Health News: ঘণ্টার পর ঘণ্টা রিলস আর গেমস। ফলে কিশোরদের মস্তিষ্কে ঘটছে বড়সড় বদল। বিজ্ঞানীরা একে বলছেন ‘স্মার্টফোন ব্রেন’। জানুন অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারে মগজের কী ক্ষতি হচ্ছে এবং কীভাবে বাঁচাবেন।

Health News: নতুন প্রজন্মের নতুন অসুখ। সকালে ঘুম থেকে উঠেই ফোন, রাতে ঘুমানোর আগেও ফোন। স্কুল, খেলা, আড্ডা সব বাদ দিয়ে এখন কিশোর-কিশোরীদের সঙ্গী একটাই - স্মার্টফোন। চিকিৎসক ও নিউরোসায়েন্টিস্টরা এই অভ্যাসের নাম দিয়েছেন ‘স্মার্টফোন ব্রেন’। গবেষণা বলছে, ১০-১৯ বছর বয়সীদের মস্তিষ্কে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে এই ডিজিটাল আসক্তির কারণে।

মগজের ভেতরে কী বদল হচ্ছে:

দিনে ৪ ঘণ্টার বেশি স্ক্রিন টাইম থাকলে ব্রেনের প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স দুর্বল হয়ে পড়ে। এই অংশটাই আমাদের মনোযোগ, সিদ্ধান্ত নেওয়া আর ইমোশন কন্ট্রোল করে। ফলে পড়ায় মন বসছে না, অল্পতেই রেগে যাচ্ছে, ধৈর্য কমে যাচ্ছে। আবার ডোপামিনের জন্য ব্রেন ক্রমাগত শর্ট ভিডিও, লাইক, নোটিফিকেশন চাইছে। এতে স্মৃতিশক্তি কমে যাচ্ছে, জিনিস মনে রাখতে অসুবিধা হচ্ছে। একে অনেকেই ‘ডিজিটাল ডিমেনশিয়া’ বলছেন।

ঘুম, পড়াশোনা আর মানসিক স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব:

রাত ১২টা পর্যন্ত রিলস স্ক্রল করার ফলে ঘুমের হরমোন মেলাটোনিন ঠিকমতো তৈরি হচ্ছে না। তাই সকালে ঘুম ভাঙছে না, স্কুলে ঝিমুনি। পড়াশোনায় মনোযোগ ৪০% পর্যন্ত কমে গেছে বলে সমীক্ষায় উঠে এসেছে। শুধু তাই নয়, তুলনা করার মানসিকতা, সোশ্যাল মিডিয়ার চাপ আর সাইবার বুলিং-এর কারণে অ্যাংজাইটি, ডিপ্রেশনও বাড়ছে কিশোরদের মধ্যে।

বাবা-মা কীভাবে বুঝবেন

আপনার সন্তান যদি বারবার ফোন চেক করে, ফোন না পেলে অস্থির হয়ে যায়, রাত জেগে স্ক্রল করে, বাস্তবের বন্ধুদের এড়িয়ে চলে, বা ৫ মিনিটও একটানা পড়ায় মন দিতে না পারে - তাহলে সাবধান হওয়ার সময় এসেছে। এগুলো ‘স্মার্টফোন ব্রেন’-এর প্রাথমিক লক্ষণ।

সমাধান কী, একদম বন্ধ করে দেওয়া?

একদম বন্ধ করা সম্ভবও নয়, উচিতও নয়। দরকার ডিজিটাল ডায়েট।

১. স্ক্রিন টাইম ফিক্স করুন: দিনে সর্বোচ্চ ২ ঘণ্টা। পড়া ও ঘুমের সময় ফোন অন্য ঘরে রাখুন।

২. নো ফোন জোন: খাওয়ার টেবিল, পড়ার ঘর আর বেডরুমে ফোন নিষেধ।

৩. বিকল্প দিন: খেলাধুলা, আঁকা, বই পড়া বা পরিবারের সাথে সময় কাটানোর অভ্যাস ফেরান।

৪. রাত ৯টার পর ডিজিটাল কারফিউ: ব্লু লাইট ঘুম নষ্ট করে। তাই রাতে ফোন দূরে রাখতেই হবে।

স্মার্টফোন খারাপ নয়, অতিরিক্ত ব্যবহারটাই সমস্যা। কিশোর বয়সে ব্রেন সবচেয়ে দ্রুত বাড়ে। এই সময়টাতেই যদি তাকে শুধু স্ক্রল আর সোয়াইপে অভ্যস্ত করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে মনোযোগ আর সৃজনশীলতা দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই আজ থেকেই ব্যালেন্স ফেরান।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।