১. রাতে ঘুম আসে না বা ৩টেয় ঘুম ভেঙে যায়। ২. খাবারে অরুচি বা উল্টে বেশি খাওয়া। ৩. অল্পতেই রেগে যাওয়া, বউ-বাচ্চার সাথে চিৎকার। ৪. বুকের বাঁ দিকে চিনচিনে ব্যথা বা বাঁ হাত ঝিনঝিন। ৫. সেক্সের ইচ্ছা কমে যাওয়া + ক্লান্তি। এগুলো স্ট্রেস না, শরীরের SOS কল।

সকাল ৯টা অফিস, রাত ১০টা বাড়ি। ফিরে বাচ্চাকে পড়ানো, বাবার প্রেসারের ওষুধ দেওয়া। নিজের জন্য সময়? রাত ১২টায় ফোন ঘাঁটতে ঘাঁটতে ঘুম। সকালে উঠে মনে হয় "কাল রাত জাগিনি তো"। চা খেয়ে অফিস। বুকের মাঝে মাঝে একটা চাপ। ভাবো "গ্যাস হয়েছে"।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

এই রুটিন চলতে চলতে একদিন বাথরুমে জ্ঞান হারাও। বাড়ির লোক হাসপাতালে দৌড়ায়। ডাক্তার বলেন "Massive Heart Attack, Age 42"।

পুরুষদের সমস্যা এটাই। আমরা নিজের চেক ইঞ্জিন লাইট জ্বলা দেখেও গাড়ি চালিয়ে যাই। যতক্ষণ না ইঞ্জিন সিজ করে।

শরীর যে ৫টা SOS পাঠায়, সেটা ধরো:

লক্ষণ ১: ঘুম আসে না, বা ৩টেয় ঘুম ভেঙে যায় সারাদিন খাটার পরও বিছানায় এপাশ-ওপাশ। বা ঘুমিয়ে পড়ো, কিন্তু রাত ৩টেয় ধড়ফড় করে ঘুম ভেঙে যায়। বুক ধড়ফড় করে। এটা "স্ট্রেস ইনসোমনিয়া"। কর্টিসল হরমোন বেড়ে গেছে। টানা ২ সপ্তাহ এমন হলে এটাকে নরমাল ভেবো না। ঘুম কম মানে রিকভারি কম। রিকভারি কম মানে হার্টের উপর চাপ।

লক্ষণ ২: খাবারে অরুচি, নয়তো পাগলের মতো খাওয়া দুপুরে ভাত দেখলেই গা গুলোয়। অথবা উল্টো, টেনশনে ফ্রিজ খুলে চকলেট-বিস্কুট শেষ। দুটোই বিপদ। খাবার বন্ধ মানে শরীর পুষ্টি পাচ্ছে না। বেশি খাওয়া মানে শরীর স্ট্রেসকে "খাবার" দিয়ে চাপা দিচ্ছে। ২ মাসে ৫ কেজি ওজন কমা বাড়া - ডাক্তারকে বলো। এটা থাইরয়েড বা ডায়াবেটিসেরও সিগন্যাল হতে পারে।

লক্ষণ ৩: অল্পতেই রেগে যাওয়া, চিৎকার করা বউ ভাত দিতে ২ মিনিট লেট করলো, তুমি চিৎকার করলে। বাচ্চা টিভি জোরে চালালো, রিমোট ছুঁড়ে দিলে। আগে তো এমন ছিলে না। মুড সুইং, ইরিটেশন - এটা ডিপ্রেশনের পুরুষ ভার্সন। পুরুষরা কাঁদে না, ওরা রাগে। স্ট্রেস হরমোন মাথার সেরোটোনিন কমিয়ে দেয়। তাই মেজাজ খিটখিটে। বাড়ির লোক ভাবে "লোকটা বদলে গেছে"। আসলে শরীর সাহায্য চাইছে।

লক্ষণ ৪: বুকের বাঁ দিকে চিনচিন, বাঁ হাত ঝিনঝিন গ্যাসের ব্যথা ভেবে Gelusil খাও। কিন্তু বুকের মাঝে বা বাঁ দিকে চাপ, ব্যথা বাঁ হাত-চোয়াল-পিঠে ছড়ানো - এটা হার্টের ক্লাসিক সিগন্যাল। পুরুষদের হার্ট অ্যাটাক সিনেমার মতো বুকে হাত দিয়ে পড়ে যায় না। ৭০% কেসে শুরু হয় "গ্যাস, অ্যাসিডিটি, মাসল পুল" দিয়ে। ৫ মিনিটের বেশি ব্যথা থাকলে, ঘাম হচ্ছে, বমি বমি ভাব - ১ সেকেন্ড দেরি না করে 108 ডায়াল করো।

লক্ষণ ৫: সেক্সের ইচ্ছা নেই + সারাদিন ক্লান্তি বউ কাছে এলেও ইচ্ছা করে না। "টায়ার্ড লাগছে" বলে পাশ ফিরে শুয়ে পড়ো। সকালে ঘুম থেকে উঠেও মনে হয় শরীরে এনার্জি নেই। টেস্টোস্টেরন কমে গেছে। স্ট্রেস, ঘুম কম, ওবেসিটি - তিনটে মিলে পুরুষ হরমোন শেষ করে দেয়। এটা লজ্জার না, এটা হরমোনাল ইমব্যালান্স। ডাক্তারকে বলতে লজ্জা করো না।

এবার বাঁচার উপায় কী? ৩টে কাজ আজ থেকেই: ১. ফোন ছাড়ো রাত ১০ টায়। ৭ ঘণ্টা ঘুম মাস্ট। ঘুম হলো পুরুষের ফ্রি মেডিসিন। ২. সপ্তাহে ৩ দিন ৩০ মিনিট হাঁটো। জিম যেতে হবে না। বাড়ির ছাদে বা পার্কে। ঘাম ঝরাও, স্ট্রেস বের হবে। ৩. বছরে ১ বার ফুল বডি চেকআপ। BP, সুগার, কোলেস্টেরল, ECG। খরচ ১৫০ টাকা। হার্ট অ্যাটাকের বিল ৫ লাখ।

শেষ কথা: পুরুষ মানেই মেশিন না। তোমারও রেস্ট লাগে, যত্ন লাগে। "পরিবারের জন্য নিজেকে শেষ করে দেব" - এটা বীরত্ব না, বোকামি। তুমি ভেঙে পড়লে পরিবারটা কে সামলাবে?

তাই আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে জিজ্ঞেস করো "আমি ঠিক আছি তো?" মন যদি "না" বলে, তাহলে ডাক্তার দেখাও। বন্ধুর সাথে আড্ডা মারো। বউকে বলো "আজ একটু চাপ লাগছে"। কাঁদতে লজ্জা নেই। পুরুষ কাঁদলে দুর্বল হয় না, মানুষ হয়।