মেস হোক বা বাড়ির রান্নাঘর, এখন কম গ্যাস খরচে কীভাবে স্বাস্থ্যকর খাবার তৈরি করা যায়, তা নিয়ে নতুন করে ভাবনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ছাত্রছাত্রী, কর্মজীবী মানুষের জন্য এমন মেনু দরকার যা কম সময়ে রান্না করা যায়, আবার পুষ্টির ঘাটতিও না হয়।
গ্যাসের সংকটকালে সময় ও জ্বালানি বাঁচাতে প্রেসার কুকারের ব্যবহার, সবজি ছোট করে কাটা, এবং রান্নার আগে চাল/ডাল ভিজিয়ে রাখা সবচেয়ে কার্যকর। দিনের বেশিরভাগ খাবার একসাথে রান্না করুন এবং প্রয়োজনে Induction বা মাটির উনুন ব্যবহার করুন।
নিচে গ্যাস বাঁচিয়ে তিনবেলার সুষম ও স্বাস্থ্যকর মেনু দেওয়া হলো:
গ্যাসের সাশ্রয়ে স্বাস্থ্যকর মেনু (সারাদিনের জন্য) :
১. সকালের জলখাবার (৮:৩০ - ৯:০০ AM):
* মেনু: চিঁড়ের পোলাও (সবজি দিয়ে) অথবা আটার রুটি ও ডিমের ঝুরি (Egg Bhurji)।
* টিপস: সবজি ছোট করে কাটলে দ্রুত সেদ্ধ হয়, গ্যাস কম খরচ হয়। রুটি তৈরি করে হটপটে রাখুন, বারবার গরম করতে হবে না।
২. দুপুরের খাবার (১:৩০ - ২:০০ PM):
* মেনু: ভাতের সাথে মুসুর ডাল, সবজি-আলু চচ্চড়ি এবং মাছ/মুরগির পাতলা ঝোল (প্রেসার কুকারে রান্না করা)।
* টিপস: ডাল ও চাল একসাথে বা পরপর প্রেশার কুকারে দিন। ম্যারিনেট করা মাছ/মাংস দ্রুত সেদ্ধ হয়।
৩. বিকালের জলখাবার (৫:০০ - ৫:৩০ PM):
* মেনু: অঙ্কুরিত মুগ ডাল ও সবজির সালাদ (Sprouts Salad) অথবা মুড়ি-বাদাম মাখানো।
* টিপস: এটি সম্পূর্ণ নো-কুক (No-cook) বা রান্না না করে তৈরি করা যায়, তাই গ্যাসের প্রয়োজন নেই।
৪. রাতের খাবার (৮:৩০ - ৯:০০ PM):
* মেনু: রুটি বা পোলাও (দুপুরের বেঁচে যাওয়া ভাত দিয়ে ভাজা) এবং অবশিষ্ট ডাল/তরকারি।
* টিপস: রাতে নতুন করে রান্না না করে দুপুরে বেশি করে রান্না করে রাখুন।
গ্যাস বাঁচানোর বিশেষ টিপস:
* প্রেসার কুকার: ডাল, চাল, সবজি বা মাংস সেদ্ধ করতে প্রেসার কুকার ব্যবহার করুন, এতে ৩০-৫০% গ্যাস বাঁচে।
* ঢাকনা ব্যবহার: যেকোনো কিছু রান্না করার সময় পাত্রের মুখ ঢাকনা দিয়ে ঢেকে রাখুন, খাবার দ্রুত সেদ্ধ হবে।
* ভেজানো: চাল, ডাল বা ছোলা রান্নার ৩০ মিনিট আগে ভিজিয়ে রাখুন।
* ছোট করে কাটা: সবজি যত ছোট করে কাটবেন, তত দ্রুত সেদ্ধ হবে।
* একবার রান্না: দিনের দুপুরের ও রাতের খাবার একসাথে রান্না করে ফেললে সবচেয়ে বেশি গ্যাস বাঁচে।
এই পদ্ধতিগুলো মেনে চললে রান্নার সময় অনেক কমে আসবে এবং স্বাস্থ্যকর খাবারও তৈরি হবে।
