১০ জন বিবাহবিচ্ছিন্নের মধ্যে ৭ জনই ডিভোর্সের পরও যত্নে রাখেন বিয়ের ছবি! শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি। রাগে ছবি ছিঁড়ে ফেলার গল্প সিনেমাতেই হয়, বাস্তবে বেশিরভাগ মানুষই পারেন না পুরনো স্মৃতি মুছে ফেলতে।

বিয়ে ভাঙলেই কি সব স্মৃতি মুছে যায়? সিনেমায় দেখি, ডিভোর্সের পর রাগে বিয়ের অ্যালবাম পুড়িয়ে ফেলছেন নায়িকা। কিন্তু বাস্তব জীবনে ছবিটা একেবারে উল্টো। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষা এবং মনোবিদদের মতে, ১০ জন বিবাহবিচ্ছিন্ন মানুষের মধ্যে প্রায় ৭ জনই ডিভোর্সের পরেও বিয়ের ছবি যত্ন করে রেখে দেন, কোথাও লুকিয়ে, হার্ডডিস্কে বা অ্যালবামে। কেন এমন করেন তারা? এর পিছনে রয়েছে গভীর মনস্তত্ত্ব।

*কেন ফেলতে পারেন না?*

মনোবিদরা বলছেন, এর পিছনে তিনটি বড় কারণ আছে।

*১. সন্তানের জন্য:* অনেকেই বলেন, “আমাদের সম্পর্ক ভেঙেছে, কিন্তু ছবিগুলোতে আমাদের সন্তানের জন্মের ইতিহাস আছে।” সন্তান বড় হয়ে যখন জানতে চাইবে বাবা-মায়ের বিয়ে কেমন ছিল, তখন দেখানোর জন্য হলেও ছবি রেখে দেন।

*২. নিজের পরিচয়ের অংশ:* বিয়ে জীবনের একটা বড় অধ্যায়। ২০ বছর, ১০ বছর যে মানুষটার সঙ্গে কাটিয়েছেন, তাকে পুরোপুরি মুছে ফেলা মানে নিজের জীবনের একটা অংশকে অস্বীকার করা। তাই অনেকে অ্যালবামটা আলমারির ওপরে তুলে রাখেন, ফেলে দেন না।

*৩. তিক্ততা নয়, ভালো স্মৃতিটুকু:* সব ডিভোর্স ঝগড়া-অশান্তিতে হয় না। অনেকেই পারস্পরিক বোঝাপড়ায় আলাদা হন। তারা মনে করেন, শেষটা খারাপ হলেও শুরুটা তো সুন্দর ছিল। সেই ভালো দিনগুলোর সম্মানে ছবি রেখে দেন।

*কী করেন ছবি নিয়ে?*

বেশিরভাগ মানুষ ছবি টাঙিয়ে রাখেন না। তারা করেন -

- ডিজিটাল কপি করে হার্ডডিস্ক বা গুগল ড্রাইভে লুকিয়ে রাখেন।

- অ্যালবাম থেকে নিজের একার ছবি বা বন্ধু-পরিবারের ছবিগুলো আলাদা করে রাখেন।

- সন্তানের ১৮ বছর হলে তাকে দিয়ে দেন।

মনোবিদদের মতে, ছবি রাখা মানে আপনি এগোতে পারেননি, তা নয়। বরং এর মানে আপনি অতীতকে মেনে নিয়েছেন এবং ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে গেছেন। জোর করে স্মৃতি মুছে ফেলার চেষ্টা করলে বরং মানসিক চাপ বাড়ে।

তাই যদি আপনারও ডিভোর্সের পরেও বিয়ের ছবি রেখে দিতে ইচ্ছে করে, অপরাধবোধে ভুগবেন না। এটা খুবই স্বাভাবিক একটা মানবিক অনুভূতি।