সন্তানের উচ্চতা বাড়ানোর জন্য ভারী ব্যায়ামের বদলে কয়েকটি সহজ যোগাসন ও স্ট্রেচিং অনেক বেশি কার্যকর। ঘরেই নিয়মিত তালাসন, ভুজঙ্গাসনের মতো আসন করলে মেরুদণ্ড সোজা হয়, গ্রোথ হরমোন বাড়ে এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও ঘুমের সাথে এটি উচ্চতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

সন্তানের উচ্চতা নিয়ে উদ্বেগ বাবা-মায়ের কাছে নতুন নয়। অনেকেই মনে করেন শুধু স্কিপিং বা ভারী এক্সারসাইজেই লম্বা হওয়া যায়। কিন্তু আসল কথা হলো, নিয়মিত হালকা স্ট্রেচিং আর সঠিক যোগাসন মেরুদণ্ডকে সোজা রাখে, পেশির নমনীয়তা বাড়ায় এবং গ্রোথ হরমোনের ক্ষরণে সাহায্য করে। জিমে যাওয়ার দরকার নেই। ঘরেই দিনে ১০-১৫ মিনিট করলেই ফল পাওয়া যায়।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

প্রথমে তালাসন। সোজা দাঁড়িয়ে দুই হাত মাথার উপরে তুলে পায়ের পাতার ওপর ভর দিয়ে যতটা সম্ভব উপরে টানটান হয়ে দাঁড়াতে হবে। এতে মেরুদণ্ড লম্বা হয় আর পুরো শরীরে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে। দ্বিতীয় হলো ক্যাট-কাউ স্ট্রেচ। চার হাত-পায়ে ভর দিয়ে মেরুদণ্ডকে ধীরে ধীরে উপরে বাঁকিয়ে আবার নিচে নামাতে হয়। এতে কোমর ও পিঠের জড়তা কাটে।

তৃতীয় ভুজঙ্গাসন বা কোবরা পোজ। পেটের ওপর শুয়ে দুই হাতের ভরে বুকটা উপরে তুলতে হবে। ঘাড় আর পিঠ সোজা থাকলে ভঙ্গি সুন্দর হয়। চতুর্থ ত্রিকোণাসন। দুই পা ফাঁক করে এক হাত মাটি ছুঁয়ে আরেক হাত আকাশের দিকে তুলতে হয়। এতে শরীরের দুই পাশের পেশি সমানভাবে প্রসারিত হয়।

এই চারটি আসন ২০-৩০ সেকেন্ড করে ধরে রাখতে হবে। বাচ্চাকে কখনোই জোর করে টানাটানি করানো যাবে না। শ্বাস স্বাভাবিক রাখতে হবে আর খালি পেটে করানোই ভালো। সকালের সময়টা সবচেয়ে উপযুক্ত।

শুধু ব্যায়াম করলেই হবে না। পর্যাপ্ত ঘুম, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম আর ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবারও দিতে হবে। দুধ, ডিম, বাদাম, শাকসবজি রোজের পাতে রাখুন। পাশাপাশি মোবাইল বা টিভির সামনে কুঁজো হয়ে বসার অভ্যাস বদলাতে হবে।

নিয়মিত অভ্যাস করলে ৩-৪ মাসের মধ্যে বাচ্চার ভঙ্গি আর উচ্চতা দুটোতেই পরিবর্তন দেখা যাবে। মনে রাখতে হবে, জিনগত কারণও একটা ভূমিকা রাখে, তবে সঠিক অভ্যাস উচ্চতার সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে সাহায্য করে।