হাওড়ার ডুমুরজলায় খোলা আকাশের নিচে গড়ে ওঠা একটি সবুজ পার্ক এখন শরীরচর্চার নতুন কেন্দ্র। ট্রেডমিল বা জিমের গণ্ডি ছেড়ে এখানে মানুষ ভিড় করছেন প্রাকৃতিক পরিবেশে ব্যায়ামের জন্য। গাছের ছায়া, জলাশয় এবং আউটডোর জিম সরঞ্জাম মিলিয়ে তৈরি হয়েছে স্বচ্ছন্দ ফিটনেস স্পেস।

Fitness tips :ফিটনেস মানেই কি আর চার দেওয়ালের মধ্যে আটকে থাকা? ট্রেডমিল, ওয়েট মেশিন আর এসির ঘেরা পরিবেশের বাইরে এখন মানুষ খুঁজছে আরও স্বাভাবিক, আরও প্রাণবন্ত বিকল্প। শহরের ব্যস্ত জীবন আর মানসিক চাপের মাঝেও তাই অনেকেই ফিরে যেতে চাইছেন প্রকৃতির কাছে। আর সেই চাহিদাকেই বাস্তব রূপ দিয়েছে হাওড়ার ডুমুরজলার এক সবুজ পার্ক।

খোলা আকাশ, গাছের ঘন ছায়া, পাশেই জলাশয়—এই প্রাকৃতিক পরিবেশেই প্রতিদিন ভিড় জমাচ্ছেন বিভিন্ন বয়সের মানুষ। এখানে শরীরচর্চা শুধুই রুটিন নয়, বরং এক ধরনের অভিজ্ঞতা। হাঁটা, দৌড়, স্ট্রেচিং—এসবের পাশাপাশি রয়েছে নানা ধরনের আউটডোর জিম সরঞ্জাম, যেগুলি ব্যবহার করে সহজেই করা যায় দৈনন্দিন ব্যায়াম।

ডুমুরজলা হেলিপ্যাড সংলগ্ন ‘সিনিয়র সিটিজেন পার্ক’ মূলত প্রবীণদের স্বাস্থ্য সচেতনতার কথা মাথায় রেখে গড়ে তোলা হলেও, এখন এটি হয়ে উঠেছে সর্বস্তরের মানুষের মিলনক্ষেত্র। হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার ব্যায়ামের জন্য উপযোগী যন্ত্রগুলি এমনভাবে বসানো হয়েছে, যাতে বয়স নির্বিশেষে সবাই তা ব্যবহার করতে পারেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, খোলা পরিবেশে শরীরচর্চা করলে শরীরে অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়ে, মন থাকে সতেজ, এবং মানসিক চাপ কমে। এই পার্কে সেই অভিজ্ঞতাই পাচ্ছেন মানুষ। অনেকেই জানাচ্ছেন, নিয়মিত এখানে সময় কাটানোর ফলে তাঁদের ঘুমের গুণমানও উন্নত হয়েছে এবং দৈনন্দিন ক্লান্তি কম অনুভূত হচ্ছে।

সবচেয়ে বড় কথা, এই পার্কে প্রবেশ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। ফলে অর্থনৈতিক দিক থেকেও এটি সকলের নাগালের মধ্যে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খোলা থাকায় অফিসযাত্রী থেকে অবসরপ্রাপ্ত—সবাই নিজের সুবিধামতো সময় বেছে নিতে পারছেন।

শহরের কংক্রিটের ভিড় আর দূষণের মধ্যে এই সবুজ পরিসর যেন এক টুকরো স্বস্তি। শরীরচর্চার পাশাপাশি এখানে তৈরি হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্রও—যেখানে প্রতিদিন গড়ে উঠছে নতুন সম্পর্ক, নতুন অভ্যাস।

ফিটনেসের সংজ্ঞা যে বদলাচ্ছে, তারই এক বাস্তব উদাহরণ হাওড়ার ডুমুরজলা। এখানে শরীরচর্চা শুধু স্বাস্থ্য রক্ষার উপায় নয়, বরং প্রকৃতির সঙ্গে পুনরায় সংযোগ স্থাপনের এক সুন্দর উপলক্ষ। 

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।