এক দিকে যেমন লোহার কড়াইয়ে রান্না করা খাবারের স্বাদ ভাল হয়, তেমনই স্বাস্থ্যের জন্যও এই বাসন উপকারী। তবে লোহার বাসনে রান্না করার ক্ষেত্রে বেশ কিছু সতর্কতাও জরুরি। জেনে নিন কী কী।
বাতিলের খাতায় না ফেলে লোহার কড়াই ফিরিয়ে আনুন রান্নায়, কারণ এটি প্রাকৃতিক উপায়ে খাবারে আয়রন (Iron) বা লোহা মিশিয়ে রক্তাল্পতা দূর করতে এবং খাবারের স্বাদ ও পুষ্টিগুণ বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। প্রাচীনকাল থেকে চলে আসা এই রান্নার পদ্ধতি স্বাস্থ্য ও স্বাদ—উভয় ক্ষেত্রেই অঢেল উপকার দেয়।
লোহার কড়াই ব্যবহারের বিস্তারিত উপকারিতা ও তথ্য:
* প্রাকৃতিক আয়রন সরবরাহ: লোহার পাত্রে রান্না করলে সামান্য পরিমাণে আয়রন খাবারে মিশে যায়, যা শরীরের আয়রনের চাহিদা মেটাতে এবং হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে দারুণ কার্যকর। বিশেষ করে শাকসবজি বা টক জাতীয় খাবার রান্না করলে আয়রন শোষণের মাত্রা বাড়ে।
* স্বাদ বৃদ্ধি: লোহার কড়াইয়ে বারবার রান্না করলে এর ওপর একটি প্রাকৃতিক 'সিজনিং' বা আস্তরণ তৈরি হয়, যা রান্নার স্বাদ বহুগুণ বাড়িয়ে তোলে এবং পোড়া পোড়া ভাব বা একটি অনন্য স্বাদ (rustic flavour) নিয়ে আসে।
* স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ: এটি নন-স্টিক কোটিং-এর মতো ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ (PFOA/PTFE) মুক্ত, ফলে এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ।
* পুষ্টিগুণ ধরে রাখা: লোহার কড়াইতে ধীর আঁচে রান্না করলে খাবারের পুষ্টি উপাদান ও খনিজ অটুট থাকে।
* সাশ্রয়ী ও দীর্ঘস্থায়ী: লোহার কড়াই খুব টেকসই হয় এবং একবার কিনলে বছরের পর বছর চলে যায়, যা আধুনিক নন-স্টিক প্যানের তুলনায় সাশ্রয়ী।
সতর্কতা ও রক্ষণাবেক্ষণ:
* রান্না নামিয়ে রাখা: লোহার কড়াইতে বেশিক্ষণ খাবার, বিশেষ করে টক জাতীয় খাবার রাখবেন না, এতে রান্নার রঙ কালচে হয়ে যেতে পারে। রান্না হয়ে গেলে অন্য পাত্রে ঢেলে ফেলুন।
* পরিষ্কার ও সিজনিং: ব্যবহারের পর ধুয়ে ভালো করে শুকিয়ে সামান্য তেল মাখিয়ে রাখলে মরচে পড়ে না।
* ব্যবহার: যারা আয়রনের ঘাটতিতে ভুগছেন (যেমন- অ্যানিমিয়া বা বাচ্চার রক্তাল্পতা), তাদের জন্য এটি অত্যন্ত উপকারী।
আধুনিক নন-স্টিকের যুগে স্বাস্থ্য রক্ষায় ও রান্নার আসল স্বাদ পেতে পুরনো অভ্যাসে ফিরে গিয়ে লোহার কড়াইয়ের ব্যবহার সত্যিই উপকারী।
