জল কম খেলে হতে পারে ডায়াবিটিস! কীভাবে মধুমেহ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখবেন? রইল উপায়
চিনি বর্জন এবং হাঁটাহাঁটি করেও সুগার না কমার প্রধান কারণ হতে পারে পর্যাপ্ত জল না খাওয়া, যা রক্তে গ্লুকোজের ঘনত্ব বাড়িয়ে দেয়। এছাড়াও মানসিক চাপ, অপর্যাপ্ত ঘুম, বা খাবারের তালিকায় লুকোনো কার্বোহাইড্রেট (যেমন ময়দা, আলু, ভাত) সুগার বাড়াতে পারে। দিনে অন্তত ৩-৪ লিটার জল পান করা এবং খাবারের পর হাঁটাহাঁটি করা অত্যন্ত জরুরি।
জল কম খেলে কি হতে পারে:
* রক্তের ঘনত্ব: শরীরে জলের ঘাটতি হলে (Dehydration) রক্তে গ্লুকোজের ঘনত্ব বেড়ে যায়, ফলে সুগার বেশি দেখায়।
* কিডনির কার্যকারিতা: শরীর থেকে অতিরিক্ত শর্করা মূত্রের মাধ্যমে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত জল প্রয়োজন। জল কম খেলে শরীর তা পারে না।
* টক্সিন:শরীরে জমে থাকা টক্সিন বের করে দিতে এবং মেটাবলিজম ঠিক রাখতে পর্যাপ্ত জল, বিশেষ করে ঈষদুষ্ণ জল খাওয়া দরকার ।
সুগার না কমার অন্যান্য কারণ:
* মানসিক চাপ ও ঘুম: অতিরিক্ত মানসিক চাপ (Stress) এবং ঘুমের অভাব (Stress hormone cortisol) রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।
* লুকানো চিনি ও কার্বোহাইড্রেট: চিনি না খেলেও প্যাকেটজাত খাবার, ময়দা, সাদা চালের ভাত, ফলের রস বা অতিরিক্ত স্টার্চযুক্ত খাবার সুগার বাড়াতে পারে ।
* হাঁটাহাঁটির সময়: খাবারের পরপরই না হেঁটে, সাধারণত খাওয়ার ৬০-৯০ মিনিট পর হাঁটা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে বেশি কার্যকর।
* ওষুধের অসামঞ্জস্য: অনেক সময় শুধুমাত্র ডায়েট ও ব্যায়ামে সুগার কমে না, ওষুধের মাত্রা বা ধরনে পরিবর্তন প্রয়োজন হতে পারে
করণীয়: ১. জল বৃদ্ধি: সারাদিনে পর্যাপ্ত জল পান করুন, তৃষ্ণার জন্য অপেক্ষা না করে কিছুক্ষণ পরপর জল খান।
২. ফাইবার: খাবারে ফাইবার (শাকসবজি) বাড়ান, যা সুগার শোষণ ধীর করে।
৩. মানসিক চাপ কমান: যোগব্যায়াম বা মেডিটেশন করতে পারেন।
৪. চিকিৎসকের পরামর্শ: নিয়মিত সুগার মেপে ডায়েরিতে লিখে রাখুন এবং চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে ওষুধের ডোজ সামঞ্জস্য করুন।
বিশেষ টিপস্: এই তথ্য সচেতনতার জন্য, কোনো নতুন ডায়েট বা জীবনযাত্রার পরিবর্তনের আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

