স্ট্রেস, একঘেয়েমি বা দাঁতের সমস্যার কারণে অনেকেরই অভ্যাস হয়ে যায় বারবার ঠোঁট কামড়ানো। প্রথমে ছোট ক্ষত মনে হলেও পরে তা থেকে ইনফেকশন, ফোলা আর দাগ হতে পারে। জেনে নিন কেন এমন হয় আর কীভাবে ঘরোয়া উপায়েই এই অভ্যাস ও ক্ষত দুটোই সারানো সম্ভব।

টেনশন হলেই ঠোঁট কামড়ানো, পড়তে বসে অন্যমনস্ক হয়ে ঠোঁটে কামড় বসানো, নাকি কথা বলতে গিয়ে জিভে কামড় লেগে যাওয়া — এই সমস্যা কমবেশি সবারই হয়। ডাক্তারি ভাষায় একে বলে "Dermatophagia" বা "Lip Biting Disorder"। মাঝে মধ্যে এক-দুবার হলে ক্ষতি নেই, কিন্তু যদি এটা "chronic" অভ্যাস হয়ে যায় তাহলে ঠোঁট ফুলে যায়, ঘা হয়, রক্ত বের হয় এবং পরে কালো দাগও থেকে যায়।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

ঠোঁটে বারবার কামড় পড়ার পিছনে কয়েকটি কারণ থাকে। সবচেয়ে কমন কারণ হল মানসিক চাপ আর অভ্যাস। পরীক্ষার চাপ, অফিসের টেনশন, একঘেয়েমি বা নার্ভাস লাগলে অনেকেই অজান্তেই ঠোঁট কামড়ায়। এটা মস্তিষ্কের "self-soothing" করার একটা উপায়। ধীরে ধীরে এটা এমন অভ্যাস হয়ে যায় যে আমরা নিজেরাও বুঝতে পারি না। দ্বিতীয় বড় কারণ হল দাঁতের সমস্যা। যাদের দাঁত উঁচু-নিচু বা বাঁকা, বা যারা নতুন ব্রেস লাগিয়েছেন তাদের খাওয়া বা কথা বলার সময় বারবার ঠোঁটে কামড় লেগে যায়। তৃতীয় কারণ হল শুষ্ক ঠোঁট। শীতকালে বা জল কম খাওয়ার ফলে ঠোঁট ফেটে যায়। সেই ওঠা চামড়া তুলতে গিয়েই আমরা কামড়ে দিই, যার ফলে ক্ষত আরও বাড়ে। চতুর্থ কারণ শরীরে ভিটামিনের অভাব। ভিটামিন B12, আয়রন বা জিঙ্ক কম থাকলে মুখের ভিতরে ঘা হয় এবং জ্বালার কারণে আমরা সেই জায়গায় বারবার কামড় দিই। আর পঞ্চম কারণ হল ঘুমের মধ্যে দাঁত কিড়মিড় করা। একে "Bruxism" বলে। ঘুমের মধ্যে এমন হলে সকালে উঠে ঠোঁট বা গালের ভিতরে ব্যথা টের পাওয়া যায়।

ঠোঁটে ঘা হয়ে গেলে ঘাবড়াবেন না। বাড়িতেই কয়েকটি সহজ উপায়ে তা সারানো যায়। নারকেল তেলের সাথে এক চিমটি কাঁচা হলুদ মিশিয়ে দিনে ৩-৪ বার লাগালে খুব তাড়াতাড়ি ব্যথা কমে। হলুদ অ্যান্টিসেপ্টিক আর নারকেল তেল ময়েশ্চার দেয়। কাঁচা মধুও দারুণ কাজ দেয়। ক্ষতের উপর মধু লাগিয়ে ১৫ মিনিট রেখে হালকা গরম জলে ধুয়ে ফেলুন। দিনে ২ বার করলেই ইনফেকশন হবে না। ঠোঁট ফুলে গেলে পরিষ্কার কাপড়ে বরফ নিয়ে ৫ মিনিট সেঁক দিন। এতে ফোলা আর ব্যথা দুটোই কমবে। টাটকা অ্যালোভেরার শাঁস লাগালেও। ঠান্ডা আরাম পাওয়া যায় এবং চামড়া দ্রুত জোড়া লাগে। এছাড়া ১ গ্লাস হালকা গরম জলে আধ চামচ নুন দিয়ে দিনে ২ বার কুলকুচি করলে মুখের ভিতর জীবাণু মরে যাবে। রাতে ঘুমানোর আগে ভিটামিন E ক্যাপসুল ফুটো করে তেলটা লাগালে দাগ হালকা হবে। আর সবচেয়ে জরুরি হল জল খাওয়া। দিনে ৩-৪ লিটার জল খেলে ঠোঁট ফাটবেই না।

কিন্তু শুধু ঘা সারালেই হবে না, অভ্যাসটাও ছাড়তে হবে। যখনই বুঝবেন ঠোঁট কামড়াচ্ছেন তখনই চুইংগাম চিবান বা এক গ্লাস জল খান। সবসময় ভালো লিপ বাম বা পেট্রোলিয়াম জেলি লাগিয়ে রাখুন। ঠোঁট নরম থাকলে কামড়ানোর প্রবণতা কমে। টেনশন কমাতে রোজ ১০ মিনিট মেডিটেশন বা হাঁটাহাঁটি করুন। আর যদি মনে হয় দাঁতের জন্য হচ্ছে, তাহলে ডেন্টিস্টের পরামর্শ নিয়ে দাঁত ঠিক করান বা রাতে নাইট গার্ড ব্যবহার করুন।

তবে কখন ডাক্তার দেখাবেন সেটাও জানা দরকার। যদি ১ সপ্তাহের বেশি ঘা না সারে, ক্রমাগত রক্ত বের হয়, পুঁজ হয় বা জ্বর আসে, তাহলে অবহেলা করবেন না। তখন ডাক্তারের কাছে গিয়ে ভিটামিনের পরীক্ষা করানো জরুরি।

ঠোঁট কামড়ানো ছোট অভ্যাস মনে হলেও একে হালকা ভাবে নেবেন না। একটু সচেতনতা আর ঘরোয়া যত্নই যথেষ্ট এই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য। নাহলে ছোট ক্ষত থেকেই বড় স্কার হয়ে যেতে পারে।