Fashion Tips: ৫০ পেরিয়েও বয়সকে হার মানাচ্ছেন সীমা সজদেহ। তার টানটান ত্বকের পেছনের রহস্য ‘মাইক্রোনিডলিং’। মুখে সুচ ফুটিয়ে কীভাবে ফেরে যৌবন? জানুন এই ট্রিটমেন্টের উপকারিতা, ঝুঁকি, খরচ আর ব্যথা কতটা হয়।

Fashion Tips: ৫০-এও কেন এত গ্লোয়িং বলিউডের ফ্যাশনিস্তা সীমা সজদেহকে দেখলে বয়স আন্দাজ করা মুশকিল। ৫০ ছুঁইছুঁই বয়সেও তার স্কিনে নেই কোনো ফাইন লাইন বা বলিরেখা। সম্প্রতি তিনি নিজেই জানিয়েছেন, তার এই ইয়াং লুকের পেছনে রয়েছে ‘মাইক্রোনিডলিং’ ট্রিটমেন্ট। কিম কার্দাশিয়ান থেকে দীপিকা পাড়ুকোন, এখন প্রায় সব সেলিব্রেটিই এই ট্রিটমেন্টের ফ্যান।

মাইক্রোনিডলিং আসলে কী এবং কীভাবে কাজ করে:

একদম সহজ ভাষায় এটাকে ‘কোলাজেন ইন্ডাকশন থেরাপি’ বলা হয়। একটি পেন বা রোলারের মাথায় ১২ থেকে ৩৬টি পর্যন্ত সূক্ষ্ম স্টিলের সুচ থাকে। ডার্মাটোলজিস্ট সেই ডিভাইসটি মুখের উপর আলতো করে ঘোরান। এতে ত্বকের উপরের স্তরে হাজার হাজার মাইক্রো চ্যানেল তৈরি হয়।

আমাদের শরীর স্বাভাবিকভাবেই এই ক্ষত সারাতে চায়। তাই সঙ্গে সঙ্গে কোলাজেন ও ইলাস্টিন প্রোডাকশন বেড়ে যায়। এই দুটো প্রোটিনই ত্বককে টানটান আর ইয়াং রাখে। পাশাপাশি ট্রিটমেন্টের পর যে সিরাম লাগানো হয়, সেটা এই মাইক্রো চ্যানেল দিয়ে ত্বকের অনেক গভীরে পর্যন্ত পৌঁছে যায়। ফলে রেজাল্ট আরও ভালো হয়।

এই ট্রিটমেন্টে কী সমস্যার সমাধান হয়:

মাইক্রোনিডলিং শুধু অ্যান্টি-এজিং-এর জন্য নয়।

১. বলিরেখা ও ফাইন লাইন: কোলাজেন বাড়লে ত্বক টানটান হয়, বয়সের ছাপ কমে।

২ ব্রণের গর্ত ও দাগ: পুরোনো ব্রণের গর্ত ভরাট করতে দারুণ কাজ করে।

৩. বড় রোমছিদ্র: নিয়মিত করলে পোরস ছোট হয়ে যায়।

৪. স্কিন টেক্সচার ও গ্লো: ত্বক মসৃণ হয় এবং ন্যাচারাল গ্লো ফিরে আসে।

৫. স্ট্রেচ মার্কস: মুখ ছাড়াও পেট বা হাতের স্ট্রেচ মার্কসের জন্যও ব্যবহার হয়।

প্রক্রিয়াটা কতটা যন্ত্রণাদায়ক, রিকভারি কেমন:

সবচেয়ে বড় ভয়টা এখানেই। তবে ভয়ের কিছু নেই। ট্রিটমেন্ট শুরুর ৪৫ মিনিট আগে মোটা করে নার্বিং ক্রিম লাগিয়ে দেওয়া হয়। তাই সুচের খোঁচা বেশিরভাগ মানুষের কাছে ‘হালকা চুলকানি বা পিঁপড়ে কামড়ের মতো’ লাগে। পুরো প্রসেস ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা।

ট্রিটমেন্টের পর ২৪-৪৮ ঘণ্টা মুখ লাল থাকবে, হালকা ফোলা আর টানটান ভাব থাকতে পারে। অনেকটা রোদে পোড়ার মতো। ৩-৪ দিনের মধ্যে সব নরমাল হয়ে যায়। এই সময় কড়া রোদ, ঘাম আর মেকআপ একদম চলবে না। সানস্ক্রিন মাস্ট।

কটা সেশন লাগে আর খরচ কত:

একবারে রেজাল্ট পাওয়া যায় না। ভালো রেজাল্টের জন্য ৩ থেকে ৬টি সেশন লাগে। প্রতি সেশনের গ্যাপ ৪ সপ্তাহ। ভারতের মেট্রো শহরে প্রতি সেশনের খরচ ৩ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। ক্লিনিক, ডাক্তার আর ডিভাইসের উপর দাম নির্ভর করে। বাড়িতে ৫০০ টাকার ডার্মা রোলার কিনে নিজে করবেন না। ইনফেকশন আর স্কার হওয়ার রিস্ক ৯০%।

কারা এই ট্রিটমেন্ট করাবেন না:

কিছু ক্ষেত্রে মাইক্রোনিডলিং করা বারণ। যেমন - অ্যাকটিভ ব্রণ, একজিমা, সোরিয়াসিস, স্কিন ইনফেকশন থাকলে। গর্ভবতী ও ব্রেস্টফিডিং মায়েদের জন্যও নয়। যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ খান বা কেলয়েড হওয়ার টেন্ডেন্সি আছে তাদের ডাক্তারের সাথে ভালো করে পরামর্শ করে তবেই করাতে হবে।

শেষ কথা

মাইক্রোনিডলিং কোনো জাদু নয়, তবে সঠিক হাতে পড়লে রেজাল্ট চোখে পড়ার মতো। সীমা সজদেহের মতো গ্লো চাইলে শুধু ট্রিটমেন্ট নয়, সাথে ভালো ঘুম, জল, হেলদি খাবার আর রোজ সানস্ক্রিনও লাগবে। বাজেট আর পেইন টলারেন্স থাকলে একবার ডার্মাটোলজিস্টের সঙ্গে কথা বলেই দেখুন।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।