Durga Puja 2026: বাঙালির অন্যতম শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো শুরু হয়ে গেছে ইতিমধ্যেই। চলছে প্যান্ডেল হপিং। ঠিক তারপরেই যে বিষয়টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তা হল খাওয়াদাওয়া (Durga Puja 2026)। পুজোর খাওয়াদাওয়া মানেই স্পেশ্যাল। আর সেটা যদি হয় বাঙালি মেনু, তাহলে তো কথাই নেই। এবার তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ঠাকুরবাড়ির রান্না।

Durga Puja 2026: বাঙালির অন্যতম শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো শুরু হয়ে গেছে ইতিমধ্যেই। চলছে প্যান্ডেল হপিং। ঠিক তারপরেই যে বিষয়টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তা হল খাওয়াদাওয়া (Durga Puja 2026)। পুজোর খাওয়াদাওয়া মানেই স্পেশ্যাল। আর সেটা যদি হয় বাঙালি মেনু, তাহলে তো কথাই নেই। এবার তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ঠাকুরবাড়ির রান্না। যার সঙ্গে মিশে আছে বাঙালির আবেগ, ঐতিহ্য এবং ভালোবাসা। সেই ঠাকুরবাড়ির রান্নার হরেকরকম মেনু নিয়েই হাজির দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম রেস্টুরেন্ট ক্যালকাটা নস্টালজিয়া। কার্যত, "বইয়ের পাতা থেকে প্লেটে" ঠাকুরবাড়ির রান্নার স্বাদে যেন দুর্গাপুজোর নস্টালজিয়া খুঁজে পাচ্ছে বাঙালি।

"বইয়ের পাতা থেকে প্লেটে" ঠাকুরবাড়ির রান্নার স্বাদে দুর্গাপুজোর নস্টালজিয়া! কোথায়?

আট থেকে আশি, সবাই খুশি। একসঙ্গে দল বেঁধে কিংবা প্রেমের ফাঁকে, লাঞ্চে কিংবা ডিনারে, বাঙালি স্বাদের অন্যতম আঁতুড়ঘর হয়ে উঠেছে এই রেস্তোরাঁ। সবথেকে বড় বিষয় হল, এই রেস্তোরাঁর একেকটি ঘর একেকটি থিমের উপর ভিত্তি করে নির্মিত। কোনওটায় আছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, তো কোনওটায় আবার আছেন প্রবাদপ্রতিম চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায়। আরেকটি আছে মশলা ঘর। পুরনো দিনের বনেদি বাড়ির আদলে তৈরি একটি জোন রয়েছে। আবার আরেকটি ঘর আছে, যেখানে মা অন্নপূর্ণা বসে আছেন। অন্য একটি ঘর রয়েছে যেটি পটচিত্রের উপর ভিত্তি করে তৈরি।

আরও পড়ুন - Durga Puja 2026: যন্ত্র-চালিত সভ্যতা থেকে বাংলার নদী এবং প্রকৃতির মেলবন্ধন, দুর্গাপুজোর থিম তাক লাগাচ্ছে উত্তর থেকে দক্ষিণে

এই প্রসঙ্গে ক্যালকাটা নস্টালজিয়ার প্রতিষ্ঠাতা শ্রীমতী সুমনা বসু জানালেন, “আমাদের প্রত্যেকটি মেনুই স্পেশ্যাল। সেটাকেই আমরা ধরে রাখি এবং আগামীদিনেও তাই রাখব। প্রথমত একটা কথা বলি, আমরা সবার থেকে কেন আলাদা। তার কারণ, আমরা ঠাকুরবাড়ির রান্না নিয়ে কাজ করি। আমরা সেইসব মেনু নিয়ে রিসার্চ করি, পড়াশোনা করি। মূলত, আমরা প্রজ্ঞাসুন্দরী দেবীর রান্নার বই থেকে উদ্বুদ্ধ হই। তিনি ছিলেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাইঝি। ওনার সেই রান্নাগুলো নিয়ে আমরা ট্রায়াল দিই এবং তারপর সেগুলো মানুষের সামনে তুলে ধরি। আমাদের ট্যাগলাইন হল, বইয়ের পাতা থেকে প্লেটে।"

কী বলছেন ক্যালকাটা নস্টালজিয়ার প্রতিষ্ঠাতা?

তাঁর কথায়, “আমাদের খুব বিখ্যাত মেনুর মধ্যে রয়েছে বাগদা চিংড়ি ভাপে। এটা খুব ইউনিক একটা মেনু। শুধু গরম ভাত দিয়েই এটা খাওয়া হয়ে যাবে। এছাড়াও রয়েছে ক্ষীরের অমলেট। যেটা অসাধারণ একটা ডিশ। পাশাপাশি ইলিশ মাছেরও বেশ কিছু মেনু রয়েছে। যেমন আনন্দ ইলিশ, ইলিশের ঝালসি এবং ইলিশের উল্লাস - এই সবগুলোই ঠাকুরবাড়ির রান্না। ইলিশের উল্লাস একটু টক-ঝাল-মিষ্টি খেতে হয়। এবারের পুজোতে আমরা শুরু করেছি কাতলা মাছের ঘি রোস্ট এবং গলদা চিংড়ির ঘি রোস্ট। অন্যদিকে, আপনি পাবেন পাঁঠার বাংলা, যজ্ঞির পাঁঠা, মাংসের বিরিঞ্চি, মাংসের গড়গড়া। আসলে নামগুলোই ভীষণ স্পেশ্যাল। খেতেও দারুণ।"

সুমনাদেবীর মতে, "আসলে ক্যালকাটা নস্টালজিয়ার পরিচিতিটাই তৈরি হয়েছে ঠাকুরবাড়ির রান্না হিসেবে। ক্যালকাটা নস্টালজিয়া মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছে ঠাকুরবাড়ির বিশেষ বিশেষ মেনুর জন্যই। কারণ, মানুষকে আক্ষরিক অর্থেই নস্টালজিক হয়ে যায়।”

আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।