৮ ঘণ্টা ঘুমিয়েও সকালে উঠে শরীর ভাঙা, মাথা ভার, কাজে এনার্জি নেই? হাইপোথাইরয়েডের কমন সিম্পটম এটা। ওষুধের পাশাপাশি যোগা থাইরয়েড গ্ল্যান্ডকে স্টিমুলেট করে TSH লেভেল ব্যালেন্স করতে হেল্প করে। 

অ্যালার্ম বাজছে। চোখ খুললেন। কিন্তু শরীর যেন বিছানার সাথে আঠা দিয়ে লাগানো। মাথা ঝিমঝিম, গলা শুকনো, উঠতে ইচ্ছে করছে না।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

৮-৯ ঘণ্টা ঘুমের পরেও এই ‘ঘুম থেকে উঠে ক্লান্ত’ ফিলিং? থাইরয়েড পেশেন্টদের রোজের গল্প।

ফর্টিস হাসপাতালের এন্ডোক্রিনোলজিস্ট ডা. শুভ্রজ্যোতি ভৌমিক বলছেন, “হাইপোথাইরয়েডিজমে মেটাবলিজম স্লো হয়ে যায়। শরীরের এনার্জি প্রোডাকশন কমে। তাই রোগী সারাদিন ক্লান্ত, ঝিমুনি, ব্রেন ফগে ভোগে। বিশেষ করে সকালে কর্টিসল হরমোন কম থাকায় উঠতেই কষ্ট হয়।”

ওষুধ TSH কন্ট্রোল করে, কিন্তু এনার্জি ফেরায় না। সেটা ফেরাতে পারে যোগা।

যোগা কীভাবে থাইরয়েডের ক্লান্তি কমায়?

গলার সামনে প্রজাপতি শেপের থাইরয়েড গ্ল্যান্ড থাকে। কিছু আসনে থুতনি বুকে ঠেকে বা গলা স্ট্রেচ হয়। এতে গ্ল্যান্ডে রক্ত চলাচল বাড়ে, স্টিমুলেশন হয়। T3, T4 হরমোন ব্যালেন্স হয়। সাথে স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল কমে, ঘুম ভালো হয়, সকালে ফ্রেশ লাগে।

AIIMS-এর ২০২১-এর স্টাডি বলছে, ৬ মাস রেগুলার যোগা করে হাইপোথাইরয়েড পেশেন্টদের TSH ২৬% কমেছে, এনার্জি লেভেল ৪০% বেড়েছে।

সতর্কতা: ঘুম থেকে উঠেই লাফ দিয়ে আসন নয়। ২ মিনিট চোখ বন্ধ করে শ্বাস নিন। খালি পেটে করুন। ঘাড়ে, স্পন্ডিলাইটিস, হাই BP, হার্টের সমস্যা থাকলে ডাক্তার দেখিয়ে নিন। ব্যথা লাগলে ছেড়ে দিন।

বিছানায় শুয়েই ৫টা যোগাসন – ১০ মিনিট রুটিন

১. বিপরীত করণী মুদ্রা – ক্লান্তির ‘রিসেট বাটন’ | ২ মিনিট

কেন: পা দেওয়ালে তুলে দিলে পায়ে জমা রক্ত হার্টে ফেরে। ব্রেনে অক্সিজেন যায়। ২ মিনিটেই ঝিমুনি কাটে। থাইরয়েডে রক্ত যায়।

কীভাবে: চিত হয়ে শুয়ে পা দেওয়ালের সাথে লাগান। পা দুটো সোজা দেওয়ালে তুলে দিন। হাত দু’পাশে। চোখ বন্ধ। নরমাল শ্বাস। হাই BP থাকলে বালিশে মাথা উঁচু রাখুন।

থাইরয়েডে লাভ: ইনভার্সন পোজ। গলায় ব্লাড ফ্লো বাড়ায়।

২. সর্বাঙ্গাসন – থাইরয়েডের মাস্টার পোজ | ১-২ মিনিট

কেন: ‘Mother of all Asanas’। থুতনি বুকে চেপে বসে, সরাসরি থাইরয়েড গ্ল্যান্ড স্টিমুলেট করে। মেটাবলিজম বুস্ট করে।

কীভাবে: চিত হয়ে শুয়ে পা দুটো ৯০ ডিগ্রি তুলুন। কোমর তুলে হাত দিয়ে পিঠ সাপোর্ট দিন। পা, কোমর, পিঠ এক লাইনে। থুতনি বুকে ঠেকবে। পায়ের আঙুল সিলিং-এর দিকে।

দেওয়ালের সাপোর্ট নিন। ৩০ সেকেন্ড দিয়ে শুরু করুন।

বারণ: ঘাড়ে ব্যথা, স্পন্ডিলাইটিস, গ্লুকোমা থাকলে করবেন না।

৩. মৎস্যাসন – সর্বাঙ্গাসনের পাল্টি,১ মিনিট

কেন: সর্বাঙ্গাসনে গলা সংকুচিত হয়, মৎস্যাসনে গলা খোলে, স্ট্রেচ হয়। থাইরয়েড-প্যারাথাইরয়েড গ্ল্যান্ডে ফ্রেশ ব্লাড যায়।

কীভাবে: সর্বাঙ্গাসন থেকে ধীরে নামুন। চিত হয়ে শুয়ে হাত কোমরের নিচে ঢোকান। কনুইয়ে ভর দিয়ে বুক ও মাথা তুলুন। মাথার তালু মেঝেতে ঠেকান। গলা টানটান।

সহজ উপায়: মাথার নিচে মোটা বালিশ দিন।

৪. হলাসন – হরমোন ব্যালেন্সের লাঙল | ১ মিনিট

কেন: পা মাথার পিছনে গেলে পেটের অঙ্গ, থাইরয়েড সব স্টিমুলেট হয়। কোষ্ঠকাঠিন্য, যা হাইপোথাইরয়েডে কমন, সেটাও কমে।

কীভাবে: সর্বাঙ্গাসন থেকে পা দুটো ধীরে মাথার পিছনে মেঝেতে ঠেকান। হাত মেঝেতে সোজা বা পিঠে সাপোর্ট।

পা মেঝেতে না ঠেকলে চেয়ার বা দেওয়ালে রাখুন। জোর করবেন না।

বারণ: ডায়রিয়া, নেক ইনজুরি, প্রেগনেন্সিতে নয়।

৫. উজ্জায়ী প্রাণায়াম – এনার্জির চার্জার | ৩ মিনিট

কেন: ‘Ocean Breath’। গলার পিছন সরু করে শ্বাস নিলে থাইরয়েড এরিয়ায় ভাইব্রেশন হয়। মেটাবলিজম, নার্ভাস সিস্টেম শান্ত হয়। সকালের ক্লান্তি, অ্যাংজাইটি কাটে।

কীভাবে: পদ্মাসনে বা বসে করুন। মুখ বন্ধ। নাক দিয়ে শ্বাস নিন, গলার পিছনটা একটু সংকুচিত করুন। সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো ‘হহ’ আওয়াজ হবে। ৫ সেকেন্ড শ্বাস নিন, ৫ সেকেন্ড ছাড়ুন।

টিপস: ঘুম ভাঙার পর বিছানায় বসেই করুন। ১০ বার দিয়ে শুরু।

রুটিন শেষে ১ মিনিট শবাসন

চিত হয়ে শুয়ে পড়ুন। হাত-পা ছড়িয়ে দিন। চোখ বন্ধ। শরীরের এনার্জি ফিল করুন।

আরও ৩টে টিপস থাইরয়েড ক্লান্তি কমাতে

১. সকালে রোদ: ঘুম থেকে উঠে ১০ মিনিট বারান্দায় রোদে দাঁড়ান। ভিটামিন D, কর্টিসল ব্যালেন্স হয়।

২. জল: খালি পেটে ২ গ্লাস ঈষদুষ্ণ জল। হাইপোথাইরয়েডে ডিহাইড্রেশন হয়, ক্লান্তি বাড়ে।

৩. ওষুধের টাইম: থাইরক্সিন খালি পেটে, ঘুম থেকে উঠেই। ১ ঘণ্টা পর চা, খাবার।

কখন ডাক্তার দেখাবেন?

যোগা-ওষুধের পরেও যদি সারাদিন ঘুম পায়, ওজন হুহু করে বাড়ে, ডিপ্রেশন হয়, TSH ১০-এর উপর থাকে – ডোজ অ্যাডজাস্ট লাগতে পারে।

শেষ কথা:

থাইরয়েড মানে ‘সারাজীবন ক্লান্তি’ নয়। ওষুধ আপনার ব্রহ্মাস্ত্র, যোগা আপনার ঢাল।

১০ মিনিটের এই বেড-রুটিন TSH কমাবে না, কিন্তু TSH-এর জন্য যে এনার্জি চুরি যায়, সেটা ফেরত দেবে।

কাল সকালে অ্যালার্ম স্নুজ না করে, বিপরীত করণী করুন।

কারণ ক্লান্ত শরীর নিয়ে নয়, এনার্জি নিয়ে দিন শুরু হোক।