প্রথমবার ট্রেকিংয়ে যাওয়ার জন্য সহজ রুট বেছে নেওয়াই ভাল। সান্দাকফু থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা আর এভারেস্টের দৃশ্য, নাগ টিব্বায় হিমালয়ের ৩৬০ ডিগ্রি ভিউ, ত্রিউন্ডে তারাভরা রাতের আকাশ, রাজমাচি ফোর্টের বর্ষার সবুজ আর কুদ্রেমুখের মেঘ-চা বাগান — এই ৫টি স্পট নতুনদের জন্য আদর্শ। হালকা ব্যাগ, ভালো জুতো আর গাইডের সঙ্গে গেলে ট্রেকিংয়ের অভিজ্ঞতা নিরাপদ ও আনন্দের হবে।
পাহাড়ের ডাক শুনছেন কিন্তু প্রথম ট্রেকিং নিয়ে ভয়? খুব কঠিন রুট বেছে নিলে শরীরে চাপ পড়ে আর অভিজ্ঞতা খারাপ হতে পারে। তাই শুরু করুন ছোট, সহজ আর মনোরম ট্রেক দিয়ে। এতে কনফিডেন্স বাড়বে আর প্রকৃতির মজাও নিতে পারবেন।
সান্দাকফু, নর্থ বেঙ্গল নতুনদের জন্য সেরা পিক। ১,৯৩০ ফুট উচ্চতায় এখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা, এভারেস্ট, লোৎসে আর মাকালু একসঙ্গে দেখা যায়, যাকে বলে স্লিপিং বুদ্ধা। রুট ৩২ কিমি, ৪-৫ দিনের ট্রেক। পথে মেঘের সমুদ্র আর বসন্তে রডোডেনড্রনের ফুল মন কাড়বে। ট্রেকার্স হাটে থাকা আর গরম খাবারের ব্যবস্থা আছে।
নাগ টিব্বা, উত্তরাখণ্ড: দিল্লি থেকে ৩০০ কিমি, মাত্র দুই দিনের ট্রেক। ৯,৯১৫ ফুট উচ্চতায় বরফে ঢাকা হিমালয়ের ৩৬০ ডিগ্রি ভিউ পাওয়া যায়। ঘন ওক আর রডোডেনড্রনের জঙ্গল পেরিয়ে ছোট পাহাড়ি গ্রাম দেখতে দেখতে এগোতে হয়। শীতকালে এখানে হালকা বরফ পড়ে, যা অভিজ্ঞতাটা আরও সুন্দর করে তোলে।
ত্রিউন্ড, হিমাচল: ধর্মশালা থেকে মাত্র ৯ কিমি। ৯,৩৫০ ফুট উচ্চতায় ধৌলাধর রেঞ্জের কোলে এই ট্রেক। দিনে উঠে রাতে টেন্টে ক্যাম্প করে পরদিন নেমে আসা যায়। রাতে আকাশভরা তারার দৃশ্য আর ভোরে সূর্যোদয় ভোলার নয়।
রাজমাচি ফোর্ট, মহারাষ্ট্র: মুম্বাই-পুনের মাঝে ৫-৬ ঘণ্টার ছোট ট্রেক। উচ্চতা ২,৭০ ফুট। বর্ষায় চারপাশ সবুজ হয়ে যায় আর ছোট ছোট ঝরনা তৈরি হয়। রাস্তা মোটামুটি সহজ আর ভিড়ও কম।
কুদ্রেমুখ, কর্ণাটক : মেঘ আর চা বাগানের জন্য বিখ্যাত। ৬,২০৭ ফুট উচ্চতায় ঘন জঙ্গল আর নদী পেরোতে হয়। রুট মাঝারি হলেও দৃশ্য একদম ছবির মতো।
প্রথমবার ট্রেকিংয়ে হালকা ব্যাগপ্যাক, ভালো ট্রেকিং শু, ওয়াটার বটল আর ফার্স্ট এইড রাখুন। একা না গিয়ে গ্রুপ বা গাইডের সঙ্গে যান। আবহাওয়ার খোঁজ নিয়ে বেরোবেন। ট্রেকিং মানে শুধু পাহাড়ে ওঠা নয়, নিজেকে নতুন করে চেনা। ছোট রুট দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে কঠিন পথের দিকে এগোন।
