পোষ্যদের কিন্তু হিটস্ট্রোক হয়। তাই অতিরিক্ত হাঁপালে, লালা ঝরলে, বমি করলে, চোখ ঘোলাটে হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে শীতল জায়গায় নিয়ে যান।

তীব্র গরমে পোষ্য কুকুর বা বিড়ালের পশম সম্পূর্ণ কেটে ফেলা (Shaving) মারাত্মক ভুল। পশম তাদের শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং সরাসরি রোদে ত্বক পুড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে। পশম কেটে ফেললে হিটস্ট্রোক, ত্বকের ক্যানসার, সানবার্ন এবং মারাত্মক সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। তাদের শরীর ঠান্ডা রাখতে পশম কাটার বদলে নিয়মিত আঁচড়ানো (Brush) ও ঠান্ডা পরিবেশ নিশ্চিত করুন।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

পশম কাটার ভয়ংকর বিপদসমূহ:

তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ হারানো: কুকুরের লোম তাদের শরীরকে ইনসুলেশন দেয়, যা বাইরে থেকে গরম বাতাসকে ভেতরে আসতে বাধা দেয় এবং শরীর ঠান্ডা রাখে। লোম কেটে ফেললে শরীর সরাসরি গরমের সংস্পর্শে এসে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়।

সানবার্ন ও ত্বকের ক্যানসার: লোম শরীর থেকে অতিবেগুনি রশ্মি প্রতিরোধ করে। চামড়া বেরিয়ে পড়লে রোদে পুড়ে সানবার্ন (Sunburn) হতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে ত্বকের ক্যানসারের কারণ হতে পারে। ত্বকের সমস্যা: লোম কেটে ফেললে ত্বকে সরাসরি ধুলোবালি, পোকা-মাকড় এবং ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ বাড়ে। ফলে ফাঙ্গাল ইনফেকশন বা অ্যালার্জি হতে পারে।

মানসিক চাপ: পোষ্যরা তাদের লোম কেটে ফেললে অস্বস্তি ও মানসিক চাপে (Stress) ভুগতে পারে।

গরমে পোষ্যের যত্ন নেওয়ার সঠিক উপায়:

নিয়মিত ব্রাশ করা: প্রতিদিন ব্রাশ করলে মরা লোম ঝরে যায় এবং চামড়ায় হাওয়া চলাচল করে।

ঠান্ডা পরিবেশ: তাদের ঘরে ফ্যান বা এসি চালান। মেঝেতে শুতে দিন, প্রয়োজন হলে ভেজা তোয়ালে বা ম্যাটের ওপর শুতে দিতে পারেন।

পর্যাপ্ত জল: সবসময় পরিষ্কার ও ঠান্ডা জল পান করতে দিন। জলের পাত্র সবসময় ভর্তি রাখুন।

স্নান: প্রয়োজনে দিনে একাধিকবার সাধারণ জলে স্নান করাতে পারেন।

খাদ্যাভ্যাস: দই বা ফলের রস (তরমুজ) জাতীয় জলীয় খাবার দিন। ভারী খাবার কম দিন।

বিশেষ সতর্কতা: খুব বেশি গরম লাগলে বা পোষ্য ঝিমিয়ে পড়লে দ্রুত পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।