দীপাবলি মানেই আলোর উৎসব, কিন্তু বাজির ধোঁয়ায় দূষণে ঢাকে শহর। পুলিশের খাতায় নাম ওঠার আগে জেনে নিন, বাজারে সরকার অনুমোদিত কোন তুবড়ি-চরকি বিকোচ্ছে এবং এবার কেন Lighting Lotus ও Gada বাজির চাহিদা তুঙ্গে।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এবার দীপাবলিতে শুধুমাত্র গ্রিন ক্র্যাকার্সই বিক্রি ও পোড়ানো যাবে। সাধারণ বাজির থেকে এই বাজিতে ৩০% কম দূষণ হয়।

সরকার অনুমোদিত বাজি চিনবেন কীভাবে?

১. QR কোড দেখুন: প্রতিটি বৈধ গ্রিন বাজির প্যাকেটে NEERI ও CSIR-এর অনুমোদিত QR কোড থাকবে। মোবাইলে স্ক্যান করলেই আসল-নকল বোঝা যাবে। ২. শব্দের মাত্রা: গ্রিন বাজির শব্দ ১২৫ ডেসিবেলের নিচে হবে। ৩. লোগো: প্যাকেটে "Green Firecracker" এবং "Low Emission" লেখা থাকবে।

বাজারে কোন কোন বৈধ বাজি পাওয়া যাচ্ছে?

এবার বাজিবাজারে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে নতুন ধরনের আলোর বাজি।

- আলোর বাজি: Lighting Lotus, Gada Special, Bijli Sparklers, Colour Fountain। এগুলিতে ধোঁয়া কম, আলো বেশি। Lighting Lotus মাটিতে পদ্মের মতো ঘুরে আলো ছড়ায়, তাই এবার সবচেয়ে বেশি চাহিদা। - তুবড়ি-চরকি: Flower Pot (গ্রিন ফুলঝুরি), Ground Chakkar Special (কম ধোঁয়ার চরকি), Pencil (কম শব্দের পেন্সিল বাজি)। - যা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ: লালি বোম, চকোলেট বোম, কালীপটকা, গোলাবোম ও যে কোনও উচ্চ শব্দের বাজি। - ম্যাজিক ফাউন্টেন ও থ্রি ইন ওয়ান তুবড়িও চাইলে কিনতে পারেন। এই ধরনের তুবড়ি জ্বালালে প্রথমে লাল, সবুজ এবং শেষে রুপোলি রং বেরয়। কিছু কিছু তুবড়িতে শব্দও থাকে। - আলোর সঙ্গে হালকা শব্দ যদি চান তবে ক্র্যাকিং স্পার্কলার্স কিনতে পারেন। শিশুরা এই বাজিটি খুবই পছন্দ করে। আবার ধোঁয়া খুব বিপজ্জনক। - এছাড়া মিউজিক্যাল শেলও কিনতে পারেন। মিষ্টি শব্দের এই বাজি আকাশে গিয়ে ৩০ কিংবা ৫০ বার পর্যন্ত ফাটতে পারে।

সময় ও নিয়ম:

পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের নিয়ম অনুযায়ী, দীপাবলিতে রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্তই শুধু বাজি পোড়ানো যাবে। এর বাইরে বাজি পোড়ালে ১২০ ডেসিবেলের বেশি শব্দ হলে জরিমানা ও আইনি ব্যবস্থা হতে পারে। তাই এবার দীপাবলি হোক আলোয় ভরা, ধোঁয়ায় নয়। বাজি কেনার আগে অবশ্যই QR কোড যাচাই করে নিন।