গুজরাটের বনাসকণ্ঠের ডিসায় তৈরি হচ্ছে এশিয়ার প্রথম মরুভূমি থিমের ড্রাইভিং নাইট সাফারি। রাতে গাড়িতে বসেই দেখুন থরের নিশাচর রূপ। CZA ছাড়পত্র মিলেছে।
ভাবুন তো, চারপাশে শুধু বালি আর নিস্তব্ধতা। দূরে কোথাও একটা শেয়াল ডেকে উঠল। আকাশে কোটি তারা। আর আপনি গাড়ির জানলা দিয়ে দেখছেন থর মরুভূমির একেবারে অন্য একটা রূপ। এই স্বপ্ন এবার সত্যি হতে চলেছে। গুজরাটের বনস্কণ্ঠ জেলার ডিসা-তে।
ভারতের বন্যপ্রাণী পর্যটনে পাল্টাতে চলেছে খেলার নিয়ম। কারণ এখানেই গড়ে উঠছে এশিয়ার প্রথম মরুভূমি থিমের ড্রাইভিং নাইট সাফারি এবং ট্রপিক্যাল জুলজিক্যাল পার্ক।
ডিসা কেন স্পেশাল? কারণ এটা থর-এর দোরগোড়ায়। বনাসকণ্ঠের ডিসা মানেই ধু-ধু বালি, কাঁটাঝোপ আর মরু-জীবন। দিনের আলোয় যে মরুভূমি আমরা দেখি, রাত নামলে সে একদম বদলে যায়। আর সেই "রাতের থর"-কেই এবার পর্যটকদের সামনে তুলে ধরবে গুজরাট সরকার।
এখানে কী কী চমক থাকছে?
১. ড্রাইভিং নাইট সাফারি - এশিয়ায় প্রথম নিজের গাড়ি নিয়ে, বা সাফারি ভ্যানে চড়ে আপনি ঘুরবেন মরুভূমির বুক চিরে। চাঁদের আলোর মতো নরম আলো থাকবে, যাতে প্রাণীরা ভয় না পায়। আর আপনি দেখবেন কারাকালের চোখ জ্বলজ্বল করা, মরু শেয়ালের দৌড়, আর সরীসৃপদের রাতের কার্যকলাপ। দিনের সাফারি তো অনেক দেখেছেন, রাতের অ্যাডভেঞ্চার কেমন হয়?
২. ট্রপিক্যাল জুলজিক্যাল পার্ক শুধু মরুভূমি নয়। একই ছাদের তলায় পেয়ে যাবেন ট্রপিক্যাল জোনও। মানে সকালে মরুভূমি, বিকেলে রেইনফরেস্ট - দুই দুনিয়া একসাথে।
৩. থর-এর আসল ফিল পুরো পার্ক সাজানো হবে থর-এর আদলে। মরুভূমির গাছ, লালচে বালি, আর এখানকারই স্থানীয় প্রাণী। এটা চিড়িয়াখানা নয়, এটা একটা "জীবন্ত মরুভূমি"।
সবচেয়ে বড় আপডেট কী? Central Zoo Authority - CZA-র চূড়ান্ত সবুজ সংকেত মিলে গেছে। মানে এটা আর কাগজের প্রজেক্ট নেই। কাজ এখন ফুল স্পিডে চলছে। আগামী ২-৩ বছরের মধ্যেই গেট খুলে যাবে বলে আশা।
এটা শুধু সাফারি নয়, এটা একটা অনুভূতি: সিঙ্গাপুরের নাইট সাফারি, লখনউ-এর কুকরাইল আমরা শুনেছি। কিন্তু মরুভূমির রাত! সেটা এশিয়ায় এই প্রথম। স্থানীয়দের জন্য নতুন রোজগার, গুজরাটের জন্য নতুন ট্যুরিজম হাব, আর আমাদের জন্য একটা নতুন গল্প।
জয়সলমেরে আমরা সূর্যাস্ত দেখে ফিরে আসি। এবার গুজরাট বলছে, "থামুন। রাতটা থেকে যান। থর-এর আসল রূপটা তো রাতেই"। CZA ছাড়পত্র পেয়ে গেছে। এবার শুধু দিন গোনার পালা।
