আঙুলের ছাপ কীভাবে তৈরি হয়? কেন সবার আঙুলের ছাপ অনন্য? গর্ভাবস্থার দশম সপ্তাহের প্রথম দিকে আঙুলের ছাপ তৈরি হতে শুরু করে।
আঙুলের ছাপ (Fingerprint) মায়ের গর্ভে ভ্রূণ অবস্থায়, সাধারণত গর্ভধারণের ১০ থেকে ১৬ সপ্তাহের মধ্যে, ত্বকের এপিডার্মিস ও ডার্মিস স্তরের ভিন্ন গতির বৃদ্ধির ফলে তৈরি হয়। এটি মূলত জিনগত প্রভাব এবং গর্ভস্থ পরিবেশের (জরায়ুর চাপ, অ্যামনিওটিক তরলের ঘনত্ব, পুষ্টি) অনন্য সংমিশ্রণের ফল। যেহেতু প্রতিটি ভ্রূণের পরিবেশ ও চাপের তারতম্য ভিন্ন, তাই প্রত্যেকের ছাপ অনন্য ও আলাদা হয়—এমনকি যমজদেরও।
আঙুলের ছাপ কীভাবে তৈরি হয়? (বিস্তারিত প্রক্রিয়া)
* ভ্রূণীয় বিকাশ (Volar Pads): গর্ভাবস্থার ৬-৭ সপ্তাহের দিকে, ভ্রূণের হাতের তালু এবং আঙুলের ডগায় ‘ভোলার প্যাড’ (Volar pads) বা চর্বির আস্তরণ তৈরি হয়।
* ত্বকের স্তর বৃদ্ধি: ৯-১০ সপ্তাহের দিকে, এই প্যাডগুলোর বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়, কিন্তু হাত ও আঙুল বাড়তে থাকে। এই সময়ে, ত্বকের গভীর স্তর (Basal layer) ওপরের স্তরের চেয়ে দ্রুত বৃদ্ধি পায়, যার ফলে এপিডার্মিস এবং ডার্মিস স্তরে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়।
* ঘর্ষণ রেখা (Friction Ridges): চাপের কারণে চামড়ার নিচে ভাঁজ বা খাঁজ তৈরি হয়, যা লুপ, ধনুকাকৃতি (Arch) বা ঘূর্ণির (Whorl) মতো প্যাটার্ন গঠন করে।
* পরিবেশের প্রভাব: এই প্যাটার্ন তৈরির সময় ভ্রূণটি জরায়ুর ভেতরে কীভাবে অবস্থান করছে, অ্যামনিওটিক তরলের চাপ, এমনকি ভ্রূণের রক্তচাপ—এই সবকিছুর ওপর ভিত্তি করে রেখাগুলো নির্দিষ্ট আকার ধারণ করে।
কেন সকলের 'ফিঙ্গারপ্রিন্ট' আলাদা হবেই?
১. জটিল ও অনন্য পরিবেশ (Chaotic Growth): যদিও জিন বা DNA আঙুলের ছাপের প্রাথমিক ধরন (Pattern) ঠিক করে, কিন্তু ছাপের (Minutiae) নির্ধারিত হয় গর্ভস্থ পরিবেশের অনন্যতার ওপর।
২. যমজদের ক্ষেত্রেও ভিন্নতা: অভিন্ন যমজদের (Identical twins) DNA একই হলেও, গর্ভে তাদের প্রত্যেকের শারীরিক অবস্থান ও নড়াচড়ার কারণে আঙুলের চাপ ভিন্ন হয়, ফলে তাদের ফিঙ্গারপ্রিন্টও আলাদা হয়।
৩. আকৃতি ও চাপের তারতম্য: ভোলার প্যাডের আকার, এটি কত দ্রুত বা ধীরগতিতে বাড়ছে, এবং আঙুলের ত্বকের ওপর কী পরিমাণ চাপ পড়ছে, তা প্রতিটা আঙুলের জন্য আলাদা।
৪. কখনো পরিবর্তন হয় না: একবার তৈরি হয়ে গেলে, সারাজীবনে এই ছাপের মৌলিক প্যাটার্ন পরিবর্তিত হয় না।
উপসংহার: আঙুলের ছাপ হলো 'মাল্টিফ্যাক্টোরিয়াল ইনহেরিটেন্স' বা জিন এবং পরিবেশের জটিল মিথস্ক্রিয়ার অনন্য ফলাফল। এটি একেকজন মানুষের সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত স্বাক্ষর।


