সকালে এক কাপ চা না হলে দিন শুরু হয় না। কিন্তু জানেন কি, বাজারের ৭০% খোলা চা পাতায় ভেজাল? লোহার গুঁড়ো, বালি, পুরনো পাতা, এমনকি কাপড়ের রং মেশায় ওজন আর রঙ বাড়াতে।

দার্জিলিং, আসাম বলে ২০০ টাকা কেজি চা কিনলেন। বাড়ি এসে দেখলেন না গন্ধ, না রঙ, শুধু তেতো। কারণটা ভেজাল। বেশি লাভের জন্য অসাধু ব্যবসায়ীরা চা পাতায় মেশায়—১. লোহার গুঁড়ো বা বালি, ২. একবার ব্যবহার করা শুকনো পাতা, ৩. কাঠের গুঁড়ো, ৪. কাপড়ের রং বা কেমিক্যাল। এগুলো শরীরে স্লো পয়জনের মতো কাজ করে। ক্যানসার, আলসার, অ্যানিমিয়া পর্যন্ত হতে পারে। তাই প্যাকেটের লেভেল দেখার সাথে এই টেস্টগুলো মাস্ট।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

চুম্বক টেস্ট – লোহার গুঁড়ো ধরা পড়বেই :

ভেজাল চা পাতায় ওজন বাড়াতে লোহার গুঁড়ো মেশায়।

কীভাবে করবেন: একটা সাদা কাগজে ১ চামচ শুকনো চা পাতা ছড়ান। একটা ছোট চুম্বক বা ফ্রিজের ম্যাগনেট পাতার উপর ১ মিনিট ঘোরান।

রেজাল্ট: খাঁটি হলে কিছুই আটকাবে না। ভেজাল হলে চুম্বকের গায়ে কালো কালো গুঁড়ো লেগে যাবে। এটা লোহা। সাথে সাথে ওই চা ফেলে দিন।

ঠান্ডা জল টেস্ট – রং মেশানো আছে কিনা বুঝুন:

আসল চা পাতা ঠান্ডা জলে রং ছাড়ে না। রং ছাড়ে শুধু গরম জলে।

কীভাবে করবেন: এক গ্লাস ঠান্ডা জলে ১ চামচ চা পাতা ফেলুন। নাড়াবেন না। ৫ মিনিট অপেক্ষা করুন।

রেজাল্ট: জল যদি সাথে লাল, বাদামি বা কালচে হয়ে যায়, বুঝবেন কেমিক্যাল রং মেশানো। খাঁটি চা পাতা ৩০ মিনিটেও ঠান্ডা জলে রং ছাড়বে না।

ফিল্টার পেপার টেস্ট – ব্যবহৃত পাতা ধরার কায়দা:

একবার চা করে ফেলে দেওয়া পাতা শুকিয়ে আবার রং করে বিক্রি হয়।

কীভাবে করবেন: ভেজা ফিল্টার পেপার বা সাদা টিস্যুর উপর অল্প চা পাতা ঘষুন।

রেজাল্ট: খাঁটি নতুন পাতা হালকা হলদে দাগ দেবে। আর পুরনো রং করা পাতা সাথে সাথে গাঢ় কালচে-বাদামি দাগ ফেলে দেবে। দাগটা ছড়িয়ে যাবে।

নুন জল টেস্ট – আসল-নকল ১ মিনিটে আলাদা:

এটা FSSAI-এর সবচেয়ে সহজ টেস্ট।

কীভাবে করবেন: ১ গ্লাস জলে ১ চামচ নুন গুলে নিন। এবার ১ চামচ চা পাতা ফেলুন।

রেজাল্ট: খাঁটি চা পাতা আস্তে আস্তে জলে ডুবে যাবে। আর ভেজাল পাতা, কাঠের গুঁড়ো, বালি মেশানো পাতা জলের উপর ভেসে থাকবে। কারণ ভেজাল হালকা।

গন্ধ ও দেখে চেনা – চোখ-নাকই ল্যাব:

গন্ধ: খাঁটি চা পাতার বাক্স খুললেই তীব্র, মিষ্টি, মাটির সোঁদা গন্ধ আসবে। ভেজালে কোনও গন্ধ থাকবে না বা পোড়া, কেমিক্যালের মতো গন্ধ আসবে।

দেখতে: খাঁটি পাতা একই সাইজ, একই রঙের হবে—কালচে-বাদামি বা কালো। ভেজালে ছোট-বড়, ডাল, ধুলো, অন্য রঙের গুঁড়ো মেশানো থাকবে। হাতে নিলে রং উঠে হাত নোংরা হবে।

[কিনবেন কীভাবে: ৩টে গোল্ডেন রুল]

১. Agmark / FSSAI লোগো: প্যাকেটের গায়ে সবুজ চৌকো দাগ আর লাইসেন্স নম্বর দেখুন। খোলা চা না কেনাই ভালো।

২. প্যাকেজ ডেট: ৬ মাসের পুরনো চা নেবেন না। যত টাটকা, তত ফ্লেভার।

৩. দাম: ১০০ টাকা কেজি দার্জিলিং বললে সাবধান। ভালো CTC ২৫০-৪০০ টাকা, দার্জিলিং ৬০০-২০০০ টাকা কেজি হয়।

চা শুধু পানীয় না, ইমোশন। ভেজাল চা খেয়ে সেই ইমোশন আর শরীর—দুটোই নষ্ট করবেন না। আজই কিচেনে গিয়ে চুম্বক আর নুন জলের টেস্টটা করে ফেলুন। যদি ভেজাল ধরা পড়ে, দোকানদারকে বলুন, প্রয়োজনে FSSAI-এ কমপ্লেন করুন।

এই ঘরোয়া টেস্টগুলি প্রাথমিক ধারণা দেয়। ১০০% নিশ্চিত হতে FSSAI অনুমোদিত ল্যাব টেস্ট করান। ভেজাল খাবার খেয়ে শারীরিক সমস্যা হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।