অনেকেই দাবি করছেন, খুশকির শ্যাম্পু দিয়ে মুখ ধুলে নাকি প্রাপ্তবয়স্কদের ব্রণ দ্রুত কমে যায়। এই দাবির পিছনে মূল যুক্তি হল। 

Skin Care Tips: ব্রণ দূর করতে খুশকির শ্যাম্পু দিয়ে মুখ ধোয়া সব ক্ষেত্রে নিরাপদ বা কার্যকর নয়। এটি কেবল ছত্রাকজনিত ব্রণের (Fungal Acne) জন্য কাজ করতে পারে। এটি নিয়মিত ব্যাকটেরিয়াজনিত ব্রণের জন্য অকার্যকর এবং মুখের কোমল ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক ও জ্বালাপোড়া করতে পারে।

জেনে নিন বিস্তারিত:

কেন মানুষ এটি ব্যবহার করে?

* ছত্রাকবিরোধী উপাদান: খুশকির শ্যাম্পুতে জিংক পাইরিথিয়ন, কিটোকোনাজল বা সেলেনিয়াম সালফাইড থাকে, যা ছত্রাকজনিত ব্রণ দূর করতে সাহায্য করে।

* কার্যকারিতা: যদি আপনার ব্রণ মাথার খুশকি থেকে কপালে বা মুখে ছড়িয়ে পড়ে (ছোট ছোট লাল ফুসকুড়ি), তবেই এই শ্যাম্পু সাময়িক ফল দিতে পারে।

কেন এটি নিরাপদ নয় (বিস্তারিত আলোচনা):

* মুখের ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল: মাথার ত্বক থেকে মুখের ত্বক সম্পূর্ণ ভিন্ন। শ্যাম্পু মুখের ত্বককে অতিরিক্ত শুষ্ক করে দেয় এবং ত্বকের স্বাভাবিক তেল নষ্ট করে দেয়।

* জীবাণুর ভিন্নতা: অধিকাংশ ব্রণ ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়, ছত্রাকের কারণে নয়। খুশকির শ্যাম্পু সাধারণ ব্যাকটেরিয়াজনিত ব্রণ দূর করতে পারে না, বরং ত্বকের জ্বালাপোড়া ও লালভাব বাড়িয়ে দিতে পারে।

* সতর্কতা: নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকে অ্যালার্জি, চুলকানি, এবং ত্বকের ভারসাম্য নষ্ট (Skin barrier damage) হতে পারে।

* বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: শুষ্ক বা সংবেদনশীল ত্বকে এটি ব্যবহার না করাই ভালো।

সঠিক উপায় কি?

১. এটি ফেসওয়াশ হিসেবে নিয়মিত ব্যবহার করবেন না। সপ্তাহে ২-৩ দিন এবং অল্প সময়ের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।

২. শ্যাম্পু লাগানোর পর ২-৩ মিনিটের বেশি রাখবেন না, এরপর ভালোভাবে ধুয়ে ফেলবেন।

৩. এরপর অবশ্যই একটি ভালো ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।

৪. ভালো ফলাফলের জন্য স্যালিসাইলিক অ্যাসিড, বেঞ্জয়েল পারক্সাইড, বা গ্লাইকোলিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ ফেসওয়াশ বা ক্রিম ব্যবহার করা বেশি নিরাপদ ও কার্যকর।

উপসংহার: আপনার ব্রণ যদি গুরুতর হয়, তবে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।