৩০-এর পর মাতৃত্বের প্ল্যান? জানুন Egg Freezing vs Embryo Freezing এর সুবিধা-অসুবিধা, সাফল্যের হার এবং ভারতে মোট খরচ।
বয়স ৩০ পেরোলেই মাথায় আসে - "ক্যারিয়ার আগে না বাচ্চা?" ভালো খবর হল, এখন বিজ্ঞানের জন্য বয়স আর বাধা নয়। ডিম্বাণু বা ভ্রূণ সংরক্ষণ করে আপনি মাতৃত্বকে কয়েক বছরের জন্য "পজ" করে রাখতে পারেন। ৩৫ এর পর মেয়েদের ডিম্বাণুর সংখ্যা আর গুণগত মান দুটোই দ্রুত কমতে থাকে। তাই ক্যারিয়ার, পড়াশোনা বা সঠিক পার্টনারের জন্য অপেক্ষা করলে ফার্টিলিটি ডাক্তাররা "ফ্রিজ" করার পরামর্শ দিচ্ছেন। কিন্তু প্রশ্ন হল ফ্রিজ করবেন কী? শুধু ডিম্বাণু, নাকি স্বামীর শুক্রাণু দিয়ে ভ্রূণ বানিয়ে?
ডিম্বাণু সংরক্ষণ কাদের জন্য? এটা মূলত অবিবাহিত মহিলাদের জন্য। যাদের এখনো বিয়ে বা পার্টনার ঠিক হয়নি, কিন্তু ভবিষ্যতে মা হতে চান। এই প্রসেসে আপনাকে কয়েকদিন হরমোন ইনজেকশন নিতে হবে ডিম্বাণু বাড়ানোর জন্য। তারপর সামান্য অপারেশনের মাধ্যমে ডিম্বাণু তুলে সেটা লিকুইড নাইট্রোজেনে -196 ডিগ্রিতে ফ্রিজ করে রাখা হয়। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হল স্বাধীনতা। ভবিষ্যতে কার সাথে বিয়ে হবে সেটা ঠিক করার জন্য আপনার হাতে সময় থাকে। অসুবিধা হল, পরে IVF করতে গেলে শুক্রাণু লাগবেই। আর ডিম্বাণু থেকে বাচ্চা হওয়ার সাফল্যের হার ভ্রূণের তুলনায় একটু কম।
ভ্রূণ সংরক্ষণ কাদের জন্য? এটা বিবাহিত দম্পতিদের জন্য বেশি প্রচলিত। এখানে প্রথমে আপনার ডিম্বাণু আর স্বামীর শুক্রাণু নিয়ে ল্যাবে ভ্রূণ তৈরি করা হয়। 3 থেকে 5 দিনের ভ্রূণটাকে তারপর ফ্রিজ করা হয়। এর সুবিধা হল সাফল্যের হার। ফ্রোজেন ভ্রূণ ট্রান্সফার করলে প্রেগন্যান্সির চান্স 40-60% পর্যন্ত হয়। অসুবিধা হল এখনই স্বামীর সিদ্ধান্ত লাগবে। ভবিষ্যতে যদি কোনো কারণে পার্টনার বদলায়, তাহলে ওই ভ্রূণ ব্যবহার করা নিয়ে আইনি জটিলতা আসতে পারে।
সাফল্যের হার কেমন? ডাক্তাররা বলছেন, 35 বছরের আগে ফ্রিজ করলে রেজাল্ট সবচেয়ে ভালো হয়। প্রতি 1টি ফ্রোজেন ডিম্বাণু থেকে বাচ্চা হওয়ার চান্স প্রায় 4-12%। তাই ডাক্তাররা 15-20টা ডিম্বাণু জমিয়ে রাখতে বলেন। অন্যদিকে প্রতি 1টি ফ্রোজেন ভ্রূণ ট্রান্সফারে সাফল্য 40-60% পর্যন্ত। মানে ভ্রূণের সাফল্য একটু বেশি, কিন্তু ডিম্বাণু আপনাকে ভবিষ্যতের অপশন দেয়।
খরচ কত পড়বে ভারতে? 2026 এর হিসাব কি বলছে: খরচ শহর আর হাসপাতাল ভেদে আলাদা। কলকাতা, দিল্লি, মুম্বাইতে মোটামুটি এইরকম।
ডিম্বাণু সংরক্ষণের জন্য 1টি সাইকেলে খরচ পড়বে 1 লাখ থেকে 1.8 লাখ টাকা। এর মধ্যে হরমোন, ডিম্বাণু তোলা, ল্যাব চার্জ সব ধরা থাকে। তারপর প্রতি বছর স্টোরেজের জন্য আলাদা 15,000 থেকে 30,000 টাকা দিতে হবে।
ভ্রূণ সংরক্ষণ করলে 1টি IVF + ভ্রূণ ফ্রিজ করতে 1.5 লাখ থেকে 2.5 লাখ টাকা লাগে। স্টোরেজ চার্জ ডিম্বাণুর মতোই বছরে 15,000 থেকে 30,000 টাকা।
আর একটা কথা মাথায় রাখবেন। যখন আপনি ফ্রোজেন ডিম্বাণু বা ভ্রূণ ব্যবহার করে বাচ্চা নিতে চাইবেন, তখন IVF বা ভ্রূণ ট্রান্সফারের জন্য আলাদা করে আরও 80,000 থেকে 1.2 লাখ টাকা খরচ হবে।
তাহলে কোনটা বাছবেন? ডাক্তারদের সোজা সাজেশন 3টে। আপনি যদি অবিবাহিত হন বা পার্টনার এখনো ঠিক না থাকে, তাহলে ডিম্বাণু ফ্রিজ করুন। এটা আপনার স্বাধীনতা বাঁচাবে। আর আপনি যদি বিবাহিত হন এবং স্বামী রাজি থাকে, তাহলে ভ্রূণ ফ্রিজ করুন। কারণ সাফল্যের হার বেশি। আর সবচেয়ে জরুরি, বয়স 30-35 এর মধ্যে করুন। যত আগে করবেন, ডিম্বাণুর কোয়ালিটি তত ভালো থাকবে।
ফার্টিলিটি সংরক্ষণ মানে ভয় পাওয়া নয়, এটা ক্ষমতা। বয়সকে মাথায় না রেখে নিজের শর্তে মা হওয়ার ক্ষমতা। কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই একজন ফার্টিলিটি স্পেশালিস্টের সাথে AMH টেস্ট আর কাউন্সেলিং করে নিন।
