পুজোর ভিড়, ধুনোর ধোঁয়া, তীব্র আলো আর মাইকের আওয়াজে মাথা যন্ত্রণা হওয়া খুব সাধারণ সমস্যা। কিন্তু এই যন্ত্রণা থেকে কীভাবে দ্রুত মুক্তি পাবেন? রইল ৫টি কার্যকরী টিপস।

পুজোর দিনগুলিতে মণ্ডপে মণ্ডপে ঠাকুর দেখার আনন্দের মাঝেই হঠাৎ করে শুরু হয় মাথার দপদপানি। অষ্টমীর অঞ্জলি দিতে গিয়ে বা নবমীর রাতে ভিড়ের মাঝে অনেকেই এই সমস্যায় পড়েন। এর পিছনে মূলত তিনটি কারণ দায়ী। এক, মণ্ডপের ভিতরে ধুনোর তীব্র ধোঁয়া এবং অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়া। দুই, চারিদিকে লাগাতার ঝলমলে LED আলো এবং উচ্চস্বরে মাইক ও ঢাকের আওয়াজ, যা সরাসরি মাইগ্রেনকে ট্রিগার করে। আর তিন, সারাদিন ঘোরাঘুরির চক্করে পর্যাপ্ত জল না খাওয়া, খালি পেটে থাকা এবং রাত জাগা।

এই কষ্ট থেকে বাঁচতে কী করবেন? রইল পয়েন্ট করে বিস্তারিত উপায়:

১. জল খান বেশি করে: ব্যাগে সবসময় জলের বোতল রাখুন। ডিহাইড্রেশন থেকে মাথা ব্যথা সবচেয়ে বেশি হয়। পারলে মাঝে মাঝে ORS, ডাবের জল বা লেবু-জল খান। এতে শরীর হাইড্রেটেড থাকবে এবং মাথা ভার কমবে।

২. ধুনোর ধোঁয়া ও ভিড় এড়িয়ে চলুন: মণ্ডপে ধুনোর ধোঁয়ার সামনে বেশিক্ষণ দাঁড়াবেন না। ঠাকুর দেখে দ্রুত খোলা হাওয়ায় বেরিয়ে আসুন। খুব ভিড়ে বেশিক্ষণ না থাকাই ভালো। প্রয়োজনে পাতলা মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন, এতে ধোঁয়া সরাসরি নাকে ঢুকবে না।

৩. চোখ ও কানকে আরাম দিন: তীব্র LED আলোর দিকে একটানা তাকাবেন না। মাথা ধরলে কোনও অন্ধকার ও শান্ত জায়গায় ১০-১৫ মিনিট চোখ বন্ধ করে বসুন। রোদে বেরোলে অবশ্যই সানগ্লাস পরুন। কানে বেশি শব্দ লাগলে কিছুক্ষণ কানে তুলো দিয়ে রাখতে পারেন।

৪. খালি পেটে থাকবেন না: অনেকক্ষণ না খেয়ে থাকলে গ্যাস থেকে মাথা যন্ত্রণা শুরু হয়। তাই ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা অন্তর হালকা কিছু খেয়ে নিন। ভাজাভুজি বা অতিরিক্ত তেল-মশলাদার খাবার এড়িয়ে চলুন।

৫. হট-কোল্ড থেরাপি ও ঘরোয়া টোটকা: বাড়ি ফিরে মাথা যন্ত্রণা হলে কপালে ঠান্ডা জলের পট্টি দিন। ঘাড়ে হালকা গরম সেঁক দিলে রক্ত চলাচল বাড়ে ও ব্যথা দ্রুত কমে। এক কাপ আদা-চা বা পুদিনা পাতার গন্ধও মাথা ব্যথা কমাতে খুব কার্যকরী। এছাড়া ল্যাভেন্ডার তেল থাকলে কপালে হালকা মালিশ করতে পারেন।

তবে যদি মাথা ব্যথার সঙ্গে বমি, চোখে ঝাপসা দেখা বা ব্যথা ২-৩ দিন ধরে চলতে থাকে, তাহলে অবহেলা না করে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন।