ছুটি এলেই আমরা একটা জায়গায় গিয়েই আটকে যাই। হয় সমুদ্রের ঢেউ, নয় পাহাড়ের ভিড়। কিন্তু মনটা তো আসলে শান্তি চায়। একটু নিস্তব্ধতা, একটু সবুজ আর একটু নিজের সময়। এই সবকিছু একসঙ্গে পেতে চাইলে ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়ুন পুরুলিয়ার দুয়ারসিনির জন্য
ছুটি এলেই আমরা একটা জায়গায় গিয়েই আটকে যাই। হয় সমুদ্রের ঢেউ, নয় পাহাড়ের ভিড়। কিন্তু মনটা তো আসলে শান্তি চায়। একটু নিস্তব্ধতা, একটু সবুজ আর একটু নিজের সময়। এই সবকিছু একসঙ্গে পেতে চাইলে ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়ুন পুরুলিয়ার দুয়ারসিনির জন্য। নামটা হয়তো অনেকেই শোনেন নি। কলকাতা থেকে মাত্র ৪-৫ ঘণ্টা পুরুলিয়ার দুয়ারসিনি। শুক্রবার অফিসের পর বেরোলেও শনিবার সকালে পৌঁছে যেতে পারবেন।
প্রথম দিন: জঙ্গলের কোলে আত্মীয়তা:
পৌঁছে প্রথমেই মন ভালো হয়ে যাবে। চারপাশে শুধু শাল-মহুয়া-পিয়ালের জঙ্গল। মাঝে মাঝে ছোট টিলা। থাকার জন্য সবচেয়ে ভালো হল ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টের বনবাংলো। লাল মাটির রাস্তা, কাঠের দরজা, সামনে খোলা বারান্দা। জানালা খুললেই দেখবেন দূরে দুয়ারসিনি পাহাড় মেঘের সাথে লুকোচুরি খেলছে। এখানে WiFi নেই, টিভি নেই। আছে শুধু পাখির ডাক আর হাওয়ার শব্দ।
দুপুরে বাংলোতেই গরম ভাত, ডাল, আলুভাজা আর দেশি মুরগির ঝোল। খেয়ে একটু বিশ্রাম নিয়ে বিকেলে হাঁটতে হাঁটতে চলে যান ভৈরব নদীর ধারে। নদীতে খুব জল না থাকলেও পাথরের ওপর দিয়ে জলের শব্দটা ভারী মিষ্টি। সূর্য যখন পাহাড়ের পিছনে ডোবে, গোটা আকাশটা কমলা-লাল হয়ে যায়। সেই দৃশ্য ক্যামেরায় বন্দি নাl করে চোখে বন্দি করুন। রাতে বাংলোর উঠোনে বসে আকাশ ভরা তারা দেখুন। শহরের দূষণে যে তারা আমরা ভুলেই গেছি, এখানে তারা হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যায়।
দ্বিতীয় দিন: মেঘ ছোঁয়া আর ঝরনার গান
অ্যালার্ম দিন ভোর ৫টায়। কুয়াশা মাখা রাস্তা দিয়ে ১৫ মিনিট হাঁটলেই দুয়ারসিনি ভিউ পয়েন্ট। ওপরে উঠতেই চোখ জুড়িয়ে যাবে। নীচের পুরো উপত্যকা সাদা তুলোর মতো মেঘে ঢাকা। মনে হবে আপনি পৃথিবীর ওপরে ভাসছেন। ফটো তোলার জন্য এর থেকে ভালো জায়গা হয় না।
ফেরার পথে ব্রেকফাস্ট সেরে বেরিয়ে পড়ুন আশেপাশের স্পটে। প্রথমে বুরুডিহি লেক। পাহাড়ের কোলে নীল জল। বোটিং না করলেও পাড়ে বসে থাকতেই ১ ঘণ্টা কেটে যাবে। তারপর ধারাগিরি ঝরনা। বর্ষায় এই ঝরনা পুরো যৌবন ফিরে পায়। জলের ছাঁট এসে গায়ে লাগলে সব ক্লান্তি উধাও।
দুপুরে ফিরে এসে আদিবাসী গ্রামে একটু ঢুঁ মারুন। ওদের হাতের বানানো শোলার কাজ, মাটির পুতুল কিনতে পারেন। বিকেলে জঙ্গলের রাস্তায় সাইকেল নিয়ে ঘুরুন বা শুধু বসে বসে জঙ্গলের গন্ধ নিন।
খরচ কেমন?
দুয়ারসিনি বিলাসিতার জায়গা না। এটা মন ভালো করার জায়গা। ২ জন গেলে ২ দিন ১ রাত থাকা-খাওয়া-ঘোরা নিয়ে ৫০০০-৭০০০ টাকায় হয়ে যাবে। বনবাংলো ১৫০০-২০০০ টাকা প্রতিদিন। খাওয়া-দাওয়া ৪০০-৫০০ টাকায় পেট ভরে যাবে।
কখন যাবেন?
জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি। বর্ষায় চারপাশ সবুজ আর ঝরনা ভরা। শীতে সকাল-সন্ধ্যা কুয়াশা আর হালকা ঠান্ডা। গরমে একটু কষ্ট হবে কারণ AC নেই।
কীভাবে যাবেন:
কলকাতা থেকে ট্রেনে চড়ে ঘাটশিলা রেল স্টেশনে পৌঁছানো। ঘাটশিলা থেকে প্রায় ২৫ কিমি দূরে দুয়ারসিনির জন্য একটি ক্যাব বুক করুন। যদি আপনি কলকাতা থেকে সড়কপথে যান, তবে এটি ৬ ঘণ্টার যাত্রা হবে।
থাকার বুকিং: wbfdc.net ওয়েবসাইট থেকে বনবাংলো বুক করুন। এছাড়া Duarsini Nature Camp আর Amlashol Eco Hut ও ভালো অপশন।
দুয়ারসিনি আপনাকে বড় কোনো স্মৃতিস্তম্ভ দেখাবে না। সে দেখাবে এক কাপ চায়ের সাথে মেঘ দেখার সুখ। দেখাবে নদীর ধারে বসে কোনো চিন্তা না করার শান্তি। ২টো দিন ফোনটা দূরে রেখে শুধু নিজের সাথে সময় কাটান। ফিরে এসে দেখবেন কাজের এনার্জি দ্বিগুণ হয়ে গেছে।
