রক্তাল্পতা, থাইরয়েড কিংবা স্থূলত্বের কারণেও অনেক সময় অস্বাভাবিক ঘুম বা অনিদ্রা দেখা দেয়। মোবাইল বা ট্যাবের নীল আলো শরীরের ‘মেলাটোনিন’ হরমোন নিঃসরণে বাধা দেয়, যা ঘুমের বারোটা বাজিয়ে দেয়।

সুস্থ জীবনের জন্য বয়সভেদে ঘুমের প্রয়োজন ভিন্ন হয়। নবজাতকদের (০-৩ মাস) ১৪-১৭ ঘণ্টা, শিশুদের ১০-১৪ ঘণ্টা, কিশোরদের ৮-১০ ঘণ্টা এবং প্রাপ্তবয়স্কদের (১৮-৬৪ বছর) ৭-৯ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুম জরুরি। বয়স্কদের (৬৫+) ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন। অপর্যাপ্ত ঘুম শারীরিক ও মানসিক বিকাশে বাধা দেয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমায়।

যদি দেখেন শিশু পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও সারাক্ষণ ঝিমিয়ে থাকছে বা অতিরিক্ত আলস্য দেখাচ্ছে, তবে বিষয়টিকে এড়িয়ে যাবেন না। চিকিৎসকদের মতে, রক্তাল্পতা, থাইরয়েড কিংবা স্থূলত্বের কারণেও অনেক সময় অস্বাভাবিক ঘুম বা অনিদ্রা দেখা দেয়। মোবাইল বা ট্যাবের নীল আলো শরীরের ‘মেলাটোনিন’ হরমোন নিঃসরণে বাধা দেয়, যা ঘুমের বারোটা বাজিয়ে দেয়।

অনেক শিশু আবার রাতে দু’চোখের পাতা এক করতে চায় না। আসলে শৈশবের বিকাশের সঙ্গে ঘুমের এক গভীর সম্পর্ক রয়েছে। সম্প্রতি ‘ন্যাশনাল স্লিপ ফাউন্ডেশন’-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিশুদের ঘুমের একটি নির্দিষ্ট মাপকাঠি বা গাণিতিক সমীকরণ রয়েছে। এই হিসেবে সামান্য এদিক-ওদিক হলেই কিন্তু বড়সড় মুশকিল।

বয়স অনুযায়ী ঘুমের বিস্তারিত তালিকা (২৪ ঘণ্টায়):

* নবজাতক (০-৩ মাস): ১৪ থেকে ১৭ ঘণ্টা।

* শিশু (৪-১১ মাস): ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা।

* টডলার/ছোট শিশু (১-২ বছর): ১১ থেকে ১৪ ঘণ্টা।

* প্রিস্কুল (৩-৫ বছর): ১০ থেকে ১৩ ঘণ্টা ।

* স্কুলগামী শিশু (৬-১৩ বছর): ৯ থেকে ১১ ঘণ্টা।

* কিশোর-কিশোরী (১৪-১৭ বছর): ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ।

* তরুণ ও প্রাপ্তবয়স্ক (১৮-৬৪ বছর): ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা।

* বয়স্ক (৬৫+ বছর): ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা।

কেন পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি?

* শারীরিক বৃদ্ধি: শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ ও শারীরিক বৃদ্ধির জন্য ঘুম অপরিহার্য।

* স্মৃতিশক্তি: ভালো ঘুম স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ও মনোযোগ বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।

* মানসিক স্বাস্থ্য: অপর্যাপ্ত ঘুম মেজাজ খিটখিটে করা, মানসিক চাপ ও উদ্বেগ বাড়াতে পারে।

* রোগ প্রতিরোধ: নিয়মিত সঠিক ঘুম হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং ওজনের সমস্যা থেকে রক্ষা করে।

ভালো ঘুমের জন্য টিপস:

* প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর ও ওঠার অভ্যাস করুন। * শোবার ঘর শান্ত, অন্ধকার ও আরামদায়ক রাখুন। * ঘুমানোর ১ ঘণ্টা আগে মোবাইল বা ল্যাপটপ ব্যবহার বন্ধ করুন। * বিকেল বা সন্ধ্যার পর ক্যাফেইন (চা/কফি) জাতীয় পানীয় এড়িয়ে চলুন।

বয়স অনুযায়ী সঠিক পরিমাণে ঘুম শরীর ও মনকে সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখে।