Health News: গরমে প্রাণ জুড়াতে টক দই খান? ভালো কথা। কিন্তু তাতে চামচ চামচ চিনি বা এক চিমটে নুন ফেলে খাচ্ছেন? তাহলেই সর্বনাশ। চিকিৎসকরা বলছেন, দইয়ের আসল পাওয়ার হল প্রোবায়োটিক। আয়ুর্বেদও বলছে, দই-নুন বিরুদ্ধ আহার। মানে অমৃতকে বিষ বানাচ্ছেন নিজের হাতে। তাহলে খাবেন কীভাবে? জেনে নিন ডাক্তারদের সঠিক নিয়ম।

Health News: দই মানেই সুপারফুড। পেট ঠান্ডা রাখে, হজম করায়, ক্যালসিয়াম দেয়, ইমিউনিটি বাড়ায়। কিন্তু আমরা বাঙালিরা দই খাই দুভাবে—হয় মিষ্টি দই, নয় তো ভাতের সাথে নুন-লঙ্কা দিয়ে। আর এখানেই ভুল। এই দুটো জিনিস দইয়ের ৯০% গুণ নষ্ট করে দেয়। এমস-এর গ্যাস্ট্রো ডিপার্টমেন্ট বলছে, ভুল ভাবে দই খেলে উপকারের বদলে গ্যাস, ফ্যাটি লিভার, হাই প্রেশার, এমনকি কিডনি স্টোন পর্যন্ত হতে পারে। বিষ না খেলেও, বিষ বানিয়ে খাচ্ছেন রোজ।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

কীভাবে টকদই খাওয়া সবথেকে উপকারি?

টক দইয়ের আসল ইউএসপি হল ‘লাইভ ব্যাকটেরিয়া’ বা প্রোবায়োটিক। ল্যাকটোব্যাসিলাস নামের এই ভালো ব্যাকটেরিয়া পেটের খারাপ ব্যাকটেরিয়াকে মেরে হজম ঠিক রাখে। এবার আপনি যখন এতে চিনি ঢালেন, তখন কী হয়? চিনি হল ব্যাকটেরিয়ার ফেভারিট খাবার। দইয়ের ভিতর চিনি পেয়ে প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া হাইপার-অ্যাকটিভ হয়ে যায়। ফারমেন্টেশন শুরু হয়। এই ফারমেন্টেশনে তৈরি হয় ইথানল, মানে অ্যালকোহল, আর কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাস।

তাই চিনি দিয়ে দই খাওয়ার ১ ঘণ্টা পরেই পেট ফাঁপে, ঢেকুর ওঠে, গ্যাস হয়। রোজ খেলে ফ্যাটি লিভারের রিস্ক ৩ গুণ বাড়ে। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য তো এটা স্লো-পয়জন। ১০০ গ্রাম টক দইয়ে ৪ গ্রাম সুগার এমনিই থাকে। তার উপর ২ চামচ চিনি মানে আরও ১০ গ্রাম। টোটাল ১৪ গ্রাম সুগার একবারে। সুগার স্পাইক হবেই। এন্ডোক্রিনোলজিস্ট ডা. অরূপ দাস বলছেন, “ডায়াবেটিক পেশেন্টরা মিষ্টি দই খেয়ে ভাবেন দই তো ভালো। আসলে নিজের সুগার নিজেই বাড়াচ্ছেন।”

এবার আসি নুনে। আয়ুর্বেদে দই আর নুনকে ‘বিরুদ্ধ আহার’ বলা হয়েছে। মানে দুটো জিনিস একসাথে খেলে শরীরে টক্সিন তৈরি হয়। মডার্ন সায়েন্সও তাই বলছে। দইয়ে আছে প্রচুর ক্যালসিয়াম। আর নুন মানে সোডিয়াম। সোডিয়াম শরীরে ঢুকলে ক্যালসিয়ামকে ইউরিন দিয়ে বের করে দেয়। ফলে হাড়ের বদলে কিডনিতে জমে ক্যালসিয়াম স্টোন হয়। দ্বিতীয় লস, নুন দইয়ের প্রোবায়োটিক মেরে ফেলে। নোনতা পরিবেশে ভালো ব্যাকটেরিয়া বাঁচে না।

হাই প্রেশারের রোগী ভাতের সাথে নুন-দই খেলে কী হবে ভাবুন। দইয়ে এমনিতেই সোডিয়াম আছে, তার উপর এক্সট্রা নুন। প্রেশার লাফিয়ে বাড়বে। ১ চিমটে নুন মানে ৪০০ মিলিগ্রাম সোডিয়াম। দিনে ১৫০০ মিলিগ্রামের বেশি সোডিয়াম কিডনির জন্য খারাপ। নেফ্রোলজিস্টরা তাই কিডনি পেশেন্টদের নুন-দই স্ট্রিক্টলি মানা করেন। সাথে গ্যাস-অম্বলের রোগীরাও নুন-দই খাবেন না। এতে পেটে অ্যাসিড আরও বাড়ে।

তাহলে খাবেন কীভাবে? ডাক্তারদের ৪টে গোল্ডেন রুল মানুন। এক, দই খান একদম টক, ফ্লেভার ছাড়া। দুই, খালি পেটে কখনও না। অ্যাসিডিটি হবে। ভরা পেটে, দুপুরে ভাত খাওয়ার ৩০ মিনিট পর বেস্ট টাইম। তিন, রাতে দই নৈব নৈব চ। আয়ুর্বেদ মতে, রাতে দই কফ বাড়ায়, সর্দি-কাশি হয়। মডার্ন ডাক্তাররাও বলেন, রাতে দই হজম হয় না, মিউকাস তৈরি করে। চার, দইয়ের সাথে মেশাতে পারেন জিরে গুঁড়ো, পুদিনা, বিটনুন খুব সামান্য, বা শসা-পেঁয়াজ। এতে হজম হবে, স্বাদও বাড়বে, ক্ষতিও নেই।

মিষ্টি খেতে ইচ্ছে করলে কী করবেন? চিনির বদলে ২-৩টে খেজুর কুচি বা এক চামচ মধু মেশান। তবে ডায়াবেটিক হলে সেটাও ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করে। ফ্রুট মেশাতে চাইলে কলা বা আম মেশান, কিন্তু সাথে সাথে খেয়ে নিন। ফেলে রাখবেন না। কারণ ফলের সুগারেও দই ফারমেন্ট হতে শুরু করে। আর একটা কথা, প্যাকেটের ফ্লেভারড ইয়োগার্ট একদম না। ওতে ২০-২৫ গ্রাম চিনি থাকে। ওটা দই না, ডেজার্ট।

বাচ্চা, বয়স্ক, প্রেগন্যান্ট মায়েরা দই খান, খুব ভালো। কিন্তু চিনি-নুন ছাড়া। বাচ্চাকে রোজ ১ বাটি টক দই দিন, ওর পেট আর হাড় দুটোই স্ট্রং হবে। কিন্তু মিষ্টি দই অভ্যাস করালে ছোট থেকেই সুগার অ্যাডিকশন তৈরি হবে। মনে রাখবেন, দই হল প্রকৃতির প্রোবায়োটিক ক্যাপসুল। তার উপর চিনি-নুন ঢেলে সেটাকে নষ্ট করবেন না।

এই আর্টিকেল সাধারণ স্বাস্থ্য সচেতনতার জন্য। ডায়াবেটিস, হাই প্রেশার, কিডনি রোগ বা আইবিএস-এর রোগীরা নিজের ডাক্তার বা ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ ছাড়া খাদ্যাভ্যাস বদলাবেন না। প্রত্যেকের শরীর আলাদা, তাই প্রয়োজনও আলাদা। কোনও শারীরিক সমস্যায় রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শই শেষ কথা।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।