন্বন্তরির পুজো করা হয়। সংসারে সুখ-সমৃদ্ধি ও আর্থিক উন্নতির কামনায় ভক্তরা প্রার্থনা করেন। নতুন জিনিস কেনার প্রথাও এই উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিনে কিছু নির্দিষ্ট জিনিস কেনা শুভ বলে মনে করা হয়।
ধনতেরাস ২০২৬: কোন ৫টি জিনিস কেনা শুভ?
১. সোনা ও রুপো: ধনতেরাসে সোনা ও রুপো কেনার প্রথা সবচেয়ে বেশি প্রচলিত। অনেকে এই দিনে সোনার গয়না, রুপোর কয়েন কিংবা ছোটখাটো অলঙ্কার কেনেন। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই ধাতুগুলি সম্পদ ও সমৃদ্ধির প্রতীক।
২. পিতল, তামা ও স্টিলের বাসন: ধনতেরাসে নতুন বাসন কেনাও অত্যন্ত জনপ্রিয়। পিতল, তামা কিংবা স্টেইনলেস স্টিলের বাসন কেনেন অনেকে। আবার নতুন বাসনে চাল, গম বা জল ভরে বাড়িতে আনার রীতিও রয়েছে। একে প্রাচুর্যের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।
৩. নতুন ঝাঁটা: ধনতেরাসে ঝাঁটা কেনারও বিশেষ প্রচলন রয়েছে। বিশ্বাস করা হয়, ঝাঁটা ঘরের নেগেটিভ শক্তি দূর করে এবং দেবী লক্ষ্মীকে স্বাগত জানানোর প্রতীক হিসেবে কাজ করে।
৪. ধনে বীজ: দেশের বেশ কিছু অঞ্চলে ধনতেরাসে গোটা ধনে বা সাবুত ধনিয়া কেনার রীতি রয়েছে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, ধনে বীজ বৃদ্ধি, প্রাচুর্য ও সমৃদ্ধির প্রতীক।
৫. লক্ষ্মী-গণেশের মূর্তি ও প্রদীপ: দীপাবলির পুজোর প্রস্তুতি হিসেবে অনেকে এই দিনে লক্ষ্মী ও গণেশের নতুন মূর্তি কেনেন। পাশাপাশি মাটির প্রদীপ, তুলোর সলতে এবং পুজোর অন্যান্য সামগ্রীও কেনা হয়।
ধনতেরাসে কোন ৫টি জিনিস কেনা এড়িয়ে চলবেন?
কিছু আঞ্চলিক ও পারিবারিক বিশ্বাস অনুযায়ী, ধনতেরাসে কয়েকটি জিনিস কেনা অশুভ বলে মনে করা হয়। যেমন—
১. লোহার জিনিস: প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, লোহার সঙ্গে শনিদেবের যোগ রয়েছে। তাই অনেক পরিবার ধনতেরাসে লোহার জিনিস কেনা এড়িয়ে চলেন।
২. ধারালো জিনিস: ছুরি, কাঁচি, ব্লেডের মতো ধারালো জিনিস কেনা থেকে বিরত থাকেন অনেকে। বিশ্বাস করা হয়, এগুলি সম্পর্কের বিচ্ছেদ কিংবা সমৃদ্ধিতে বাধার প্রতীক।
৩. কালো রঙের জিনিস: হিন্দু ধর্মীয় প্রথার কিছু ক্ষেত্রে কালো রংকে অশুভ বলে মনে করা হয়। তাই ধনতেরাসের কেনাকাটায় কালো পোশাক বা কালো রঙের ঘর সাজানোর সামগ্রী এড়িয়ে চলেন অনেকে।
৪. কাচের জিনিস: কাচ সহজেই ভেঙে যেতে পারে। সেই কারণে কিছু পরিবার ধনতেরাসে কাচের জিনিস কেনা পছন্দ করেন না।
৫. খালি বাসন: নতুন বাসন কেনা শুভ বলে মনে করা হলেও, খালি বাসন বাড়িতে আনা এড়িয়ে চলেন অনেকে। তাই বাসনের মধ্যে চাল, গম, মিষ্টি কিংবা জল ভরে বাড়িতে নিয়ে আসার রীতি রয়েছে।
ধনতেরাসে সোনা কেনা কি বাধ্যতামূলক?
একেবারেই নয়। ধনতেরাসে সোনা কেনার কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী ছোট রুপোর কয়েন, নতুন বাসন, ঝাঁটা কিংবা মাটির প্রদীপও কেনা যেতে পারে। এই উৎসবের মূল উদ্দেশ্য হল ভক্তি ও শুভকামনার সঙ্গে সংসারে সমৃদ্ধিকে স্বাগত জানানো, অকারণে প্রচুর টাকা খরচ করা নয়।
তাই প্রথা পালনের জন্য ঋণ নেওয়া কিংবা সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে কেনাকাটা করা উচিত নয়। মনে রাখতে হবে, অঞ্চল ও পরিবারভেদে ধনতেরাসের রীতিনীতি আলাদা হতে পারে। নিজের পারিবারিক প্রথা ও বিশ্বাস অনুযায়ী উৎসব পালন করাই শ্রেয়।
ধনতেরাস ২০২৬: ত্রয়োদশী তিথি ও পুজোর সময়
২০২৬ সালের ৬ নভেম্বর, শুক্রবার ধনতেরাস পালিত হবে। ত্রয়োদশী তিথি শুরু হবে ৬ নভেম্বর সকাল প্রায় ১০টা ৩০ মিনিটে এবং শেষ হবে ৭ নভেম্বর সকাল ১০টা ৪৭ মিনিটে। তবে পুজোর শুভ সময় স্থানভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই পুজো করার আগে স্থানীয় পঞ্জিকা দেখে নেওয়া ভাল।




