যদি আপনি ধূমপায়ী হন, তাহলে এই অভ্যেস ছাড়ার কথা এখনই ভাবা জরুরি। এটি শুধু আপনার শরীর নয়, আপনার সন্তানের ভবিষ্যতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত। ছোট একটি পরিবর্তন, আপনার পরিবারের আগামীকে অনেকটাই নিরাপদ করে তুলতে পারে।

সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী, বাবার অতিরিক্ত ধূমপান বা নিকোটিন গ্রহণ সন্তানের টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও বিপাকীয় রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। গর্ভাবস্থার আগে বা বয়ঃসন্ধিকালে বাবার ধূমপানের ফলে সৃষ্ট এপিজেনেটিক পরিবর্তন শিশুর শরীরে ইনসুলিন ও গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে দেয়, যা ভবিষ্যতে স্থূলতা ও ডায়াবেটিসের কারণ হতে পারে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

জার্নাল অফ দ্য়া এন্ডোক্রানই সোসাইটিতে প্রকাশিত এক গবেষণা রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, বাবার শরীরে নিকোটিনের প্রভাব সন্তানের মেটাবলিজম বা বিপাকক্রিয়া এবং রক্তে শর্করার মাত্রাকে প্রভাবিত করতে পারে।

গবেষণার বিস্তারিত দিকসমূহ:

* কী বলছেন গবেষকরা: নতুন গবেষণা অনুযায়ী, বাবার নিকোটিন গ্রহণ সন্তানের লিভারের কার্যকারিতা ও সুগার হ্যান্ডলিং প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনতে পারে।

* কার্যপদ্ধতি: পুরুষের ধূমপান শুক্রাণুর ওপর প্রভাব ফেলে, যা এপিজেনেটিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সন্তানের জিনগত অভিব্যক্তিতে পরিবর্তন আনে। এটি মূলত স্থূলতা, কম ফুসফুসের ক্ষমতা এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।

* পরোক্ষ প্রভাব: সন্তানের সামনে ধুমপান করলে সেই ধোঁয়া শিশুর শরীরে ঢুকে পরিপাকতন্ত্র এবং মেটাবলিক স্বাস্থ্যের ওপর বড় প্রভাব ফেলে।

* ঝুঁকি: গবেষণায় দেখা গেছে, এটি শুধুমাত্র ফুসফুসের রোগ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী মেটাবলিক সমস্যা, যেমন ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের ঝুঁকি বাড়ায়, যা টাইপ ২ ডায়াবেটিসের মূল কারণ।

ভারতীয়দের জন্য সতর্কবার্তা:

ভারতে ডায়াবেটিস ইতিমধ্যেই এক বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা। এর সঙ্গে যদি যুক্ত হয় বাবার ধূমপানের প্রভাব, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আরও বেশি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। সন্তানের সুস্থ ভবিষ্যৎ শুধু মায়ের নয়, বাবারও সমান দায়িত্ব।

বিশেষ সতর্কতা: গবেষকরা পরামর্শ দিয়েছেন যে, শুধুমাত্র গর্ভবতী মায়েরা নয়, বরং বাবাদেরও সন্তানের স্বাস্থ্যের কথা ভেবে ধূমপান পরিহার করা উচিত, কারণ এর প্রভাব প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলতে পারে।